আধুনিক রসায়নের বিকাশে কোন বিজ্ঞানীদের অবদান অবিস্মরণীয়?

আধুনিক রসায়নের পথিকৃৎ বেশ কয়েকজন রসায়নবিদ। তাদের মধ্যে বার্জেলিয়াস, হামফ্রে ডেফি, প্রিসলি,ল্যাভয়সিয়ে, ক্যাভেন্ডিস, ফ্রেডরিখ ভোলার,ডাল্টন, গ্যালুসাক, ক্যাকুলে (Kekule) উল্লেখযোগ্য। বার্জেলিয়াস মৌলের জন্য প্রতীক ও যৌগের জন্য সংকেত সূচনা করলেন (অন্যান্য অবদান তো আছেই)। ডেভি ‘তড়িৎ-রসায়ন’ সূচনা করলেন।ল্যাভয়সিয়ে রসায়নের আধুনিক বৈজ্ঞানিক চর্চা শুরু করলেন।প্রিসলি এবং ক্যাভেন্ডিস অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাস আবিষ্কার করলেন ঠিকই, তবে তারা জানলেন না কী আবিষ্কার করলেন। প্রিসলির সমসাময়িক সুইডিশ বিজ্ঞানী শেলীও (Scheele) অক্সিজেন আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি সে ফল প্রকাশ করেননি না সময়মতো! বার্জেলিয়াস দিয়েছিলেন ‘ভাইটাল ফোর্স’ থিউরি।ফ্রেডরিখ ভোলার তার গুরুর ( বার্জেলিয়াসের সাথে তিনি কাজ করে ছিলেন প্রায় দু’বছর) থিউরি ভুল প্রমাণ করলেন। গুরু-শিষ্য যে ল্যবরেটরিতে কাজ করতেন সেটি ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট (Karo linska Institute) নামে পরিচিত। ভোলার এমোনিয়াম সায়ানাইট থেকে ইউরিয়া সিনথেসিস করলেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বার্জেলিয়াসের Vital Force theory অদৃশ্য হয়ে গেলো। ক্যাকুলে বেনজিনের গঠন দাবী করলেন সমতলীয় ষড়ভুজের। সে সময়ে এই দাবী কত যুগান্তকারী ছিল সেটা এখন কল্পনা করা কঠিন। ক্যাকুলের কারণে ইতিহাস থেকে একজন বিজ্ঞানীর নাম ছিটকে গেছে। তার নাম কুপার। সে ছিল বিজ্ঞানী উর্টজের ছাত্র (সে নিয়ে অন্যসময় আলোচনা)। ডাল্টন বলে গেলেন বস্তু অবিভাজ্য পরমাণু দ্বার গঠিত! বস্তুভেদে পরমাণুরা আকারে ভিন্ন হতে পারে এবং একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে। প্রায় দেড়, দুইশ বছর আগে এইসব বিজ্ঞানীরা এইসব অবদান রেখে যান। পাশাপাশি নাম নিতে হয় এভোগাড্রো, ম্যাণ্ডেলিভ তাদের নামও।
তাহলে আধুনিক রসায়নের জনক কে?
—রসায়নের কোন প্রকৃত ইতিহাসবিদ একজন কিংবা দুইজনকে আধুনিক রসায়নের জনক বলে দাবী রেননি। অগ্রগণ্য হতে পারে কিংবা হতে পারে অনেকের মধ্যে একজন। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক রসায়নের জনক একজন নয়। কোন সুনির্দিষ্ট এবং গ্রহনযোগ্য সূত্র নেই যেখানে দৃঢ়ভাবে শুধু একজনকে আধুনিক রসায়নের জনক

ভৌত বিশ্বের যা কিছু পর্যবেক্ষণযোগ্য, পরীক্ষণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য, তার সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা ও সেই গবেষণালব্ধ জ্ঞানভাণ্ডারের নাম বিজ্ঞান। ল্যাটিন শব্দ সায়েনটিয়া (scientia) থেকে ইংরেজি সায়েন্স শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে জ্ঞান।ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার ফলে কোন বিষয়ে প্রাপ্ত ব্যাপক ও বিশেষ জ্ঞানের সাথে জড়িত ব্যক্তি বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানবিদ কিংবা বৈজ্ঞানিক নামে পরিচিত হয়ে

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap