ইসলামিক প্রশ্ন ও উত্তর | Islamic prosno o uttor

ইসলামিক প্রশ্ন ও উত্তর | Islamic prosno o uttor

একনজরে কোরআনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

► ৬১০ খ্রিস্টাব্দ ও রমজান মাসের কদরের রজনীতে হেরা পর্বতের গুহায় সর্বপ্রথম কোরআন অবতীর্ণ হয়।
► অবতীর্ণের মোট সময়কাল ২২ বছর পাঁচ মাস ১৪ দিন।
► প্রথম নাজিলকৃত পূর্ণ সুরা হলো সুরা ফাতিহা।
► সর্বপ্রথম নাজিলকৃত কোরআনের আয়াত হলো সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত।
► কোরআনের প্রথম শব্দ হলো ‘ইকরা’—তুমি পড়ো।
► কোরআনের সর্বশেষ নাজিলকৃত সুরা হলো সুরা আন-নসর এবং সর্বশেষ নাজিলকৃত আয়াত হলো সুরা বাকারার ২৮১ নম্বর আয়াত।
► কোরআন নাজিল শেষ হয় হিজরি ১১ সালের সফর মাসে।
► কোরআনের সর্ববৃহৎ সুরা হলো সুরা বাকারা। এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬।
► কোরআনের সবচেয়ে ছোট সুরা হলো সুরা কাওসার। এর আয়াত সংখ্যা ৩।
► পবিত্র কোরআনের মোট সুরা ১১৪টি। এর মধ্যে মাক্কি সুরা (হিজরতের আগে বর্ণিত) ৯২টি, মাদানি সুরা (হিজরতের পরে বর্ণিত) ২২টি।
► কোরআনে মোট ৫৪০টি রুকু আছে।
► প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী কোরআনের মোট আয়াত ছয় হাজার ৬৬৬টি। কিন্তু গবেষকদের দৃষ্টিতে মোট ছয় হাজার ২৩৬টি।
► কোরআনের আয়াতের ধরন—আদেশসূচক আয়াত এক হাজার, নিষেধসূচক এক হাজার, সুসংবাদসূচক এক হাজার, ভীতি প্রদর্শনসূচক এক হাজার, কাহিনীমূলক এক হাজার, দৃষ্টান্তমূলক এক হাজার, হালালসংক্রান্ত ২৫০, হারামসংক্রান্ত ২৫০, দোয়া, জিকির ও তাসবিহসংক্রান্ত ১০০টি।
► কোরআনের মোট শব্দ ৮৬ হাজার ৪৩০টি।
► কোরআনের মোট অক্ষর তিন লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৩টি, মতান্তরে তিন লাখ ৪৯ হাজার ৩৭০টি, মতান্তরে তিন লাখ ৫১ হাজার ২৫২টি।
► কোরআনের মোট মনজিল সাতটি এবং পারা ৩০টি।
► কোরআনের মোট হরকত—জের ৩৯ হাজার ৫৮২, জবর ৫২ হাজার ২৩৪, পেশ হলো আট হাজার ৮০৪, জজম এক হাজার ৭৭১, নুকতা এক লাখ পাঁচ হাজার ৬৮১, তাশদিদ এক হাজার ৪৫৩, ওয়াকফ্ ১০ হাজার ৫৬৪, মাদ এক হাজার ১৭১ ও আলিফ মামদুদাহ ২৪০টি।
► কোরআনে হরফের সংখ্যা—আলিফ ৪৮ হাজার ৪৭৬ বা ১১ হাজার ৪৪২, তা ১০ হাজার ১৯৯, ছা এক হাজার ২৭৬, জিম তিন হাজার ২৭৩, হা তিন হাজার ৯৭৩, খা দুই হাজার ৪৪৬, দাল পাঁচ হাজার ৬৪২, জাল চার হাজার ৬৭৭, রা ১১ হাজার ৭৯৩, জা এক হাজার ৫৯৩, সিন এক হাজার ৮৯১, শিন দুই হাজার ২৫৩, ছোয়াদ দুই হাজার ১৩, দোয়াদ এক হাজার ৬০৭, তোয়া এক হাজার ২৭৭, জোয়া ৮৪২, আইন ৯ হাজার ২২০, গাইন দুই হাজার ১০৮, ফা আট হাজার ৪৯৯, ক্বাফ ছয় হাজার ৮১৩, কাফ ৯ হাজার ৫০২, লাম ৩৩ হাজার ৪৩২, মিম ২৬ হাজার ৫৬০, নুন ৪৫ হাজার ১৯০, ওয়াও ২৫ হাজার ৫৩৬, হা ১৯ হাজার ৭০, লাম আলিফ চার হাজার ৭২০, ইয়া ৪৫ হাজার ৯১৯টি।
► সর্বপ্রথম কোরআনে নুকতা ও হরকত প্রবর্তন করেন আবুল আসওয়াদ দুয়াইলি, মতান্তরে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
► হানাফি মাজহাব মতে, কোরআনে তিলাওয়াতে সিজদা ১৪টি এবং সাকতার সংখ্যা চারটি।
► কোরআনে নবী ও রাসুলের নাম এসেছে ২৫ জনের। ফেরেশতার নাম এসেছে চারজনের। শয়তান শব্দটি এসেছে ৮৫ বার, ইবলিস এসেছে ১১ বার। জিনজাতির প্রসঙ্গ এসেছে ৩২ বার।
► নবীদের মধ্যে পবিত্র কোরআনে সবচেয়ে বেশি এসেছে মুসা (আ.)-এর নাম। তাঁর নাম এসেছে ১৩৫ বার।
► কোরআনে ছয়জন কাফিরের নাম আছে।
► কোরআনে বিসমিল্লাহ নেই সুরা তওবায়।
► কোরআনে বিসমিল্লাহ দুইবার এসেছে সুরা নামলে।
► কোরআনে বর্ণিত একজন সাহাবি হজরত জায়েদ (রা.)।
► কোরআনে বর্ণিত একজন নারী মারইয়াম বিনতে ইমরান।
► কোরআনের প্রথম ওহি লেখক জায়েদ বিন সাবেত (রা.)।
► কোরআনের মুখপাত্র হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস।
► কোরআনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে।
► কোরআনের প্রথম সংকলক হজরত ওসমান (রা.)।
► কোরআনের প্রথম ও প্রধান তাফসিরবিদ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)।
লেখক : ইতিহাস গবেষক

ইসলামে ১২ টি সর্বপ্রথম


1:সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন কে?
উত্তর: হযরত খাদিজা (রাঃ)।
2:পুরুষদের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কে?
উত্তর: হযরত আবু বকর (রাঃ)।
3:ক্রীতদাসের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কে?
উত্তর: হযরত যায়িদ (রাঃ)।
4: বালকদের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কে?
উত্তর: হযরত আলী (রাঃ)।
5: ইসলামের প্রথম শহীদ কে?
উত্তর: হযরত সুমাইয়া (রাঃ)।
6: পুরুষদের মধ্যে শহীদ প্রথম হন কে?
উত্তর: হযরত ইয়াসির (রাঃ)।
7:ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন কে?
উত্তর: হযরত বেলাল (রাঃ)।
8:হিজরী সনের প্রবর্তন করেন কে?
উত্তর: দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ)।
9:নামাজের কিবলা পরিবর্তন হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
উত্তর: ৬২৩।
10: ইসলাম ধর্মে প্রথম রোযা ফরজ হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
উত্তর: ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে।
11:আমাদের জন্য যাকাত ফরজ হয় কত হিজরীতে?
উত্তর: ৭ম হিজরীতে।
12: আমাদের জন্য হজ্জ্ব ফরজ হয় কত হিজরীতে?
উত্তর: ৯ম হিজরীতে।

ঈমান ও আক্বীদা


০১. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তার নাম কি?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌।
০২. প্রশ্নঃ আল্লাহর কতগুলো নাম রয়েছে?
উত্তরঃ আল্লাহ তা’আলার নাম অসংখ্য-অগণিত।
০৩. প্রশ্নঃ আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন?
উত্তরঃ সপ্তাকাশের উপর আরশে আযীমে। (সূরা ত্বহাঃ ৫)
০৪. প্রশ্নঃ আল্লাহর আরশ কোথায় আছে?
উত্তরঃ সাত আসমানের উপর।
০৫. প্রশ্নঃ আল্লাহ কি সর্বস্থানে বিরাজমান?
উত্তরঃ না। আল্লাহ্‌ সবজায়গায় বিরাজমান নন। তিনি সপ্তকাশের উপর সুমহান আরশে সমুন্নত। (সূরা ত্বাহাঃ ৫)
০৬. প্রশ্নঃ আল্লাহর কাজ কি?
উত্তরঃ সৃষ্টি করা, রিযিক প্রদান, বৃষ্টি বর্ষণ, লালন-পালন করা, সাহায্য করা, জীবন-মৃত্যু প্রদান, পরিচালনা করা, সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব করা, তত্বাবধান করা ইত্যাদি।
০৭. প্রশ্নঃ তাওহীদ কাকে বলে?
উত্তরঃ তাওহীদ অর্থ একত্ববাদ। পরিভাষায়ঃ ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদ।
০৮. প্রশ্নঃ তাওহীদ কত প্রকার?
উত্তরঃ তাওহীদ ৩ প্রকার।
০৯. প্রশ্নঃ তিন প্রকার তাওহীদ কি কি?
উত্তরঃ
(১) তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ বা কর্ম ও পরিচালনার একত্ববাদ
(২) তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌ বা দাসত্বের একত্ববাদ
(৩) তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাত বা নাম ও গুণাবলীর একত্ববাদ।
১০. প্রশ্নঃ তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌ কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ তাঁর কর্ম সমূহে একক- তাঁর কোন শরীক নেই, একথা মেনে নেয়ার নাম তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌
১১. প্রশ্নঃ তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌ কাকে বলে?
উত্তরঃ বান্দার ইবাদত-বন্দেগী ও দাসত্ব এককভাবে আল্লাহর জন্যে নির্দিষ্ট করার নাম তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌।
১২. প্রশ্নঃ তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাত কাকে বলে?
উত্তরঃ কুরআন ও হাদীসে আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী উল্লেখ রয়েছে, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও পরিপূর্ণতার প্রমাণ বহন করে, সেগুলোকে কোন প্রকার ধরণ-গঠন নির্ধারণ না করে বা অস্বীকার না করে সেভাবেই মেনে নেয়ার নাম তাওহীদে আসমা ওয়াস্‌ সিফাত।
১৩. প্রশ্নঃ তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ্‌র উদাহরণ কি?
উত্তরঃ সৃষ্টি করা, রিযিক দেয়া, বৃষ্টি দেয়া, লালন-পালন করা, সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব করা, তত্বাবধান করা ইত্যাদি।
১৪. প্রশ্নঃ তাওহীদে উলূহিয়্যাহ্‌র উদাহরণ কি?
উত্তরঃ ঈমান, ভয়-ভীতি, আশা-আকাঙ্খা, ভালবাসা, দু’আ-প্রার্থনা, সাহায্য কামনা, উদ্ধার কামনা, রুকূ-সিজদা ইত্যাদি।
১৫. প্রশ্নঃ তাওহীদে আসমা ওয়া ছিফাতের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ الرحمن আর্‌ রাহমান, السميع আস্‌ সামী’ (শ্রবণকারী) البصير আল বাছীর (মহাদ্রষ্টা), العلو আল ঊলু (সুউচ্চ) ইত্যাদি।
১৬. প্রশ্নঃ আল্লাহর ৯৯টি নাম মুখস- করার ফযীলত কি?
উত্তরঃ মুখস- করে আমল করলে বিনিময় জান্নাত।
১৭. প্রশ্নঃ ‘মুমিনের কলব আল্লাহর আরশ’ এটা কার কথা?
উত্তরঃ এটা মানুষের বানানো কথা। আল্লাহ বা রাসূলের কথা নয়। (জাল হাদীস)
১৮. প্রশ্নঃ আল্লাহ কি নিরাকার?
উত্তরঃ না। কেননা তাঁর অসি-ত্ব ও সত্তা আছে। যার সত্তা ও অসি-ত্ব থাকে তাকে নিরাকার বলা যায় না।
১৯. প্রশ্নঃ “আল্লাহ সর্বস্থানে বিরাজমান নন, তিনি সপ্তকাশের উপর আরশে থাকেন।” একটি যুক্তি দিয়ে কথাটি বুঝিয়ে দাও।
উত্তরঃ “আল্লাহ্‌ কোথায় আছেন?” এ প্রশ্নটি ছোট্ট একটি শিশুকে জিজ্ঞেস করলে, তার নিষ্পাপ মুখ থেকে জবাব আসবে ‘তিনি উপরে বা আকাশে আছেন’- সে কখনোই বলবে না ‘আল্লাহ্‌ সবজায়গায় আছেন’।
২০. প্রশ্নঃ আল্লাহ যদি নিরাকার না হন, তবে তাঁকে কি দেখা সম্ভব?
উত্তরঃ হ্যাঁ, তাঁকে দেখা সম্ভব। তবে এ দুনিয়ায় চর্ম চোখে সম্ভব নয়। আখেরাতে জান্নাতীগণ আল্লাহকে দেখবেন। (সূরা ক্বিয়ামাহ্‌: ২২-২৩, বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
২১. প্রশ্নঃ ঈমান কাকে বলে?
উত্তরঃ ঈমান মানে বিশ্বাস। পরিভাষায়ঃ অন-রে বিশ্বাস, মুখে স্বীকার ও কর্মে বাস-বায়নকে ঈমান বলে।
২২. প্রশ্নঃ ঈমান কি কমে ও বাড়ে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, ঈমান কমে ও বাড়ে।
২৩. প্রশ্নঃ কিভাবে ঈমান কমে বাড়ে?
উত্তরঃ সৎকাজের মাধ্যমে ঈমান বাড়ে, আর অসৎ কাজ করলে ঈমান কমে।
২৪. প্রশ্নঃ ঈমানের শাখা কতটি?
উত্তরঃ সত্তরের অধিক।
২৫. প্রশ্নঃ ঈমানের সর্বোচ্চ স-র কি?
উত্তরঃ কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ করা।
২৬. প্রশ্নঃ ঈমানের সর্বনিম্ন শাখা কি?
উত্তরঃ রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা।
২৭. প্রশ্নঃ ঈমানের স্তম্ভ কয়টি? কি কি?
উত্তরঃ ঈমানের স্তম্ভ ৬টি। সেগুলো হচ্ছেঃ
(১) আল্লাহ
(২) ফেরেশতাকুল
(৩) আসমানী কিতাব
(৪) নবী-রাসূল
(৫) শেষ দিবস ও
(৬) তক্বদীরের ভাল-মন্দের প্রতি ঈমান
২৮. প্রশ্নঃ ইসলাম কাকে বলে?
উত্তরঃ ইসলাম অর্থ, আত্মসমর্পন। পরিভাষায়ঃ তাওহীদ ও আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করা এবং শির্ক ও মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা।
২৯. প্রশ্নঃ ইসলামের স্তম্ভ কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ ইসলামের স্তম্ভ ৫টি। সেগুলো হচ্ছেঃ
(১) কালেমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করা,
(২) নামায প্রতিষ্ঠা করা,
(৩) যাকাত প্রদান করা
(৪) রামাযান মাসে রোযা রাখা
(৫) সামর্থ থাকলে আল্লাহর ঘরের হজ্জ আদায় করা।
৩০. প্রশ্নঃ আল্লাহর ফেরেশতাগণ কিসের তৈরী?
উত্তরঃ তাঁরা নূরের তৈরী।
৩১. প্রশ্নঃ ফেরেশতাদের সংখ্যা কত?
উত্তরঃ তাঁদের সংখ্যা কত তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
৩২. প্রশ্নঃ প্রধান চার ফেরেশতার নাম কি?
উত্তরঃ জিবরাঈল, ইসরাফীল, মীকাঈল ও মালাকুল মওত (আঃ)।
৩৩. প্রশ্নঃ ওহী নাযিল করার দায়িত্ব কোন ফেরেশতার ছিল?
উত্তরঃ জিবরাঈল (আঃ) এর।
৩৪. প্রশ্নঃ কোন ফেরেশতাকে সকল ফেরেশতার সরদার বলা হয়?
উত্তরঃ জিবরাঈল (আঃ) কে।
৩৫. প্রশ্নঃ ইসরাফীল (আঃ) এর দায়িত্ব কি?
উত্তরঃ আল্লাহর নির্দেশ ক্রমে শিংগায় ফুৎকার দেয়া।
৩৬. প্রশ্নঃ মীকাঈল ফেরেশতার কাজ কি?
উত্তরঃ তিনি বৃষ্টি বর্ষণ, উদ্ভিদ উৎপাদন প্রভৃতি কাজে নিয়োজিত।
৩৭. প্রশ্নঃ প্রাণীকুলের জান কবজের কাজে নিয়োজিত ফেরেশতার নাম কি?
উত্তরঃ মালাকুল মওত। (আজরাঈল নাম বিশুদ্ধ নয়)
৩৮. প্রশ্নঃ কোন ফেরেশতা কি মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণ করতে পারে?
উত্তরঃ না, আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ কারো কোন কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক নয়- ফেরেশতা, জিন, মানুষ- নবী, ওলী কেউ না।
৩৯. প্রশ্নঃ প্রসিদ্ধ আসমানী কিতাব কতখানা?
উত্তরঃ ৪ খানা।
৪০. প্রশ্নঃ কোন্‌ কিতাব কোন্‌ নবীর উপর নাযিল হয়েছে?
উত্তরঃ কুরআন- মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর, তাওরাত- মূসা (আঃ)এর উপর, ইঞ্জিল- ঈসা (আঃ) এর উপর এবং যাবূর- দাউদ (আঃ)এর উপর।
৪১. প্রশ্নঃ সর্বশেষ আসমানী কিতাবের নাম কি?
উত্তরঃ কুরআনুল কারীম।
৪২. প্রশ্নঃ কালেমা “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ এর অর্থ কি?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই।
৪৩. প্রশ্নঃ আল্লাহ্‌ আমাদের কেন সৃষ্টি করেছেন?
উত্তরঃ শুধু তাঁর ইবাদত করার জন্য। (সূরা যারিয়াত- ৫৬)
৪৪. প্রশ্নঃ মানুষ মৃত্যু বরণ করলে, কবরে তাকে তিনটি প্রশ্ন করা হবে। সেগুলো কি কি?
উত্তরঃ প্রশ্ন করা হবে-
তোমার রব কে?
তোমার নবী কে?
তোমার দ্বীন কি?
৪৫. প্রশ্নঃ ইবাদত কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহ পছন্দ করেন এমন প্রত্যেক গোপন ও প্রকাশ্য কথা ও কাজকে ইবাদত বলা হয়।
৪৬. প্রশ্নঃ ইবাদত কবূল হওয়ার শর্ত কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ ইবাদত কবূল হওয়ার শর্ত দু’টিঃ
(১) ইবাদতটি একনিষ্টভাবে আল্লাহর জন্য করা
(২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাত মোতাবেক করা।
৪৭. প্রশ্নঃ সঠিক ইবাদতের মূল ভিত্তি কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ যে কোন ইবাদত সঠিক হওয়ার জন্য তিনটি মূল ভিত্তি রয়েছে।
(১) আল্লাহর প্রতি ভালবাসা,
(২) তাঁকে ভয় করা ও
(৩) তাঁর কাছে আশা-আকাংখা করা
৪৮. প্রশ্নঃ শির্ক কাকে বলে?
উত্তরঃ ইবাদতের কোন একটি বিষয় আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা।
৪৯. প্রশ্নঃ শির্ক কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ শির্ক দু’প্রকারঃ বড় শির্ক ও ছোট শির্ক।
৫০. প্রশ্নঃ বড় শির্ক কাকে বলে?
উত্তরঃ আল্লাহর ইবাদতে অন্য কাউকে অংশী করাকে বড় শির্ক বলে।
৫১. প্রশ্নঃ বড় শির্কের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ এর অনেক উদাহরণ রয়েছেঃ যেমনঃ আল্লাহ ছাড়া কাউকে সিজদা করা, আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকা, সাহায্য প্রার্থনা, স্থান কামনা করা, বিপদাপদে উদ্ধার কামনা করা, গাইরুল্লাহর উদ্দশ্যে কুরবানী করা, কবর-মাজারে নযর-মান্নত করা ইত্যাদি।
৫২. প্রশ্নঃ বড় শির্কের পরিণাম কি?
উত্তরঃ ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে এবং তওবা না করে মৃত্যু বরণ করলে, চিরকাল জাহান্নামের অধিবাসী হবে। (সূরা মায়েদাঃ ৭২)
৫৩. প্রশ্নঃ কোন্‌ পাপ নিয়ে তওবা ছাড়া মৃত্যু বরণ করলে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে?
উত্তরঃ শির্ক।
৫৪. প্রশ্নঃ নবী-ওলীকে উসীলা করে দু’আ করার বিধান কি?
উত্তরঃ নবী, ওলী, ফেরেশতা বা যে কোন মানুষকে উসীলা করে দু’আ করা বড় শির্ক।
৫৫. প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণ কি মোটেও আল্লাহকে বিশ্বাস করত না?
উত্তরঃ তারা তাওহীদে রুবুবিয়্যার প্রতি বিশ্বাস রাখত।
৫৬. প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণ তাওহীদে রুবুবিয়্যার প্রতি বিশ্বাস রাখত, একথার প্রমাণ কি?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ বলেন, “তাদের যদি জিজ্ঞেস কর যে, কে আসমান যমীন সৃষ্টি করেছে, তবে তারা জবাবে অবশ্যই বলবে, আল্লাহ্‌।” (সূরা লোকমান- ৩১)
৫৭. প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণ কি কোনই ইবাদত করত না?
উত্তরঃ তারা বিভিন্নভাবে আল্লাহর ইবাদত করত। যেমন, তারা কা’বা ঘরের তওয়াফ করত। হজ্জ পালন করত ইত্যাদি।
৫৮. প্রশ্নঃ মক্কার কাফেরগণকে মুশরিক বলার কারণ কি?
উত্তরঃ কেননা তারা মুর্তি পুজা করত।
৫৯. প্রশ্নঃ তাদের মুর্তি পুজার ধরণ কিরূপ ছিল?
উত্তরঃ তারা মুর্তিগুলোকে আল্লাহর কাছে পৌঁছার মাধ্যম বা উসীলা মনে করত।
৬০. প্রশ্নঃ বিপদ-মুসীবতে পড়লে কাফেরদের অবস’া কেমন হত?
উত্তরঃ বিপদ-মুসীবতে পড়লে তারা শির্ক করত না। তখন তারা একনিষ্টভাবে আল্লাহকে ডাকত।
৬১. প্রশ্নঃ বর্তমান যুগে অনেক লোক বিপদ-মুসীবতে পড়লে কী করে থাকে?
উত্তরঃ এ অবস্থায় অনেক মানুষ শির্কে লিপ্ত হয়। মাজারে দরবারে ধর্ণা দেয়। পীরের দরগায় নযর-মান্নত করে থাকে। তাবীজ-কবচ ব্যবহার কও ইেত্যাদি।
৬২. প্রশ্নঃ নবী-রাসূলগণের দা’ওয়াতের মূল বক্তব্য কী ছিল?
উত্তরঃ “হে আমার সমপ্রদায়ের লোকেরা, তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের সত্য কোন মা’বূদ নেই।” (সূরা আ’রাফঃ ৫৯)
৬৩. প্রশ্নঃ ছোট শির্ক কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সমস- কাজকে শরীয়তে শিরক নামে আখ্যা দেয়া হয়েছে, কিন’ উহা বড় শিরকের পর্যায়ভুক্ত নয়।
৬৪. প্রশ্নঃ ছোট শির্কের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ মানুষকে দেখানো কিংবা প্রশংসা কুড়ানো কিংবা দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে ইবাদত করা, তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করা, গণক-জ্যোতিষীর কাছে যাওয়া ইত্যাদি।
৬৫. প্রশ্নঃ তাবিজ-কবচ ব্যবহার সম্পর্কে ইসলামের হুকুম কি?
উত্তরঃ এ কাজ ছোট শির্কের অন্তর্ভূক্ত। তবে এটাকেই ত্রাণকর্তা ও আরোগ্য দাতা বিশ্বাস করলে বড় শির্ক।
৬৬. প্রশ্নঃ ছোট শির্কে লিপ্ত হলে তার পরিণতি কি?
উত্তরঃ সে ইসলাম থেকে বের হবে না। তবে তার এই কাজ কাবীরা গুনাহের চাইতে বড় গুনাহ।
৬৭. প্রশ্নঃ পিতা-মাতা, স্থান, মসজিদ, কা’বা প্রভৃতির নামে শপথ করার হুকুম কি?
উত্তরঃ এরূপ শপথ বা কসম করা ছোট শির্কের অন-র্ভূক্ত।
৬৮. প্রশ্নঃ আব্দুর রাসূল (রাসূলের বান্দা), আবদুন্‌ নবী, গোলাম মোস্তফা, আব্দুল মুত্তালেব (মুত্তালেবের বান্দা) প্রভৃতি নাম রাখা কি?
উত্তরঃ এরূপ নাম রাখা ছোট শির্কের অন্তর্ভূক্ত।
৬৯. প্রশ্নঃ ইবাদতে ‘রিয়া’ বলতে কী বুঝায়?
উত্তরঃ মানুষকে দেখানো বা তাদের প্রশংসা ও ভালবাসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোন ইবাদত সম্পাদন করা।
৭০. প্রশ্নঃ গণক বা জ্যোতীষীদের কাছে যাওয়ার ক্ষতি কি?
উত্তরঃ তাদের কাছে গিয়ে কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে ৪০দিনের নামায কবূল হবে না। (মুসলিম)
৭১. প্রশ্নঃ গণক বা জ্যোতীষীদের কথা বিশ্বাস করার পরিণাম কি?
উত্তরঃ তাদের কথা বিশ্বাস করলে নবী (সাঃ)এর নিকট প্রেরীত কুরআনের সাথে কুফরী করা হবে। (মুসলিম)
৭২. প্রশ্নঃ কোন মানুষ ভুলবশতঃ কুফরী কাজ করে ফেললে বা কথা বলে ফেললে তার কি হবে?
উত্তরঃ তার কোন গুনাহ হবে না। তবে তার ভুল শুধরে দিতে হবে।
৭৩. প্রশ্নঃ অসুখ-বিসুখ হলে ঝাড়-ফুঁক করার হুকুম কি?
উত্তরঃ কুরআনের আয়াত ও হাদীসের দু’আ পড়ে ঝাড়-ফুঁক করা জায়েয।
৭৪. প্রশ্নঃ কুরআনের আয়াত লিখে তাবিজ ব্যবহারের হুকুম কি?
উত্তরঃ নাজায়েয। কেননা এটা জায়েয হওয়ার পক্ষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) বা সাহাবা-তাবেঈনের কারো থেকে কোন দলীল নেই। তাছাড়া কুরআনকে এভাবে ব্যবহার করলে, কুরআনের অবমাননা হয়।
৭৫. প্রশ্নঃ বিদআত কাকে বলে?
উত্তরঃ ছোয়াবের নিয়ত করে যে ইবাদত করা হয়; অথচ তার পক্ষে শরীয়তে দলীল পাওয়া যায় না, তাকেই বিদআত বলে।
৭৬. প্রশ্নঃ বর্তমানে প্রচলিত কিছু বিদআতের উদাহরণ কি?
উত্তরঃ নামাযে মুখে নিয়ত পাঠ, মীলাদুন্নবী উদযাপন, দলবদ্ধভাবে যিকির, কুলখানি, চল্লিশা, খতমে জালালী, খতমে ইউনুস, ফাতেহাখানি, জন্মবার্ষীকি, মৃত্যুবার্ষীকি, শবে বরাত উদযাপন ইত্যাদি।
৭৭. প্রশ্নঃ বিদআত দু’প্রকারঃ ভাল বিদআত ও মন্দ বিদআত। এ সম্পর্কে আপনার মত কি?
উত্তরঃ এরূপ ভাগ করার কোন দলীল নেই। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।” (মুসলিম)
৭৮. প্রশ্নঃ সাইকেল, বাস, ট্রেন, প্লেনে চড়া, বিদ্যুৎ, মাইক ব্যবহার ইত্যাদি কি বিদআত নয়?
উত্তরঃ না, কেননা একাজগুলো ইবাদত মনে করে ছোয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় না। এগুলো দুনিয়াবী কাজ।
৭৯. প্রশ্নঃ জিন জাতি কিসের তৈরী ?
উত্তরঃ আগুনের তৈরী।
৮০. প্রশ্নঃ জিনদেরকে আল্লাহ্‌ কেন তৈরী করেছেন?
উত্তরঃ তাঁর ইবাদত করার জন্য। (সূরা যারিয়াতঃ ৫৬)
৮১. প্রশ্নঃ জিনেরা কি মানুষের ভাল-মন্দ করতে পারে?
উত্তরঃ না, আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ কারো ভাল-মন্দ করতে পারে না।
৮২. প্রশ্নঃ জিনদের নিকট থেকে সাহায্য নেয়া জায়েয আছে কি?
উত্তরঃ না, তাদের থেকে কোন সাহায্য নেয়া জায়েয নেই।
৮৩. প্রশ্নঃ জিন তাবে করার হুকুম কি?
উত্তরঃ জিন তাবে করা জায়েয নেই।
৮৪. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম আল্লাহ্‌ তা’আলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম)এর নূর সৃষ্টি করেন, একথাটি কি ঠিক?
উত্তরঃ না, কেননা এ সম্পর্কে সহীহ্‌ কোন হাদীস নেই। জাল (বানোয়াট) হাদীসের ভিত্তিতে অনেকে একথাটি বলে থাকে।
৮৫. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি নূর থেকে সৃষ্টি?
উত্তরঃ না, আদম সন-ান যে উপাদানে সৃষ্টি, তিনিও সেই উপাদানে সৃষ্টি। (সূরা কাহাফঃ ১১০)
৮৬. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি গায়েব জানতেন?
উত্তরঃ না, তিনি কোন গায়েব জানতেন না। (সূরা আনআমঃ ৫০)
৮৭. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি জীবিত?
উত্তরঃ না, তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। (সূরা যুমারঃ৩০)
৮৮ প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি হাযের-নাযের (অর্থাৎ সবখানে তিনি উপসি’ত হতে পারেন, এরূপ বিশ্বাস করা কি)?
উত্তরঃ না, তিনি হাযের-নাযের নন। এরূপ বিশ্বাস করা কুফরী।
৮৯. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কি কারো উপকার-অপকারের ক্ষমতা রাখেন?
উত্তরঃ না। (সূরা জিনঃ ২১)
৯০. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্ম দিবস উপলক্ষে ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করার হুকুম কি?
উত্তরঃ নাজায়েয, বিদআত।
৯১. প্রশ্নঃ কোন মুসলমানকে কাফের বলার পরিণতি কি?
উত্তরঃ ঐ ব্যক্তি কাফের না হলে, কথাটি যে বলেছে তার উপর পতিত হবে।
৯২. প্রশ্নঃ ফাসেক ব্যক্তির ইমামতিতে নামায পড়া জায়েয কি?
উত্তরঃ ফাসেককে ইমাম নিযুক্ত করা জায়েয নয়; তবে সে ইমাম হয়ে গেলে তার পিছনে নামায পড়া জায়েয।
৯৩. প্রশ্নঃ মুসলামনদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন কাফেরকে হত্যা করার হুকুম কি?
উত্তরঃ হারাম। এরকম কাফেরকে যে ব্যক্তি হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবে না।
৯৪. প্রশ্নঃ হিন্দু, ইহুদী, খৃষ্টান প্রভৃতি কাফেরকে কেউ যদি কাফের না বলে, তাতে কোন ক্ষতি আছে কি?
উত্তরঃ তাদেরকে যে ব্যক্তি কাফের বিশ্বাস করবে না বা তাদেরকে কাফের বলতে দ্বিধা করবে, সে কাফের হয়ে যাবে।
৯৫. প্রশ্নঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কারা?
উত্তরঃ যারা আকীদা ও আমলের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে থাকে এবং তার উপর ঐক্যবদ্ধ থাকে। আর সাহাবায়ে কেরাম তথা সালাফে সালেহীনের রীতি-নীতিকে অনুসরণ করে।
৯৬. প্রশ্নঃ ইসলাম বা তার কোন বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলে, পরিণতি কি?
উত্তরঃ যে এরূপ করবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।
৯৭. প্রশ্নঃ বৈধ অসীলা কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ তিন প্রকারঃ (১) আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অসীলা (২) নেক আমলের অসীলা (৩) সৎ ব্যক্তির দু’আর অসীলা।
৯৮. প্রশ্নঃ অবৈধ অসীলার উদাহরণ কি?
উত্তরঃ যেমনঃ নবী-রাসূল, ফেরেশতা, ওলী-আউলিয়া ইত্যাদির অসীলা করা। মৃত ব্যক্তির কাছে দু’আ চাওয়াও নিষিদ্ধ অসীলার অন-র্ভূক্ত।
৯৯. প্রশ্নঃ কবরে বা মাজারে বা কোন পীরের উদ্দেশ্যে মানত করার হুকুম কি?
উত্তরঃ শিরক।
>

বিষয়: আল কুরআন


১০০)প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনুল কারীমে কতটি সূরা আছে?
উত্তরঃ ১১৪টি।
১০১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরার নাম কি?
উত্তরঃ সূরা ফাতিহা।
১০২) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরার নাম কি?
উত্তরঃ সূরা বাকারা।
১০৩) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরার নাম কি?
উত্তরঃ সূরা কাওছার।
১০৪) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়াত কোনটি কোন সূরায়?
উত্তরঃ সূরা বাক্বারার ২৮২ নং আয়াত।
১০৫) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ আয়াত কোনটি?
উত্তরঃ আয়াতুল কুরসী। (সূরা বাক্বারা ২৫৫ নং আয়াত।
১০৬) প্রশ্নঃ ফরয নামাযান্তে কোন আয়াতটি পাঠ করলে, মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে যেতে কোন বাধা থাকে না?
উত্তরঃ আয়াতুল কুরসী।
১০৭) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্‌ সূরাটি পাঠ করলে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ সূরা মুলক। (৬৭নং সূরা)
১০৮) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান?
উত্তরঃ সূরা ইখলাছ। (১১২ নং সূরা)
১০৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার প্রতি ভালবাসা মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?
উত্তরঃ সূরা ইখলাছ।
১১০) প্রশ্নঃ কোন সূরাটি পবিত্র কুরআনের চতুর্থাংশের সমপরিমাণ?
উত্তরঃ সূরা কাফেরূন। (১০৯ নং সূরা)
১১২. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি জুমআর দিন বিশেষভাবে পাঠ করা মুস্তাহাব?
উত্তরঃ সূরা কাহাফ (১৮ নং সূরা))
১১৩ প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার প্রথমাংশ তেলাওয়াতকারীকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা করবে?
উত্তরঃ সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত। (১৮ নং সূরা))
১১৪) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন দু’টি সূরা জুমআর দিন ফজরের নামাযে তেলাওয়াত করা সুন্নাত?
উত্তরঃ সূরা সাজদা ও দাহার।
১১৫ প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন দু’টি সূরা জুমআর নামাযে তেলাওয়াত করা সুন্নাত?
উত্তরঃ সূরা আ’লা ও গাশিয়া।
১১৬) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন কত বছরে নাযিল হয়?
উত্তরঃ তেইশ বছরে।
১১৭) প্রশ্নঃ ‘মুহাম্মাদ’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নাম পবিত্র কুরআনে কত স্থানে উল্লেখ হয়েছে?
উত্তরঃ চার স্থানে।
(১) সূরা আল ইমরান আয়াত- ১৪৪।
(২) সূরা আহযাব আয়াত নং ৪০।
(৩) সূরা মুহাম্মাদ আয়াত নং ২।
(৪) সূরা ফাতাহ্‌ আয়াত নং ২৯।
১১৮) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন আয়াত নাযিল হয়?
উত্তরঃ সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত। ইক্বরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী…..
১১৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বশেষ নাযিল হয়?
উত্তরঃ আল্লাহ্‌ বলেন,
(وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ)
সূরা বাক্বারার ২৮১ নং আয়াত।
(ইবনু আবী হাতেম সাঈদ বিন জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নয় দিন জীবিত ছিলেন।

  • আল ইতক্বান ফি উলূমিল কুরআন)
    ১২০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন সূরাটি পূর্ণাঙ্গরূপে নাযিল হয়?
    উত্তরঃ সূরা ফাতিহা।
    ১২১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন প্রথম যুগে কিভাবে সংরক্ষিত ছিল?
    উত্তরঃক. ছাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিতে,
    খ. লিখিত অবস্থায় চামড়ায়,
    গ. হাড়ে,
    ঘ. পাতায় এবং
    ঙ. পাথরে।
    ১২২) প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কে কুরআন একত্রিত করেন?
    উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)।
    ১২৩) প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে কুরআন একত্রিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল?
    উত্তরঃ যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ)কে।
    ১২৪) প্রশ্নঃ কার পরামর্শে এই কুরআন একত্রিত করণের কাজ শুরু হয়?
    উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
    ১২৫ প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন দু’টি সূরা জুমআর নামাযে তেলাওয়াত করা সুন্নাত?
    উত্তরঃ সূরা আ’লা ও গাশিয়া।
    ১২৬) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন কত বছরে নাযিল হয়?
    উত্তরঃ তেইশ বছরে।
    ১২৭) প্রশ্নঃ ‘মুহাম্মাদ’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরনাম পবিত্র কুরআনে কত স্থানে উল্লেখ হয়েছে?
    উত্তরঃ চার স্থানে। (১) সূরা আল ইমরান আয়াত- ১৪৪। (২) সূরা আহযাব আয়াত নং ৪০। (৩) সূরা মুহাম্মাদ আয়াত নং ২। (৪) সূরা ফাতাহ্‌ আয়াত নং ২৯।
    ১২৮) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন আয়াত নাযিল হয়?
    উত্তরঃ সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত। ইক্বরা বিসমি রাব্বিকাল্লাযী…..
    ১২৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বশেষ নাযিল হয়?
    উত্তরঃ আল্লাহ্‌ বলেন, (وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ) সূরা বাক্বারার ২৮১ নং আয়াত। (ইবনু আবী হাতেম সাঈদ বিন জুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নয় দিন জীবিত ছিলেন।- আল ইতক্বান ফি উলূমিল কুরআন)
    ১৩০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম কোন সূরাটি পূর্ণাঙ্গরূপে নাযিল হয়?
    উত্তরঃ সূরা ফাতিহা।
    ১৩১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআন প্রথম যুগে কিভাবে সংরক্ষিত ছিল?
    উত্তরঃ ছাহাবায়ে কেরামের স্মৃতিতে, লিখিত অবস্থায় চামড়ায়, হাড়ে, পাতায় এবং পাথরে।
    ১৩) প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কে কুরআন একত্রিত করেন?
    উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)।
    ১৩৩) প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে কুরআন একত্রিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল?
    উত্তরঃ যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ)কে।
    ১৩৪) প্রশ্নঃ কার পরামর্শে এই কুরআন একত্রিত করণের কাজ শুরু হয়?
    উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
    ১৩৫) প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) এর ওহী লেখক কে কে ছিলেন?
    উত্তরঃ আলী বিন আবী তালেব, মুআবিয়া বিন আবী সুফিয়ান, যায়েদ বিন ছাবেত ও উবাই বিন কা’ব প্রমুখ (রাঃ)।
    ১৩৬) প্রশ্নঃ কোন যুগে কার নির্দেশে কুরআনের অক্ষরে নকতা দেয়া হয়?
    উত্তরঃ উমাইয়া খলীফা আবদুল মালিকের যুগে হাজ্জাজ বিন ইউসূফের নির্দেশে একাজ হয়।
    ১৩৭) প্রশ্নঃ কুরআনে নকতা দেয়ার কাজটি কে করেন?
    উত্তরঃ নসর বিন আছেম বিন ই’য়ামার (রহঃ)।
    ১৩৮) প্রশ্নঃ কুরআনে কে হরকত (যের যবর পেশ ইত্যাদি) সংযোজন করেন?
    উত্তরঃ খলীল বিন আহমাদ আল ফারাহীদী (রহঃ)।
    ১৩৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘দুনিয়া’ শব্দটি এসেছে?
    উত্তরঃ ১১৫ বার।
    ১৪০) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘আখেরাত’ শব্দটি এসেছে?
    উত্তরঃ ১১৫ বার।
    ১৪১) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি অক্ষর রয়েছে?
    উত্তরঃ ৩২৩৬৭১টি।
    ১৪২)প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি শব্দ আছে?
    উত্তরঃ ৭৭৪৩৯টি।
    ১৪৩) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি আয়াত আছে?
    উত্তরঃ ৬২৩৬টি।
    ১৪৪) প্রশ্নঃ কোন সূরার শেষ দু’টি আয়াত কোন মানুষ রাত্রে পাঠ করলে তার জন্য যথেষ্ট হবে?
    উত্তরঃ সূরা বাক্বারার শেষের আয়াত দু’টি। (২৮৫ ও ২৮৬ নং আয়ত)
    ১৪৫) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতটি সিজদা আছে এবং কোন কোন সূরায়?
    উত্তরঃ১৫টি।
    আ’রাফ (২০৬নং আয়াত),
    রা’দ (১৫নং আয়াত),
    নাহাল (৪৯নং আয়াত),
    ইসরা (১০৭নং আয়াত),
    মারইয়াম (৫৮নং আয়াত),
    হাজ্জ (১৮ ও ৭৭ নং আয়াত),
    ফুরক্বান (৬০নং আয়াত),
    নামাল (২৫নং আয়াত),
    সজিদা (১৫নং আয়াত),
    সোয়াদ (২৪নং আয়াত),
    হা-মীম আস সাজদাহ (৩৭নং আয়াত),
    নাজম (৬২নং আয়াত),
    ইনশক্বিাক (২১নং আয়াত),
    আলাক (১৯নং আয়াত)।
    ১৪৬) প্রশ্নঃ কোন সূরায় দু’টি সিজদা রয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা হজ্জ। (18 ও ৭৭ নং আয়াত)
    ১৪৭) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘রহমান’ শব্দের উল্লেখ হয়েছে?
    উত্তরঃ ৫৭ বার।
    ১৪৮)প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘জান্নাত’ শব্দ এসেছে?
    উত্তরঃ ১৩৯ বার।
    (একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন শব্দে)
    ১৪৯) প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘জাহান্নাম’ শব্দ এসেছে?
    উত্তরঃ ৭৭বার।
    ১৫০. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতবার ‘নার বা আগুন’ শব্দ এসেছে?
    উত্তরঃ ১২৬বার।
    ১৫১. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্‌ আয়াতে আরবী ২৯টি অক্ষরই রয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা ফাতাহ এর ২৯ নং আয়াতে।
    ১৫২. প্রশ্নঃ সূরা ফাতিহায় ‘মাগযূবে আলাইহিম’ বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে এবং ‘যাল্লীন’ বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে?
    উত্তরঃ ‘মাগযূবে আলাইহিম’ বলতে ইহুদীদেরকে এবং ‘যাল্লীন’ বলতে খৃষ্টানদেরকে বোঝানো হয়েছে।
    ১৫৩. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরায় ‘মীম’ অক্ষরটি নেই?
    উত্তরঃ সূরা কাওছার।
    ১৫৪. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরায় ك ‘কাফ’ অক্ষরটি নেই?
    উত্তরঃ সূরা কুরায়শ, ফালাক ও আছর।
    ১৫৫. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরায় দুবার বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম রয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা নামল। (২৭ নং সূরা)
    ১৫৬. প্রশ্নঃ কুরআনের কোন সূরার প্রথমে বিসমিল্লাহ নেই?
    উত্তরঃ সূরা তাওবা। (৯নং সূরা)
    ১৫৭. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে মোট কতবার ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম রয়েছে?
    উত্তরঃ ১১৪ বার।
    ১৫৮. প্রশ্নঃ কোন্‌ সূরা সম্পর্কে ইমাম শাফেঈ বলেন, “মানুষের জন্য এ সূরাটি ব্যতীত অন্য সূরা নাযিল না হলেও যথেষ্ট ছিল”?
    উত্তরঃ সূরা আছর।
    ১৫৯. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কতজন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
    উত্তরঃ ২৫ জন।
    ১৬০. প্রশ্নঃ মাক্কী সূরা ও মাদানী সূরা বলতে কি বুঝায়?
    উত্তরঃ মাক্কীঃ মদীনায় হিজরতের পূর্বে যা নাযিল হয়েছে।
    মাদানীঃ মদীনায় হিজরতের পর যা নাযিল হয়েছে।
    ১৬১. প্রশ্নঃ মাক্কী সূরার মৌলিক বৈশিষ্ট কি কি?
    উত্তরঃ মাক্কী সূরার মৌলিক বৈশিষ্ট্য গুলো দেওয়া হলোঃ
    ১) তাওহীদ এবং আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহবান। জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা এবং মুশরিকদের সাথে বিতর্ক।
    ২) মুশরকিদের খুন-খারাবী, ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ প্রভৃতি কর্মের নিন্দাবাদ।
    ৩) সংক্ষিপ্ত বাক্য অথচ অতি উচ্চাঙ্গের সাহিত্য সমৃদ্ধ।
    ৪) নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)কে সান্তনা দেয়া ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্য ব্যাপকভাবে নবী-রাসূলদের কাহিনীর অবতারনা, এবং কিভাবে তাঁদের সমপ্রদায়ের লোকেরা তাঁদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছে ও কষ্ট দিয়েছে তার বর্ণনা।
    ১৬২. প্রশ্নঃ মাদানী সূরার মৌলিক বৈশিষ্ট কি কি?
    উত্তরঃ মাদানী সূরার মৌলিক বৈশিষ্ট গুলো হলোঃ
    (১) ইবাদত, আচার-আচরণ, দন্ডবিধি, জিহাদ, শান্তি, যুদ্ধ, পারিবারিক নিয়ম-নীতি, শাসন প্রণালী অন্যান্য বিধি-বিধানের আলোচনা।
    (২) আহলে কিতাব তথা ইহুদী খৃষ্টানদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান।
    (৩) মুনাফেকদের দ্বিমুখী নীতির মুখোশ উম্মোচন এবং ইসলামের জন্য তারা কত ভয়ানক তার আলোচনা।
    (৪) সংবিধান প্রণয়ণের ধারা ও তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ করার জন্য দীর্ঘ আয়াতের অবতারণা।
    ১৬৩. প্রশ্নঃ মাদানী সূরা পরিচয়ের নিয়ম কি?
    উত্তরঃ মাদানী সূরা পরিচয়ের নিয়ম গুলো হলোঃ
    (১) যে সকল সূরায় কোন কিছু ফরয করা হয়েছে বা দন্ডবিধির আলোচনা করা হয়েছে।
    (২) যে সকল সূরায় মুনাফেকদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
    (৩) যে সকল সূরায় আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করা হয়েছে।
    (৪) যে সকল সূরা “ইয়া আইয়্যুহাল্লাযীনা আমানূ” দ্বারা আরম্ভ হয়েছে।
    ১৬৪. প্রশ্নঃ মাক্কী সূরার সংখ্যা কতটি?
    উত্তরঃ ৮৬টি সূরা।
    ১৬৫. প্রশ্নঃ মাদানী সূরার সংখ্যা কতটি?
    উত্তরঃ ২৮টি সূরা।
    ১৬৬. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্‌ সূরার প্রতিটি আয়াতে ‘আল্লাহ্‌ শব্দ আছে?
    উত্তরঃ সূরা মুজাদালা। (৫৮ নং সূরা)
    ১৬৭. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্‌ কোন্‌ সূরা ‘আল হামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা ফাতিহা, সূরা আনআম, সূরা কাহাফ, সূরা সাবা ও সূরা ফাতির। (সূরা নং যথাক্রমে, ১,৬,১৮,৩৪ ও ৩৫)
    ১৬৮. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে ছয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে যাঁরা সকলেই নবীর পুত্র নবী ছিলেন তাদের নাম কি কি?
    উত্তরঃ পবিত্র কুরআনে ছয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ আছে যাঁরা সকলেই নবীর পুত্র নবী ছিলেন তাদের নামঃ
    (১) ইবরাহীমের পুত্র ইসমাঈল
    (২) ইবরাহীমের পুত্র ইসহাক,
    (৩) ইসহাকের পুত্র ইয়াকূব
    (৪) ইয়াকূবের পুত্র ইউসুফ,
    (৫) যাকারিয়ার পুত্র ইয়াহইয়া ও
    (৬) দাউদের পুত্র সুলাইমান (আলাইহিমুস্‌ সালাম)
    ১৬৯. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে জাহান্নামের ৬টি নাম উল্লেখ হয়েছে। উহা কি কি?
    উত্তরঃ পবিত্র কুরআনে জাহান্নামের ৬টি নাম নিচে উল্লেখ করা হলোঃ
    (১) জাহান্নাম (সূরা নাবা: 21)
    (২) সাঈর (সূরা নিসা: 10)
    (৩) হুতামা (হুমাযা: 4)
    (৪) লাযা (সূরা মাআরেজ: 15)
    (৫) সাক্বার (সূরা মুদ্দাসসির: 42)
    (৬) হাভিয়া (সূরা কারিয়া: 9)
    ১৭০. প্রশ্নঃ কুরআনের কোন সূরায় মুবাহালার আয়াত রয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা আলে ইমরান- আয়াত নং- ৬১।
    মুবাহালা: হক ও বাতিলের মাঝে দ্বন্দ্ব হলে, বাতিল পন্থীর সামনে যাবতীয় দলীল-প্রমাণ উপস্থাপন করার পরও সে যদি হঠকারিতা করে, তবে তাকে মুবাহালার জন্য আহবান করা হবে। তার নিয়ম হচ্ছেঃ উভয় পক্ষ নিজের স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিকে উপস্থিত করবে, অতঃপর প্রত্যেক পক্ষ বলবে, আমরা যদি বাতিল পন্থা উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি, তবে মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লা’নত (অভিশাপ)। এটাকেই বলে মুবাহালা।
    ১৭১. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন্‌ সূরার কোন্‌ আয়াতে ব্যভিচারের দন্ডবিধির আলোচনা আছে?
    উত্তরঃ সূরা নূর- আয়াত নং- ২।
    ১৭২. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কত নং আয়াতে ওযুর ফরয সমূহ উল্লেখ করা হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা মায়েদা- আয়াত নং- ৬।
    ১৭৩. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে চুরির দন্ডবিধি উল্লেখ হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা মায়েদা- আয়াত নং- ৩৮।
    ১৭৪. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে মিথ্যা অপবাদের শাস্তির বিধান উল্লেখ হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা নূর-
    আয়াত নং- ৪।
    ১৭৫. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে মুমিন নারী-পুরুষকে দৃষ্টি অবনত রেখে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা নূর-
    আয়াত নং ৩০-৩১।
    ১৭৬. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে মীরাছ (উত্তরাধীকার সম্পদ বন্টন) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা নিসা-
    আয়াত নং- ১১, ১২ ও ১৭৬।
    ১৭৭. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে বিবাহ হারাম এমন নারীদের পরিচয় দেয়া হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা নিসা-
    আয়াত নং- ২৩, ২৪।
    ১৭৮. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে যাকাত বন্টনের খাত সমূহ আলোচনা করা হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা তওবা-
    আয়াত নং- ৬০।
    ১৭৯. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে ছিয়াম সম্পর্কিত বিধি-বিধান উল্লেখ হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা বাক্বারা-
    আয়াত নং ১৮৩-১৮৭।
    ১৮০. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে বাহনে আরোহনের দুআ উল্লেখ করা হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা যুখরুফ-
    আয়াত নং- ১৩।
    ১৮১. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরার কোন আয়াতে নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি দরূদ পড়ার আদেশ করা হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা আহযাব-
    আয়াত নং ৫৬।
    ১৮২. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে হুনায়ন যুদ্ধের কথা আলোচনা করা হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা তওবা-
    আয়াত নং- ২৫, ২৬।
    ১৮৩. প্রশ্নঃ কোন সূরায় বদর যুদ্ধের ঘটনাবলী উল্লেখ করা হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা আনফাল।
    (আয়াত নং : 5-19, 41-48, 67-69)
    ১৮৪. প্রশ্নঃ কোন সূরায় বনী নযীরের যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা হাশর।
    (আয়াত নং ২-১৪)
    ১৮৫. প্রশ্নঃ কোন সূরায় খন্দক যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা আহযাব
    (আয়াত নং ৯-২৭)।
    ১৮৬. প্রশ্নঃ কোন সূরায় তাবুক যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা তওবা
    (আয়াত নং ৩৮-১২৯)।
    ১৮৭. প্রশ্নঃ কোন সূরায় নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা তওবা
    (আয়াত নং ৪০)
    ১৮৮. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে হারূত-মারূতের ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা বাক্বারা-
    আয়াত নং- ১০২।
    ১৮৯. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে কারূনের কাহিনী উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা ক্বাছাছ
    আয়াত ৭৬-৮৩।
    ১৯০. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে সুলায়মান (আঃ)এর সাথে হুদহুদ পাখীর ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা নমল
    আয়াত নং ২০, ৪৪।
    ১৯১. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে ক্বিবলা পরিবর্তনের ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা বাক্বারা-
    আয়াত নং ১৪২-১৫০।
    ১৯২. প্রশ্নঃ কোন সূরায় নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইসরা-মেরাজের ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা বানী ইসরাঈল (আয়াত নং ১) ও সূরা নজম (আয়াত: ৮-১৮)
    ১৯৩. প্রশ্নঃ কোন সূরায় হস্তি বাহিনীর ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা ফীল।
    ১৯৪. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে যুল ক্বারানাইন বাদশাহর ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা কাহাফ-
    আয়াত নং- ৮৩-৯৮।
    ১৯৫. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে ত্বালুত ও জালুতের ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা বাক্বারা-
    আয়াত নং- ২৪৬-২৫২।
    ১৯৬. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে মসজিদে আক্বসার কথা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা বানী ইসরাঈল-
    আয়াত নং-১
    ১৯৭. প্রশ্নঃ কোন সূরার কোন আয়াতে পিতা-মাতার ঘরে প্রবেশের জন্য অনুমতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে?
    উত্তরঃ সূরা নূর-
    আয়াত নং- ৫৮, ৫৯
    ১৯৮. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কোন সাহাবী মক্কায় উচ্চ:স্বরে কুরআন পাঠ করেন?
    উত্তরঃ আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ (রাঃ)।
    ১৯৯. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের কোন সূরাটি ওমর (রাঃ)এর ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল?
    উত্তরঃ সূরা ত্বাহা।
    ২০০. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনের মধ্যে কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন হবে না। আল্লাহ নিজেই তার হেফাযতের দায়িত্ব নিয়েছেন। কথাটি কোন সূরার কত নং আয়াতে আছে?
    উত্তরঃ সূরা হিজ্‌র ৯ নং আয়াত।

বিষয়: হাদীস শরীফ


২০১.প্রশ্নঃ হাদীস কাকে বলে?
উত্তরঃ নবী (সাঃ)এর কথা, কাজ ও সমর্থনকে হাদীস বলে।
২০২. প্রশ্নঃ হাদীস কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ হাদীস দুপ্রকারঃ মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) হাদীস ও (মারদূদ) অগ্রহণযোগ্য হাদীস।
২০৩. প্রশ্নঃ মাকবূল হাদীস কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ মাকবূল হাদীস দুপ্রকারঃ ছহীহ ও হাসান।
২০৪. প্রশ্নঃ মারদূদ বা অগ্রহণযোগ্য হাদীস কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ দুপ্রকারঃ যঈফ (দুর্বল) ও জাল (বানোয়াট)।
২০৫. প্রশ্নঃ সহীহ হাদীস কাকে বলে?
উত্তরঃ যে হাদীসটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, উহার সনদ পরস্পর সম্পৃক্ত, তার মধ্যে গোপন কোন ত্রুটি নেই এবং উহা শাযও (তথা অন্য কোন অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিরোধী) নয় তাকে সহীহ হাদীস বলে।
২০৬. প্রশ্নঃ প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ ৬টি। সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবনে মাজাহ।
২০৭. প্রশ্নঃ সিহাহ সিত্তা বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ হাদীসের ছয়টি গ্রন্থকে বুঝানো হয়। সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবনে মাজাহ। (বুখারী ও মুসলিমের সবগুলো এবং অন্য কিতাবগুলোর অধিকাংশ হাদীস বিশুদ্ধ, তাই এগুলোকে একসাথে সিহাহ সিত্তা বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ বলা হয়)
২০৮ প্রশ্নঃ সহীহ বুখারীতে কতটি হাদীস রয়েছে?
উত্তরঃ ৭০০৮টি। মতান্তরেঃ ৭৫৬৩টি।
২০৯. প্রশ্নঃ সহীহ মুসলিমে কতটি হাদীস রয়েছে?
উত্তরঃ ৩০৩৩টি।
২১০. প্রশ্নঃ সুনানে তিরমিযীতে কতটি হাদীস রয়েছে?
উত্তরঃ ৩৯৫৬টি।
২১১. প্রশ্নঃ সুনানে আবু দাউদে কতটি হাদীস রয়েছে?
উত্তরঃ ৫২৭৪টি।
২১২. প্রশ্নঃ সুনানে নাসাঈতে কতটি হাদীস রয়েছে?
উত্তরঃ ৫৭৫৮টি।
২১৩. প্রশ্নঃ সুনানে ইবনে মাজাহতে কতটি হাদীস রয়েছে?
উত্তরঃ ৪৩৪১টি।
২১৪. প্রশ্নঃ হাদীস গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোন কিতাবে সবচেয়ে বেশী হাদীস সংকলিত হয়েছে?
উত্তরঃ মুসনাদে আহমাদে।
২১৫. প্রশ্নঃ মুসনাদে আহমাদে কতটি হাদীস রয়েছে?
উত্তরঃ ২৭৭৪৬টি।
২১৬. প্রশ্নঃ ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ ছাড়া আরো ৫টি হাদীস গ্রন্থের নাম উল্লেখ কর?
উত্তরঃ মুসনাদে আহমাদ, মুআত্ত্বা মালেক, দারাকুত্বনী, সুনানে দারেমী, সুনানে বায়হাক্বী।
২১৭. প্রশ্নঃ রিয়াযুস্‌ সালেহীন কিতাবটির লিখক কে?
উত্তরঃ ইমাম নভবী।
২১৮. প্রশ্নঃ জাল হাদীস কাকে বলে?
উত্তরঃ যে কথাটি মানুষে তৈরী করেছে, অতঃপর তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছে, তাকে জাল হাদীস বলে।
২১৯. প্রশ্নঃ আল্লাহর কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধতম গ্রন্থ কোনটি?
উত্তরঃ সহীহ বুখারী।
২২০. প্রশ্নঃ সহীহ বুখারীর একটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ভাষ্য (ব্যাখ্যা) গ্রন্থের নাম কি?
উত্তরঃ হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) প্রণীত ফাতহুল বারী।
২২১. প্রশ্নঃ কোন দুটি হাদীস গ্রন্থকে সহীহায়ন বলা হয়?
উত্তরঃ সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম।
২২২. প্রশ্নঃ মুত্তাফাকুন আলাইহে বলতে কি বুঝানো হয়?
উত্তরঃ যে হাদীসটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম নিজ নিজ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সে হাদীস সম্পর্কে বলা হয় মুত্তাফাকুন আলাইহে।
২২৩. প্রশ্নঃ সুনানে তিরমিযীর একটি প্রসিদ্ধ ভাষ্য (ব্যাখ্যা) গ্রন্থের নাম উল্লেখ কর?
উত্তরঃ তুহফাতুল আহওয়াযী। লেখকঃ আবদুর্‌ রহমান মুবারকপুরী (রহঃ)।
২২৪. প্রশ্নঃ সুনানে আবু দাউদের একটি প্রসিদ্ধ ভাষ্য (ব্যাখ্যা) গ্রন্থের নাম উল্লেখ কর?
উত্তরঃ আউনুল মাবূদ। লেখকঃ শামসূল হক আযীমাবাদী (রহঃ)।
২২৫. প্রশ্নঃ মারফূ হাদীস কাকে বলে?
উত্তরঃ যে হাদীসটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কথা, কাজ বা সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তাকে মারফূ হাদীস বলে।
২২৬. প্রশ্নঃ মাওকূফ হাদীস কাকে বলে?
উত্তরঃ যে হাদীসটি কোন সাহাবীর কথা, কাজ বা সমর্থন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে মাওকূফ হাদীস বলে।
২২৭. প্রশ্নঃ মাকতূ হাদীস কাকে বলে?
উত্তরঃ যে হাদীসটি কোন তাবেঈর কথা, কাজ বা সমর্থন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে মাক্বতূ হাদীস বলে।
২২৮. প্রশ্নঃ যঈফ হাদীসের কয়েকটি প্রকার উল্লেখ কর?
উত্তরঃ মুরসাল, মুনকাতে, মুযাল, মুনকার, মাক্বলূব, মুয্‌তারাব ইত্যাদি।
২২৯. প্রশ্নঃ যঈফ হাদীসের উপর আমল করার হুকুম কি?
উত্তরঃ যঈফ হাদীসের উপর আমল করা উচিত নয়।
২৩০. প্রশ্নঃ হাদীসের সনদ বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ হাদীস বর্ণনার সময় বর্ণনাকারীদের সিলসিলা বা ধারাবাহিকভাবে তাদের নাম উল্লেখকে সনদ বলা হয়।
২৩১. প্রশ্নঃ হাদীসের মতন কাকে বলা হয়?
উত্তরঃ হাদীসের মূল বক্তব্যটিকে মতন বলা হয়।
২৩২. প্রশ্নঃ কোন খলীফার যুগে সর্বপ্রথম হাদীস কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করা শুরু হয়?
উত্তরঃ খলীফা ওমর বিন আবদুল আযীযের (রহঃ) যুগে।
২৩৩. প্রশ্নঃ হাদীসের গ্রন্থ জগতে সর্বপ্রথম কোন কিতাবটি লিপিবদ্ধ করা হয়?
উত্তরঃ মুআত্ত্বা ইমাম মালেক। এতে ১৭০০টি হাদীস লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
২৩৪. প্রশ্নঃ ইমাম বুখারী কখন মৃত্যু বরণ করেন?
উত্তরঃ ২৫৬ হিঃ
২৩৫. প্রশ্নঃ ইমাম মুসলিম কখন মৃত্যু বরণ করেন?
উত্তরঃ ২৬১ হিঃ
২৩৬. প্রশ্নঃ ইমাম তিরমিযী কখন মৃত্যু বরণ করেন?
উত্তরঃ ২৭৯ হিঃ
২৩৭. প্রশ্নঃ ইমাম নাসাঈ কখন মৃত্যু বরণ করেন?
উত্তরঃ ৩০৩ হিঃ
২৩৮. প্রশ্নঃ ইমাম আবু দাউদ কখন মৃত্যু বরণ করেন?
উত্তরঃ ২৭৫ হিঃ
২৩৯. প্রশ্নঃ ইমাম ইবনে মাজাহ কখন মৃত্যু বরণ করেন?
উত্তরঃ ২৭৩ হিঃ
২৪০. প্রশ্নঃ ইমাম বুখারীর প্রকৃত নাম কি?
উত্তরঃ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বুখারী (রহঃ)।
২৪১. প্রশ্নঃ ইমাম মুসলিমের প্রকৃত নাম কি?
উত্তরঃ মুসিলম বিন হাজ্জাজ নিশাপুরী (রহঃ)।
২৪২. প্রশ্নঃ ইমাম তিরমিযীর আসল নাম কি?
উত্তরঃ মুহাম্মাদ বিন ঈসা তিরমিযী (রহঃ)।
২৪৩. প্রশ্নঃ ইমাম নাসাঈর নাম কি?
উত্তরঃ আহমাদ বিন শুআইব নাসাঈ (রহঃ)।
২৪৪. প্রশ্নঃ ইমাম আবু দাউদের নাম কি?
উত্তরঃ আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আছআছ সিজিসতানী (রহঃ)।
২৪৫. প্রশ্নঃ ইমাম ইবনে মাজাহর নাম কি?
উত্তরঃ মুহাম্মাদ বিন ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ কাযবীনী (রহঃ)।
২৪৬. প্রশ্নঃ বর্তমান যুগের সর্বশ্রে মুহাদ্দিসের নাম কি?
উত্তরঃ শায়খ নাসেরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) মৃত্যু ১৪২০ হিঃ।
15 comments

প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (স.) এর জীবনী

  1. প্রশ্নঃ আমাদের প্রিয় নবীজীর নাম কি?
    উত্তরঃ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
  2. প্রশ্নঃ তাঁর পিতা- মাতা ও দাদার নাম কি?
    উত্তরঃ পিতাঃ আবদুল্লাহ, মাতাঃ আমেনা, দাদাঃ আবদুল মুত্তালিব।
  3. প্রশ্নঃ তাঁর দুধমাতার নাম কি?
    উত্তরঃ প্রথম দুধমাতা ছুওয়াইবা (আবু লাহাবের কৃতদাসী) তারপর হালিমা সাদিয়া (রাঃ)।
  4. প্রশ্নঃ আমাদের প্রিয় নবীজীর নাম কয়টি ও কি কি?
    উত্তরঃ পাঁচটি। মুহাম্মাদ, আহমাদ, মাহী, হাশের, আক্বেব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। (বুখারী)
  5. প্রশ্নঃ তিনি কখন জন্মলাভ করেন?
    উত্তরঃ ৯ই রবিউল আওয়াল। মতান্তরে ১২ই রবিউল আওয়াল সোমবার দিন। ৫৭০ মতান্তরে ৫৭১খৃঃ। হস্তি বছর।
  6. প্রশ্নঃ জন্মলাভের পর কে তাঁর লালন-পালনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন?
    উত্তরঃ দাদা আবদুল মুত্তালিব।
  7. প্রশ্নঃ কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নাম মুহাম্মাদ রাখেন?
    উত্তরঃ দাদা আবদুল মুত্তালিব।
  8. প্রশ্নঃ নবীজীর কত বছর বয়সে তাঁর পিতা-মাতা ইন্তেকাল করেন?
    উত্তরঃ তাঁর জন্মের পূর্বে পিতা এবং তাঁর বয়স ৬ বছর হলে মাতা ইন্তেকাল করেন।
  9. প্রশ্নঃ নবীজীর কত বছর বয়সে তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালেব ইন্তেকাল করেন?
    উত্তরঃ তখন তাঁর বয়স ৮ বছর।
  10. প্রশ্নঃ দাদা আবদুল মুত্তালেব ইন্তেকাল করার পর কে তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন?
    উত্তরঃ চাচা আবু তালেব।
  11. প্রশ্নঃ নবীজী কত বছর বয়সে চাচা আবু তালেবের সাথে শাম দেশ (সিরিয়া) সফর করেন?
    উত্তরঃ ১২ বছর বয়সে।
  12. প্রশ্নঃ কৈশরে নবীজী কি কাজ করতেন?
    উত্তরঃ অল্প বেতনে মক্কাবাসীদের ছাগল চরানোর কাজ করতেন।
  13. প্রশ্নঃ কৈশরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পিতৃব্যদের সাথে একটি যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধটির নাম কি?
    উত্তরঃ হারবুল ফুজ্জার।
  14. প্রশ্নঃ হিলফুল ফযূল কি?
    উত্তরঃ মক্কার সম্মানিত লোকেরা অত্যাচারিতের সাহায্য করার জন্য একটি চুক্তি সম্পাদন করে তাকে হিলফুল ফযূল বলা হয়। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পিতৃব্যদের সাথে এই চুক্তিতে অংশ গ্রহণ করেন।
  15. প্রশ্নঃ নবূওতের পূর্বে নবীজীর একটি বিচক্ষণতা পূর্ণ ফায়সালার বিবরণ দাও?
    উত্তরঃ তাঁর বয়স ৩৫ বছর। সে সময় কাবা সংস্করণ করা হয়। শেষে কে হজরে আসওয়াদ স্থাপন করে সম্মানিত হবে এনিয়ে মক্কার লোকেরা বিবাদে লিপ্ত হলে নবীজী তাদের মাঝে মিমাংসা করে দেন। একটি চাদরে পাথরটি রেখে সকল গোত্রের প্রধানদের তার কিনারা ধরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং তিনি নিজ হাতে পাথরটি স্থাপন করেন। এতে সবাই খুশি হয়।
  16. প্রশ্নঃ যুবক বয়সে নবীজী কি কাজ করতেন?
    উত্তরঃ ব্যবসা।
  17. প্রশ্নঃ তিনি কখন কার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন?
    উত্তরঃ তাঁর বয়স যখন ২৫ বছর তখন খাদিজা (রাঃ) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সে সময় খাদিজার বয়স ছিল ৪০।
  18. প্রশ্নঃ তাঁর কতজন স্ত্রী ছিলেন? তাঁদের নাম কি?
    উত্তরঃ ১১ জন। তাঁরা হচ্ছেনঃ
    1- খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ
    2- সাওদা বিনতে যামআ
    3- আয়েশা বিনতে আবু বকর
    4- যায়নাব বিনতে খুযায়মা (উম্মুল মাসাকীন)
    5- হাফছা বিনতে ওমর বিন খাত্তাব
    6- যায়নাব বিনতে জাহাশ
    7- উম্মু সালামা হিন্দ বিনতে আবী উমাইয়া
    8- জুআইরিয়া বিনতে হারেছ
    9- ছাফিয়া বিনতে হুওয়াই বিন আখতাব
    10- মায়মূনা বিনতে হারেছ
    11- উম্মে হাবীবা রামলা বিনতে আবী সুফিয়ান। (রাঃ)
  19. প্রশ্নঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ স্ত্রীর নাম কি?
    উত্তরঃ সর্ব প্রথম স্ত্রী ছিলেন, খাদিজা (রাঃ) এবং সর্বশেষে যাকে বিবাহ করেছিলেন তিনি ছিলেন, মায়মূনা বিনতে হারেছ (রাঃ)।
  20. প্রশ্নঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর একমাত্র কুমারী স্ত্রী কে ছিলেন?
    উত্তরঃ আয়েশা (রাঃ)
  21. প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর কতজন সন্তান ছিলেন?
    উত্তরঃ ৭ জন। কাসেম, আবদুল্লাহ, যায়নাব, উম্মু কুলছুম, রুকাইয়া, ফাতেমা ও ইবরাহীম (রাঃ)।
  22. প্রশ্নঃ নবীজীর নাতী-নাতনীর সংখ্যা কত ছিল?
    উত্তরঃ ৭ জন। যায়নাবের সন্তান দুজনঃ আলী ও উমামা। রুকাইয়্যার সন্তান একজনঃ আবদুল্লাহ (শিশুবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন) ফাতিমার সন্তান চার জনঃ হাসান, হুসাইন, উম্মে কুলছুম, যায়নাব।
  23. প্রশ্নঃ কতবার এবং কখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়?
    উত্তরঃ দুবার। একবার শিশুকালে চার বছর বয়সে এবং দ্বিতীয়বার মেরাজে যাওয়ার সময়।
  24. প্রশ্নঃ নবুওতের পূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে ইবাদত করতেন?
    উত্তরঃ ইবরাহীম (আঃ) এর দ্বীন অনুসারে ইবাদত করতেন।
  25. প্রশ্নঃ কোন পাহাড়ের কোন গুহায় নবীজী ধ্যানমগ্ন থাকতেন?
    উত্তরঃ নূর পাহাড়ের হেরা গুহায়।
  26. প্রশ্নঃ কত বছর বয়সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর ওহী নাযিল হয়?
    উত্তরঃ ৪০ বছর ৬ মাস ১২ দিন।
  27. প্রশ্নঃ কখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর ওহী নাযিল হয়?
    উত্তরঃ ২১ রামাযানের রাতে সোমবার। ১০ আগস্ট ৬১০ খৃষ্টাব্দ।
  28. প্রশ্নঃ গারে হেরা থেকে ফিরে এলে স্ত্রী খাদিজা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে নিয়ে কার কাছে গমণ করেন এবং তিনি কি বলেন?
    উত্তরঃ ওরাকা বিন নওফলের নিকট। তিনি বলেন, ইনি এ উম্মতের নবী।
  29. প্রশ্নঃ নবুওত লাভের পর নবীজী কিভাবে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন?
    উত্তরঃ গোপনে।
  30. প্রশ্নঃ সাহাবীদের সাথে গোপনে কোথায় মিলিত হতেন?
    উত্তরঃ আরকাম বিন আবুল আরকামের গৃহে।
  31. প্রশ্নঃ গোপন দাওয়াতের সময় কাল কত বছর ছিল?
    উত্তরঃ ৩ বছর।
  32. প্রশ্নঃ মক্কী জীবনের দাওয়াতী কাজ কয়টি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল? প্রত্যেক পর্যায়ের সময়কাল কত ছিল?
    উত্তরঃ ৩টি পর্যায়ে।
    ক) গোপন দাওয়াত প্রথম তিন বছর।
    খ) মক্কাবাসীদের মাঝে প্রকাশ্যে দাওয়াত। নবুওতের ৪র্থ বছর থেকে ১০ম বছর পর্যন্ত।
    গ) মক্কার বাইরে দাওয়াত। নবুওতের ১০ম বছরের শেষ সময় থেকে হিজরতের পূর্ব পর্যন্ত।
  33. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কারা ইসলাম গ্রহণ করেন?
    উত্তরঃ সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন:
    নারীদের মধ্যে খাদীজা (রাঃ)
    পুরুষদের মধ্যে আবু বকর (রাঃ)
    বালকদের মধ্যে আলী (রাঃ)
    ক্রীতদাসদের মধ্যে যায়দ বিন হারেছা (রাঃ)
  34. প্রশ্নঃ কাফের হওয়া সত্বেও দাওয়াতী কাজে কে নবীজীকে সহযোগিতা করেন?
    উত্তরঃ চাচা আবু তালেব।
  35. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম মুসলমানগণ কোথায় হিজরত করেন এবং কখন?
    উত্তরঃ নবুওতের ৫ম বর্ষে সর্বপ্রথম মুসলমানগণ হাবশায় (বর্তমানে আফ্রিকার ইথিউপিয়া নামক দেশ) হিজরত করেন।
  36. প্রশ্নঃ আবিসিনয়া বা হাবশার দ্বিতীয় হিজরতে কতজন পুরুষ ও কতজন নারী ছিলেন?
    উত্তরঃ ৮৩ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী ছিলেন।
  37. প্রশ্নঃ কেন সেই দেশে হিজরত করার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদেরকে পরামর্শ দেন?
    উত্তরঃ কেননা সেখানকার বাদশা নাজ্জাশী ন্যায় পরায়ন ও দয়ালু লোক ছিলেন।
  38. প্রশ্নঃ কোথায় কতদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বয়কট করে রাখা হয়েছিল?
    উত্তরঃ নবুওতের ৭ম থেকে ১০ম বছর পর্যন্ত ৩ বছর শেবে আবী তালেবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বয়কট করে রাখা হয়েছিল।
  39. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নবুওতী জীবনের কোন সময়কে আমুল হুযন বা দুশ্চিন্তার বছর বলা হয়?
    উত্তরঃ ১০ম বছরকে। সে বছর তাঁর জীবন সঙ্গীনী খাদিজা (রাঃ) ও তাঁকে সহযোগিতাকারী আবু তালেব মৃত্যু বরণ করেন। আর তখন থেকেই নেমে আসে তাঁর প্রতি অবর্ণনীয় নির্যাতন।
  40. প্রশ্নঃ কোন কোন কাফের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সবচেয়ে বেশী কষ্ট দিয়েছিল?
    উত্তরঃ আবু লাহাব, আবু জাহেল, উক্ববা বিন আবী মুআইত্ব, ওতবা, শায়বা, উমাইয়া বিন খালাফ।
  41. প্রশ্নঃ একজন কাফের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে খুবই কষ্ট দিত। তার ধ্বংসের জন্য তার নামে কুরআনে একটি সূরা নাযিল হয়। ঐ কাফেরের নাম কি এবং সূরাটির নাম কি?
    উত্তরঃ কাফেরের নামঃ আবু লাহাব। সূরাটির নামঃ সূরা লাহাব।
  42. প্রশ্নঃ নবীজী কখন মেরাজে গমণ করেন ?
    উত্তরঃ নবুওতের ১০ম বছরে।
  43. প্রশ্নঃ আক্বাবার প্রথম বায়আত কখন অনুতি হয়?
    উত্তরঃ নবুওতের ১১তম বছরে।
  44. প্রশ্নঃ আক্বাবার প্রথম বায়আতে কোন্‌ গোত্র থেকে কতজন লোক অংশ নিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ মদীনার আওস ও খাজরায গোত্রের ১২ জন লোক।
  45. প্রশ্নঃ আক্বাবার দ্বিতীয় বায়আত কখন অনুতি হয়?
    উত্তরঃ নবুওতের ১২তম বছরে মিনায় আক্বাবার দ্বিতীয় বায়আত অনুতি হয়।
  46. প্রশ্নঃ এই বায়আতে কতজন লোক অংশ নিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ মদীনার আওস ও খাজরায গোত্রের ৭৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী এতে অংশ নিয়েছিলেন।
  47. প্রশ্নঃ নবীজী নবুওতের কত বছর মক্কায় অতিবাহিত করেন?
    উত্তরঃ ১৩ বছর।
  48. প্রশ্নঃ নবীজী কত বছর মদীনায় কাটান?
    উত্তরঃ ১০ বছর।
  49. প্রশ্নঃ কখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে হিজরতের আদেশ করা হয়?
    উত্তরঃ মক্কার কুরায়শগণ দারুন্নদওয়ায় বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে তারা একযোগে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে হত্যা করবে। তখন আল্লাহ তাকে মক্কা পরিত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করেন।
  50. প্রশ্নঃ নবীজী কখন মক্কা ছেড়ে মদীনায় হিজরত করেন?
    উত্তরঃ ছফর মাস ১ম হিঃ। ৬২২ খৃষ্টাব্দ।
  51. প্রশ্নঃ হিজরতের পূর্বে নবীজী কাকে তাঁর বিছানায় শায়িত রেখে গিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ আলী (রাঃ)কে।
  52. প্রশ্নঃ নবীজীর হিজরতের সময় সফর সঙ্গী কে ছিলেন?
    উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)।
  53. প্রশ্নঃ হিজরতের সময় তিনি কোন গুহায় কত দিন আত্মগোপন করেন?
    উত্তরঃ গারে ছাওরে। তিন দিন।
  54. প্রশ্নঃ হিজরতের সময় নবীজী রাস্তা দেখানোর জন্য একজন কাফেরকে পথপ্রদর্শক হিসেবে ভাড়া করে ছিলেন। তার নাম কি?
    উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন উরাইকাত।
  55. প্রশ্নঃ নবীজীকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য কাফেরগণ কি পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিল?
    উত্তরঃ ১০০ উট।
  56. প্রশ্নঃ নবীজীর উটনীর নাম কি ছিল?
    উত্তরঃ কাছওয়া।
  57. প্রশ্নঃ নবীজী কখন মদীনায় পৌঁছেন?
    উত্তরঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবু বকর (রাঃ) সোমবার দিন ৮ রবিউল আওয়াল প্রথম মদীনার কুবায় পৌঁছেন।
  58. প্রশ্নঃ নবীজি কখন মদীনায় প্রবেশ করেন?
    উত্তরঃ ১২ই রবিউল আওয়াল। শুক্রবার দিন।
  59. প্রশ্নঃ নবীজী মদীনায় গিয়ে কার বাড়িতে অবস্থান করেন?
    উত্তরঃ আবু আইয়্যুব আনছারীর (রাঃ) বাড়িতে।
  60. প্রশ্নঃ নবীজী সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মাণ করেন?
    উত্তরঃ মসজিদে কূবা।
  61. প্রশ্নঃ মদীনায় গিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্থানীয় ইহুদীদের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটাকে কি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
    উত্তরঃ মদীনার সনদ।
  62. প্রশ্নঃ নবীজী কতবার ওমরা করেন?
    উত্তরঃ চার বার।
  63. প্রশ্নঃ নবীজী কতবার হজ্জ করেন?
    উত্তরঃ একবার। বিদায় হজ্জ ১০ম হিজরী।
  64. প্রশ্নঃ বিদায় হজ্জে কতজন লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে হজ্জ করেছেন?
    উত্তরঃ ১ লক্ষ লোক। অন্য বর্ণনায় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার।
  65. প্রশ্নঃ নবীজী কতটি রামাযান রোযা রাখেন?
    উত্তরঃ নয়টি রামাযান।
  66. প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখন মৃত্যু বরণ করেন?
    উত্তরঃ ১২ই রবিউল আওয়াল। সোমবার। ১১ হিজরী।
  67. প্রশ্নঃ মৃত্যুর সময় নবীজীর বয়স কত ছিল?
    উত্তরঃ ৬৩ বছর।
  68. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে কোথায় দাফন করা হয়েছে?
    উত্তরঃ তাঁর নিজ গৃহে তথা আয়েশা (রাঃ) এর গৃহে।
  69. প্রশ্নঃ নবীজীর নামাযে জানাযা কে পড়িয়েছে?
    উত্তরঃ নির্দিষ্টভাবে কোন ইমাম ছিল না। এককভাবে লোকেরা আয়েশা (রাঃ)এর গৃহে প্রবেশ করেন এবং জানাযা পড়েন।

বিষয়ঃ যুদ্ধ-বিগ্রহ

  1. প্রশ্নঃ নবীজী কতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
    উত্তরঃ ২৭টি।
  2. প্রশ্নঃ নবীজী সর্ব প্রথম কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
    উত্তরঃ আল্‌ আব্‌ওয়া।
  3. প্রশ্নঃ নবীজী সর্বশেষ কোন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
    উত্তরঃ তাবুক যুদ্ধ। ৯ম হিজরী।
  4. প্রশ্নঃ বদর যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?
    উত্তরঃ ১৭ই রামাযান, শুক্রবার। ২য় হিজরী।
  5. প্রশ্নঃ বদর যুদ্ধে মুসলমান ও কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?
    উত্তরঃ মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা ৩১৩ জন। কাফের ১০০০ জন।
  6. প্রশ্নঃ এ যুদ্ধের ফলাফল কি ছিল?
    উত্তরঃ মুসলমানগণ ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করেন।
  7. প্রশ্নঃ কত জন কাফের নিহত হয় ও বন্দী হয় এবং কতজন মুসলমান শহীদ হয়?
    উত্তরঃ ৭০ জন নিহত হয় ও ৭০ জন বন্দী হয়। ১৪ জন মুসলমান শহীদ হন।
  8. প্রশ্নঃ এ যুদ্ধে কাফেরদের একজন বড় নেতা নিহত হয়। তার নাম কি?
    উত্তরঃ আবু জাহেল।
  9. প্রশ্নঃ আবু জাহেলকে কে হত্যা করে?
    উত্তরঃ মুআয বিন আমর ও মুআব্বেয বিন আফরা নামে দুজন কিশোর।
  10. প্রশ্নঃ কে আবু জাহেলের শিরোচ্ছেদ করে?
    উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ)।
  11. প্রশ্নঃ কোন যুদ্ধের দিনকে কুরআনে ইয়াউমুল ফুরকান বা সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী দিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে?
    উত্তরঃ বদর যুদ্ধের দিনকে।
  12. প্রশ্নঃ তৃতীয় হিজরীতে কোন যুদ্ধটি সংঘটিত হয়?
    উত্তরঃ উহুদ যুদ্ধ।
  13. প্রশ্নঃ কোন যুদ্ধে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর দাঁত শহীদ হয়?
    উত্তরঃ উহুদ যুদ্ধে।
  14. প্রশ্নঃ উহুদ যুদ্ধে মুসলমান ও কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?
    উত্তরঃ মুসলমান ৭০০ জন। কাফের ৩০০০ জন।
  15. প্রশ্নঃ এ যুদ্ধে কতজন মুসলমান শহীদ হন?
    উত্তরঃ ৭০ জন।
  16. প্রশ্নঃ চতুর্থ হিজরীতে ইহুদীদের সাথে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং ইহুদীদেরকে মদীনা থেকে বের করে দেয়া হয়। ইতিহাসে এ যুদ্ধের নাম কি?
    উত্তরঃ বানু নাযীরের যুদ্ধ।
  17. প্রশ্নঃ খন্দকের যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?
    উত্তরঃ পঞ্চম হিজরীতে।
  18. প্রশ্নঃ এ যুদ্ধকে খন্দকের যুদ্ধ বলে নামকরণের কারণ কি?
    উত্তরঃ এ জন্যে যে, মদীনার চারপাশে খন্দক বা পরিখা খনন করে শত্রুদের মোকাবেলা করা হয়েছে।
  19. প্রশ্নঃ এ যুদ্ধের আরেকটি নাম আছে। তা কি?
    উত্তরঃ আহযাবের যুদ্ধ।
  20. প্রশ্নঃ এ যুদ্ধকে আহযাবের যুদ্ধ হিসেবে নামকরণের কারণ কি?
    উত্তরঃ এজন্য যে, তখন আরবের অধিকাংশ গোত্র মুসলমানদের বিরূদ্ধে লড়াই করতে ঐক্যবদ্ধ হয়।
  21. প্রশ্নঃ খন্দকের যুদ্ধ কত দিন স্থায়ী ছিল?
    উত্তরঃ ৪০ দিন।
  22. প্রশ্নঃ এ যুদ্ধে কারা বিজয় লাভ করে?
    উত্তরঃ মুসলমানগণ।
  23. প্রশ্নঃ এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পবিত্র কুরআনে একটি সূরা নাযিল হয়। সূরাটির নাম কি?
    উত্তরঃ সূরা আহযাব।
  24. প্রশ্নঃ ৫ম হিজরীতে মদীনার আর এক ইহুদী গোত্রের সাথে যুদ্ধ হয়। গোত্রটির নাম কি?
    উত্তরঃ বানু কুরায়যা।
  25. প্রশ্নঃ নবী (সাঃ)এর হিজরতের ৬ বছরে কাফেরদের সাথে মুসলমানদের একটি সন্ধি-চুক্তি হয়। ইতিহাসে এটাকে কি নামে আখ্যা দেয়া হয়েছে?
    উত্তরঃ হুদায়বিয়ার সন্ধি।
  26. প্রশ্নঃ হুদায়বিয়ার সন্ধির আরেকটি নাম আছে। তা কি?
    উত্তরঃ বাইয়াতুর্‌ রিয্‌ওয়ান।
  27. প্রশ্নঃ হুদায়বিয়ার সন্ধিতে কতজন মুসলমান উপস্থিত ছিলেন?
    উত্তরঃ ১৪ শত।
  28. প্রশ্নঃ হুদায়বিয়ার সন্ধির ধারা সমূহ কি কি ছিল?
    উত্তরঃ হুদায়বিয়ার সন্ধির ধারা সমূহ:
    (ক) এ বছর রাসূল (সাঃ) সাহাবীদেরকে নিয়ে মক্কা প্রবেশ করতে পারবেন না। আগামী বছর তিন দিনের জন্য মক্কা আসতে পারবেন।
    (খ) দশ বছরের জন্য মুসলমান ও মক্কার কাফেরদের সাথে যুদ্ধ বিরতী।
    (গ) আরবের যে কোন গোত্র চুক্তিবদ্ধ যে কোন দলের (মুসলমান অথবা কাফেরদের) সাথে শামিল হতে পারে।
    (ঘ) কোন লোক যদি ইসলাম গ্রহণ করে মদীনা চলে যায়, তবে তাকে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু কোন লোক মুহাম্মাদের নিকট থেকে মক্কা পালিয়ে আসে, তবে তাকে ফেরত দেয়া হবে না।
  29. প্রশ্নঃ হুদায়বিয়ার সন্ধি ছিল মূলতঃ মুসলমানদের জন্যে একটি সুস্পষ্ট বিজয় এ সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ একটি সূরা নাযিল করেন। সূরাটির নাম কি?
    উত্তরঃ সূরা আল্‌ ফাতাহ।
  30. প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)যে সকল বাদশার নিকট পত্র প্রেরণ করেন তাদের তিন জনের নাম বল?
    উত্তরঃ হাবশার বাদশা নাজ্জাশী, পারস্যের বাদশা কিসরা, রোমের বাদশা কায়সার।
  31. প্রশ্নঃ কোন্‌ বাদশা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর পত্র ছিঁড়ে ফেলে। ফলে আল্লাহ তার রাজত্ব ধ্বংস করে দেন?
    উত্তরঃ পারস্যের বাদশা কিসরা।
  32. প্রশ্নঃ কোন্‌ বাদশা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর পত্র পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন?
    উত্তরঃ বাদশা নাজ্জাশী।
  33. প্রশ্নঃ কখন খায়বার বিজয় হয়?
    উত্তরঃ ৭ম হিজরীতে।
  34. প্রশ্নঃ খায়বার যুদ্ধটি কাদের সাথে ছিল?
    উত্তরঃ ইহুদীদের সাথে।
  35. প্রশ্নঃ খায়বার যুদ্ধে কত জন মুসলমান অংশ নিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ হুদায়বিয়ার সন্ধি থেকে প্রত্যাবর্তনকারী ১৪শত মুসলমান।
  36. প্রশ্নঃ খায়বার যুদ্ধে হতাহতের পরিমাণ কি ছিল?
    উত্তরঃ ৯৩জন ইহুদী নিহত হয়। মুসলমানদের মধ্যে শহীদ হন ১৬ জন।
  37. প্রশ্নঃ খায়বার থেকে ফেরার পথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুদ্ধ বন্দি এক ইহুদী সরদারের কন্যাকে মুক্ত করে দেন অতঃপর তাকে বিবাহ করেন। তাঁর নাম কি?
    উত্তরঃ উম্মুল মুমেনীন সফিয়্যা বিনতে হুওয়াই (রাঃ)।
  38. প্রশ্নঃ ৮ম হিজরীতে রোমান সৈন্যদের সাথে মুসলমানদের একটি বিশাল যুদ্ধ হয়। তার নাম কি?
    উত্তরঃ মূতার যুদ্ধ।
  39. প্রশ্নঃ মূতার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরপর তিনজন সেনাপতি নিয়োগ করেন। তারা সকলেই যুদ্ধে শহীদ হন। তারা কে কে ছিলেন?
    উত্তরঃ যায়দ বিন হারেছা, জাফার বিন আবী তালেব, আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রাঃ)।
  40. প্রশ্নঃ মূতার যুদ্ধে উভয় পক্ষে সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?
    উত্তরঃ মুসলমান ৩ হাজার। রোমান সৈন্য ২ লক্ষ।
  41. প্রশ্নঃ মূতার যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা কত ছিল?
    উত্তরঃ ১২ জন মুসলমান শহীদ হন। নিহত রোমানদের সংখ্যা কত ছিল তা প্রকৃতভাবে জানা যায় না। তবে তা সংখ্যায় অনেক ছিল।
  42. প্রশ্নঃ কোন্‌ সেনাপতির হাতে এ যুদ্ধে মুসলমানগণ জয়লাভ করেন?
    উত্তরঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)
  43. প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খালিদকে কি খেতাবে ভূষিত করেন?
    উত্তরঃ সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর কোষমুক্ত তরবারী।
  44. প্রশ্নঃ ৮ম হিজরীতে আরেকটি বড় বিজয় মুসলমানগণ লাভ করেন। তা কি?
    উত্তরঃ মক্কা বিজয়।
  45. প্রশ্নঃ মক্কা বিজয় কোন্‌ মাসে হয়েছিল?
    উত্তরঃ ১৭ রামাযান।
  46. প্রশ্নঃ মক্কা বিজয়ে কত জন মুসলমান অংশ নিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ ১০ হাজার।
  47. প্রশ্নঃ মক্কা বিজয়ের সময় কাফেরদের একজন বড় নেতা ইসলাম গ্রহণ করেন। তার নাম কি?
    উত্তরঃ আবু সুফিয়ান (রাঃ)।
  48. প্রশ্নঃ মক্কা বিজয়ের সময় জনৈক কাফের কাবা ঘরের গিলাফ ধরেছিল। তবুও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে হত্যা করার নির্দেশ প্রদান করেন। কারণ কি ছিল? কাফেরটির নাম কি ছিল?
    উত্তরঃ কেননা সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে গালি দিত। তার নাম ছিল আবদুল্লাহ বিন খাত্বাল।
  49. প্রশ্নঃ হুনায়ন যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?
    উত্তরঃ ৮ম হিজরীতে। শাওয়াল মাস।
  50. প্রশ্নঃ কোন সেই যুদ্ধ যেখানে কাফেরদের তুলনায় মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা বেশী ছিল?
    উত্তরঃ হুনায়ন যুদ্ধ।
  51. প্রশ্নঃ কোন্‌ সেই যুদ্ধ যেখানে কাফেরদের তুলনায় মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা বেশী থাকা সত্বেও প্রথমে মুসলমানগণ পরাজিত হয়, অতঃপর বিজয় লাভ করে?
    উত্তরঃ হুনায়ন যুদ্ধ।
  52. প্রশ্নঃ হুনায়ন যুদ্ধের কথা পবিত্র কুরআনের কোন্‌ সূরায় উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা তওবা, ২৫-২৬ নং আয়াত।
  53. প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবনের শেষ যুদ্ধ কোনটি ছিল?
    উত্তরঃ তাবুক যুদ্ধ।
  54. প্রশ্নঃ তাবুক যুদ্ধ কখন সংঘটিত হয়?
    উত্তরঃ ৯ম হিজরী। রজব মাস।
  55. প্রশ্নঃ কাদের বিরুদ্ধে তাবুক যুদ্ধ হয়?
    উত্তরঃ রোমানদের বিরুদ্ধে।
  56. প্রশ্নঃ তাবুক যুদ্ধে মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?
    উত্তরঃ ৩০ হাজার।
  57. প্রশ্নঃ তাবুক যুদ্ধের ফলাফল কি ছিল?
    উত্তরঃ এ যুদ্ধে শত্রুর সাথে সম্মুখ কোন লড়াই হয়নি। শত্রু বাহিনী মুসলমানদের আগমনে ভীত হয়ে আগ্রসর না হয়েই ফেরত যায়। এটা প্রকৃত পক্ষে মুসলমানদেরই বিজয়।
  58. প্রশ্নঃ ইসলামের ইতিহাসে কোন যুদ্ধের বাহিনীকে جيش العسرة জাইশুল উশরা বা কঠিন অভাবী বাহিনী বলা হয়?
    উত্তরঃ তাবুক যুদ্ধের মুসলিম বাহিনীকে।
  59. প্রশ্নঃ কোন্‌ সূরায় তাবুক যুদ্ধের ঘটনা উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ সূরা তওবা ৩৮-১২৯।
  60. প্রশ্নঃ তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতির সময় মুসলমানদের ধোকা দেয়ার জন্য মুনাফিকরা একটি মসজিদ নির্মাণ করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদটি ধ্বংস করে দেন। কুরআনে মসজিদটিকে কি নামে উল্লেখ করা হয়েছে?
    উত্তরঃ মসজিদে যেরার।
  61. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবদ্দশাতেই দুজন লোক নবুওতের দাবী করে তাদের নাম কি? তারা কোথাকার অধিবাসী?
    উত্তরঃ (১) বনু হানীফা গোত্রের মুসায়লামা। সে ইয়ামামার অধিবাসী। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে কায্‌যাব বা মিথ্যুক নামে আখ্যায়িত করেন। (২) আসওয়াদ আনাসী। সে ইয়ামানের অধিবাসী ছিল। নবীজীর মৃত্যুর একদিন এক রাত আগেই তাকে হত্যা করা হয়।
  62. প্রশ্নঃ বর্তমান যুগে জনৈক ভন্ড নবুওত দাবী করে। তার নাম কি এবং সে কোথাকার অধিবাসী?
    উত্তরঃ ভারতের কাদিয়ান নামক এলাকার গোলাম আহমাদ কাদীয়ানী, তার পিতার নামঃ গোলাম মোর্তজা ও মায়ের নাম চেরাগ বিবি।
  63. প্রশ্নঃ বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক আলোড়ন সৃষ্টিকারী রাবেতা আলমের পক্ষ থেকে প্রথম পুরস্কার প্রাপ্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবনী গ্রন্থের নাম কি?
    উত্তরঃ আর্‌ রাহীকুল মাখতূম। (বইটি বাংলায় পাওয়া যায়)
  64. প্রশ্নঃ আর্‌ রাহীকুল মাখতূম গ্রন্থের লেখক কে?
    উত্তরঃ শায়খ সফিউর রহমান মোবারকপুরী (রহঃ) মৃত্যুঃ ১৪২৭হিঃ।
    Developed by
    Home
    ইসলামিক
    সাধারণ
    জ্ঞান
    বিষয়: নবী-রাসূল
  65. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম নবী কে?
    উত্তরঃ আদম (আঃ)।
  66. প্রশ্নঃ কোন নবীর পিতা-মাতা কেউ ছিল না?
    উত্তরঃ আদম (আঃ)।
  67. প্রশ্নঃ আদম (আঃ)এর শারিরীক দৈর্ঘ কত ছিল?
    উত্তরঃ ৬০ হাত।
  68. প্রশ্নঃ কোন নবী পিতা ছাড়াই মায়ের গর্ভে এসেছিলেন?
    উত্তরঃ ঈসা (আঃ)।
  69. প্রশ্নঃ কোন নবী নিজ জাতিকে ৯৫০ (সাড়ে নয়শত) বছর দাওয়াত দেন?
    উত্তরঃ নূহ (আঃ)।
  70. প্রশ্নঃ কোন নবীর মোজেযা চিরন্তন, যা কখনো বিলীন হবে না। উহা কি?
    উত্তরঃ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। উহা হচ্ছে আল কুরআন।
  71. প্রশ্নঃ কোন নবীকে আল্লাহ দীর্ঘকাল কঠিন অসুখ দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন? কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন?
    উত্তরঃ আইয়্যুব (আঃ)।
  72. প্রশ্নঃ কোন নবী পশু-পাখী, বাতাসের সাথে কথা বলতেন?
    উত্তরঃ সুলাইমান (আঃ)।
  73. প্রশ্নঃ পিতা-পুত্র উভয়েই নবী। কিন্তু উভয়কেই ইহুদীরা হত্যা করেছিল?
    উত্তরঃ যাকারিয়া ও ইয়াহইয়া (আঃ)।
  74. প্রশ্নঃ কোন নবীকে আল্লাহ আসমানী কিতাব যাবুর দিয়েছিলেন এবং লোহা তাঁর হাতে নরম হয়ে যেত?
    উত্তরঃ দাউদ (আঃ)।
  75. প্রশ্নঃ “উলুল আযমে মিনার্‌ রুসুল” বা দৃঢ়পদ সম্পন্ন নবী কাদেরকে বলা হয়?
    উত্তরঃ তাঁরা হচ্ছেন পাঁচ জন: নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিম ওয়া সাল্লাম)।
  76. প্রশ্নঃ কোন চারজন নবী সকলেই আরব বংশদ্ভূত?
    উত্তরঃ হুদ, ছালেহ, শুআইব ও মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহিম ওয়া সাল্লাম)।
  77. প্রশ্নঃ কোন দুজন সহোদর ভাই দুজনই নবী?
    উত্তরঃ ইসমাঈল ও ইসহাক এবং মূসা ও হারূন (আঃ)
  78. প্রশ্নঃ কোন নবীকে মাছে গিলে ফেলেছিল? দুআ করার পর আল্লাহ তাকে মুক্তি দিয়েছেন?
    উত্তরঃ ইউনুস (আঃ)
  79. প্রশ্নঃ কোন দুজন নবীর স্ত্রীরা কাফের ছিল?
    উত্তরঃ নূহ ও লূত (আঃ)
  80. প্রশ্নঃ কোন নবীকে আল্লাহ আদ জাতির নিকট প্রেরণ করেছিলেন?
    উত্তরঃ হুদ (আঃ)।
  81. প্রশ্নঃ কোন দুজন নবীকে বৃদ্ধ বয়সে আল্লাহ সন্তান দিয়েছিলেন? অথচ তাদের স্ত্রীগণ বন্ধ্যা ছিলেন?
    উত্তরঃ ইবরাহীম ও যাকারিয়া (আঃ)
  82. প্রশ্নঃ কোন নবীর ছেলেকে কুফরীর কারণে আল্লাহ ডুবিয়ে মেরেছিলেন?
    উত্তরঃ নূহ (আঃ) এর ছেলে কেনানকে।
  83. প্রশ্নঃ কোন নবীর সমপ্রদায়ের লোকেরা ওযনে কম দেয়ায় খ্যাতি অর্জন করেছিল?
    উত্তরঃ শুআইব (আঃ)এর সমপ্রদায়ের লোকেরা।
  84. প্রশ্নঃ পবিত্র কুরআনে কয়জন নবীর নাম উল্লেখ আছে?
    উত্তরঃ ২৫ জন।
  85. প্রশ্নঃ কুরআনে উল্লেখিত পঁচিশ জন নবীর নাম উল্লেখ কর।
    উত্তরঃ আদম (আঃ), ইদরীস (আঃ), নূহ (আঃ), হূদ (আঃ), ছালেহ (আঃ), ইবরাহীম আঃ), লূত (আঃ), ইসমাঈল (আঃ), ইসহাক্ব (আঃ), ইয়াকূব (আঃ), ইউসূফ (আঃ), শুআইব (আঃ), আইয়্যুব (আঃ), যুলকিফল (আঃ), মূসা (আঃ) হারূন (আঃ), দাউদ (আঃ), সুলাইমান (আঃ), ইল্‌য়াস আঃ), আলইয়াসা (আঃ), ইউনুস (আঃ), যাকারিয়া (আঃ), ইয়াহইয়া (আঃ), ঈসা (আঃ) ও মুহাম্মাদ (স.)।
  86. প্রশ্নঃ মারইয়াম বিনতে ইমরান কোন নবীর দায়িত্বে প্রতিপালিত হন?
    উত্তরঃ যাকারিয়া (আঃ)।
  87. প্রশ্নঃ কোন নবী কাঠুরে ছিলেন?
    উত্তরঃ যাকারিয়া (আঃ)।
  88. প্রশ্নঃ কোন নবী বৃদ্ধাবস্থায় আল্লাহর কাছে সন্তান চেয়েছিলেন? আর আল্লাহ তাঁর প্রার্থনাও মঞ্জুর করেছিলেন।
    উত্তরঃ যাকারিয়া (আঃ)।
  89. প্রশ্নঃ কোন্‌ নারী বন্ধ্যা ও বৃদ্ধা হওয়ার পরও সন্তান লাভ করেছিলেন?
    উত্তরঃ যাকারিয়া (আঃ) এর স্ত্রী।
  90. প্রশ্নঃ কোন নবীকে বলা হয় আল্লাহর কালেমা ও তাঁর রূহ?
    উত্তরঃ ঈসা (আঃ)।
  91. প্রশ্নঃ জনৈক মহিয়সী রমণী ও তাঁর সন্তানকে পবিত্র কুরআনে “জগতবাসীর জন্য নিদর্শন হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে”? তাঁরা কে কে?
    উত্তরঃ মারিয়াম বিনতে ঈমরান ও তাঁর সন্তান ঈসা (আঃ)।
  92. প্রশ্নঃ ইউসূফ (আঃ) এর সহদোর ভাইয়ের নাম কি ছিল?
    উত্তরঃ বেনিয়ামীন।
  93. প্রশ্নঃ কোন নবী নিজের হাতে রোজগার করে সংসার চালাতেন?
    উত্তরঃ দাউদ (আঃ) ।
  94. প্রশ্নঃ কোন নবী সারাবছর একদিন রোযা রাখতেন, আরেকদিন রাখতেন না?
    উত্তরঃ দাউদ (আঃ)।
  95. প্রশ্নঃ দাউদ (আঃ)কে কোন গ্রন্থ দেয়া হয়েছে?
    উত্তরঃ যাবুর।
  96. প্রশ্নঃ ইউনূস (আঃ)কে কোন জাতির নিকট নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল?
    উত্তরঃ নিনুওয়া এলাকার লোকদের নিকট।
  97. প্রশ্নঃ কোন্‌ নবী জেল খেটেছেন?
    উত্তরঃ ইউসুফ (আঃ)।
  98. প্রশ্নঃ ইউসুফ নবীর জেল খাটার কারণ কি?
    উত্তরঃ মিসরের রাণীর অন্যায় আবদার প্রত্যাখ্যান করার কারণে।
  99. প্রশ্নঃ ইউসুফ (আঃ) কতদিন জেল খেটেছেন?
    উত্তরঃ ৭ বছর।
  100. প্রশ্নঃ কোন মহান ব্যক্তি নিজে নবী ছিলেন, তাঁর পিতা, তাঁর দাদা এবং পরদাদাও নবী ছিলেন?
    উত্তরঃ ইউসুফ (আঃ)। তাঁর পিতা ইয়াকূব (আঃ), দাদা ইসহাক (আঃ) ও পরদাদা ইবরাহীম (আঃ)।
  101. প্রশ্নঃ কোন নবী মিসরের খাদ্য মন্ত্রী হয়েছিলেন?
    উত্তরঃ ইউসুফ (আঃ)
  102. প্রশ্নঃ যে রমণী ইউসুফ (আঃ)কে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিলেন তার নাম কি?
    উত্তরঃ জুলাইখা।
  103. প্রশ্নঃ কোন নবীকে ছামূদ জাতীর নিকট প্রেরণ করা হয়?
    উত্তরঃ ছালেহ (আঃ)কে।
  104. প্রশ্নঃ ছালেহ (আঃ) এর মোজেযা কি ছিল?
    উত্তরঃ উটনী।
  105. প্রশ্নঃ নূহের সমপ্রদায়কে তুফান দ্বারা ধ্বংস করার পর সর্বপ্রথম কোন নবীর সমপ্রদায়ের লোকেরা মূর্তি পুজায় লিপ্ত হয় এবং আল্লাহ তাদেরকে প্রচন্ড ঝড় দ্বারা ধ্বংস করে দেন?
    উত্তরঃ হূদ (আঃ)।
  106. প্রশ্নঃ কোন নবীকে আবুল আম্বিয়া বা নবীদের পিতা বলা হয়?
    উত্তরঃ ইবরাহীম (আঃ)।
  107. প্রশ্নঃ কোন নবীর জীবনের বিনিময়ে আল্লাহ বিরাট একটি প্রাণী প্রেরণ করেছিলেন?
    উত্তরঃ ইসমাঈল (আঃ)
  108. প্রশ্নঃ ইবরাহীম (আঃ) যখন ইসমাঈলকে যবেহ করার জন্য নিজের সিদ্ধান্তের কথা বললেন, তখন ইসমাঈল (আঃ) জবাবে কি বলেছিলেন?
    উত্তরঃ “পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করুন। আল্লাহ চাহেতো আপনি আমাকে ধৈর্য ধারণকারী পাবেন।” (সূরা সাফাতঃ ১০২)
  109. প্রশ্নঃ ইবরাহীম (আঃ)এর পিতার নাম কি ছিল? তার কাজ কি ছিল?
    উত্তরঃ আযর। সে মুর্তি বানাত ও বিক্রি করত।
  110. প্রশ্নঃ কোন নবীকে তাঁর সমপ্রদায়ের লোকেরা আগুনে নিক্ষেপ করেছিল?
    উত্তরঃ ইবরাহীম (আঃ)।
  111. প্রশ্নঃ কোন নবীকে খালিলুল্লাহ বলা হয়?
    উত্তরঃ ইবরাহীম (আঃ)কে।
  112. প্রশ্নঃ কোন্‌ নবী সর্বপ্রথম মানুষকে বায়তুল্লাহর হজ্জ করার জন্য আহবান করেন?
    উত্তরঃ ইবরাহীম (আঃ)।
  113. প্রশ্নঃ কোন্‌ বাদশা ইবরাহীম (আঃ)কে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে?
    উত্তরঃ নমরূদ।
  114. প্রশ্নঃ কি অপরাধে ইবরাহীম (আঃ)কে আগুনে নিক্ষপ করা হয়েছিল?
    উত্তরঃ তিনি মূর্তী ভেঙ্গেছিলেন।
  115. প্রশ্নঃ কোন নবী তাঁর ছেলেকে সাথে নিয়ে কাবা ঘর নির্মাণ করেন?
    উত্তরঃ ইবরাহীম (আঃ) তাঁর ছেলে ইসমাঈল (আঃ)কে নিয়ে কাবা ঘর নির্মাণ করেন।
  116. প্রশ্নঃ ইবরাহীম (আঃ)এর স্ত্রী এবং ইসহাক (আঃ)এর মাতা তাঁর নাম কি?
    উত্তরঃ সারা।
  117. প্রশ্নঃ ইবরাহীম (আঃ)এর কোন ছেলেকে আল্লাহ যবেহ করার আদেশ করেছিলেন?
    উত্তরঃ ইসমাঈল (আঃ)কে।
  118. প্রশ্নঃ ইসমাঈল (আঃ)এর মাতার নাম কি?
    উত্তরঃ হাজেরা।
  119. প্রশ্নঃ ইসমাঈল (আঃ) মক্কায় যেখানে থাকতেন সে জায়গাটার নাম কি?
    উত্তরঃ কাবা ঘরের হাতীমে তিনি থাকতেন। জায়গাটির আরেক নাম হিজরে ইসমাঈল।
  120. প্রশ্নঃ ইবরাহীম (আঃ) পুত্র ইসমাঈলকে যবেহ করার জন্য কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ মিনায়।
  121. প্রশ্নঃ ইবরাহীম (আঃ) কোথায় জন্ম গ্রহণ করেন?
    উত্তরঃ ইরাকে।
  122. প্রশ্নঃ ইবরাহীম (আঃ) কোথায় বসতি স্থাপন করেন?
    উত্তরঃ ফিলিস্তিনে।
  123. প্রশ্নঃ ইবরাহীম (আঃ) নিজ স্ত্রী ও শিশু সন্তান ইসমাঈল কোথায় রেখে আসেন? তখন সে জায়গার অবস্থা কেমন ছিল?
    উত্তরঃ মক্কায়। তখন মক্কা জনমানবহীন স্থান ছিল।
  124. প্রশ্নঃ কোন নবী জন্ম লাভের পর, তার মাতা তাকে বাক্সে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন এবং কেন?
    উত্তরঃ মূসা (আঃ)। এ জন্যে যে, জালেম বাদশা ফেরাউন বানী ইসরাঈলের সকল শিশুপুত্রকে হত্যা করার নির্দেশে দিয়েছিল।
  125. প্রশ্নঃ কোন নবী নিজ শত্রুর বাড়ীতে লালিত-পালিত হন?
    উত্তরঃ মূসা (আঃ)।
  126. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ)কে কোন কাফের বাদশার নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল?
    উত্তরঃ ফেরাউনের নিকট।
  127. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ) লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করলে কতটি ঝর্ণা নির্গত হয়েছিল?
    উত্তরঃ ১২টি।
  128. প্রশ্নঃ কোন নবী আল্লাহকে দেখতে চেয়েছিলেন?
    উত্তরঃ মূসা (আঃ)।
  129. প্রশ্নঃ ফেরাউন তার দলবল নিয়ে কোন্‌ সময় মূসা (আঃ) ও তাঁর সাথীদেরকে ধাওয়া করে?
    উত্তরঃ সূর্য উঠার সময়। (সূরা শুআরাঃ ৬০ নং আয়াত)
  130. প্রশ্নঃ ফেরাউন তার দলবল নিয়ে মূসা (আঃ) ও তাঁর সাথীদের ধাওয়া করে আসলে, লোকেরা বলেছিল “আমরা তো ধরা পড়ে গেলাম” তখন মূসা (আঃ) জবাবে কি বলেছিলেন?
    উত্তরঃ “তিনি বললেন, কখনই নয়; নিশ্চয় আমার পালনকর্তা আমার সাথে আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।” (সূরা শুআরাঃ ৬২)
  131. প্রশ্নঃ কোন নবী সর্বপ্রথম জ্ঞান শিক্ষার জন্য সফর করেন এবং কার কাছে?
    উত্তরঃ মূসা (আঃ)। খিজির (আঃ)এর কাছে। (সূরা কাহাফঃ ৬০-৮২)
  132. প্রশ্নঃ ফেরাউন মূসা (আঃ) ও তার দলবলকে ধাওয়া করে আসলে তারা কিভাবে মুক্তি পান?
    উত্তরঃ মূসা (আঃ) হাতের লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত করলে সেখানে ১২টি শুকনো রাস্তা হয়ে যায়। সেই রাস্তা দিয়ে তারা নির্বিঘ্নে পার হয়ে যান।
  133. প্রশ্নঃ আল্লাহ তাআলা কিভাবে ফেরাউনকে ধ্বংস করেন?
    উত্তরঃ মূসাকে ধাওয়া করতে গিয়ে তাঁর পিছনে পিছনে সমুদ্রের শুকনো রাস্তায় নামলে আল্লাহ তাকে ডুবিয়ে মারেন।
  134. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ)কে আল্লাহ কি কি মোজেযা দিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ লাঠি, শুভ্র হাত, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত, দুর্ভিক্ষ, সমুদ্র, তুফান, ফড়িং।
  135. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ)এর হাতের লাঠিতে কি ধরণের মোজেযা ছিল?
    উত্তরঃ লাঠিটা মাটিতে রেখে দিলে তা বিশাল বড় সাপে পরিণত হত।
  136. প্রশ্নঃ কোন নবী মূসা (আঃ)এর উযীর ছিলেন?
    উত্তরঃ হারূন (আঃ)।
  137. প্রশ্নঃ কোন নবীকে কালীমুল্লাহ (আল্লাহর সাথে বাক্যালাপকারী) বলা হয়?
    উত্তরঃ মূসা (আঃ)কে।
  138. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ) কোথায় আল্লাহর সাথে বাক্যালাপ করেন?
    উত্তরঃ তূর পাহাড়ে।
  139. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ) একজন কিবতীকে হত্যা করেছিলেন। কখন তিনি এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ নবুওতের পূর্বে। (সূরা শুআরাঃ ১৯ ও ২০)
  140. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ)কে আল্লাহ কোন কিতাব প্রদান করেছেন?
    উত্তরঃ তাওরাত।
  141. প্রশ্নঃ আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)কে তাওরাত কিতাব কোথায় প্রদান করেছিলেন?
    উত্তরঃ তূর পাহাড়ে।
  142. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ)এর সমপ্রদায় বানী ইসরাঈলের মাথার উপর আল্লাহ কোন্‌ পাহাড় উঠিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ তূর পাহাড়।
  143. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ) যখন তূর পাহাড়ে গমণ করেন, তখন তাঁর অনুসারীরা একটি শির্কে লিপ্ত হয়েছিল। সেটা কি?
    উত্তরঃ তারা বাছুর পুজায় লিপ্ত হয়েছিল।
  144. প্রশ্নঃ কে তাদেরকে বাছুর পুজায় উদ্বুদ্ধ করেছিল?
    উত্তরঃ সামেরী নামক একজন লোক।
  145. প্রশ্নঃ কোন নবীর নাম পবিত্র কুরআনে সবচেয়ে বেশী সংখ্যায় উল্লেখ হয়েছে?
    উত্তরঃ মূসা (আঃ)
  146. প্রশ্নঃ মূসা নবীর নাম পবিত্র কুরআনে কতবার উল্লেখ হয়েছে?
    উত্তরঃ ১৩১ বার।
  147. প্রশ্নঃ বনী ইসরাঈলের প্রথম ও শেষ নবীর নাম কি?
    উত্তরঃ তাদের প্রথম নবী মূসা ও শেষ নবী ঈসা (আঃ)।
  148. প্রশ্নঃ কোন্‌ নবী সর্বপ্রথম কাপড় সিলাই করে পরিধান করেন?
    উত্তরঃ ইদরীস (আঃ)।
  149. প্রশ্নঃ কোন্‌ নবীর উপাধী ছিল ইসরাঈল?
    উত্তরঃ ইয়াকূব (আঃ)।
  150. প্রশ্নঃ কোন নবীর উম্মাত বলেছিল “আপনি যদি সত্যবাদী হন, তবে আমাদের উপর আসমান থেকে শাস্তি নাযিল করুন”?
    উত্তরঃ শুআইব (আঃ) এর উম্মাত। (সূরা শুআরাঃ ১৮৭)
  151. প্রশ্নঃ কোন্‌ নবী নিজ উম্মাতের উপর বদদুআ করেছিলেন, ফলে তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে?
    উত্তরঃ নূহ (আঃ)। (সূরা নূহঃ ২৬)
  152. প্রশ্নঃ মূসা (আঃ) কেন মিসর ছেড়ে মাদায়েন শহরে চলে গিয়েছিলেন?
    উত্তরঃ এ জন্যে যে তিনি একজন কিবতীকে হত্যা করেছিলেন। (সূরা কাসাসঃ ১৫)
  153. প্রশ্নঃ দুজন নবী তাঁদের সন্তানদের উদ্দেশ্যে যে নসীহত করেছেন তা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, “হে আমার সন্তানগণ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য দ্বীন ইসলামকে মনোনিত করেছেন। অতএব তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যু বরণ করো না”। নবী দুজন কে কে?
    উত্তরঃ ইবরাহীম ও ইয়াকূব (আঃ)। (সূরা বাকারাঃ ১৩২)
  154. প্রশ্নঃ পূর্ববর্তী জাতীর মধ্যে কোন জাতী সবচেয়ে বেশী শক্তিশালী ছিল?
    উত্তরঃ আদ জাতী। (সূরা ফুস্‌সিলাতঃ ১৫)
  155. প্রশ্নঃ একজন নবী আরেক নবীর কাছে তাঁর কন্যাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব করেন। সেই নবী দুজনের নাম কি?
    উত্তরঃ শুআইব (আঃ) মূসা (আঃ)এর নিকট প্রস্তাব পেশ করেন।
  156. প্রশ্নঃ আল্লাহর একজন নবী কাফেরদের হেদায়াতের পথে আনতে না পেরে নিজের দুর্বলতার বিষয় উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন, “আমি পরাজিত, আপনি আমাকে সাহায্য করুন”? কে ছিলেন সেই নবী?
    উত্তরঃ নূহ (আঃ)। (সূরা কামারঃ ১০)
  157. প্রশ্নঃ কোন নবীর সমপ্রদায় আল্লাহকে দেখার আবেদন করেছিল?
    উত্তরঃ মূসা (আঃ) এর সমপ্রদায়।
  158. প্রশ্নঃ কোন দুজন নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর আগমণের ব্যাপারে সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন?
    উত্তরঃ ইবরাহীম ও ঈসা (আঃ)।
  159. প্রশ্নঃ ইয়াকূব (আঃ)এর আরেক নাম কি?
    উত্তরঃ ইসরাইল।
  160. প্রশ্নঃ ইউনূস (আঃ)এর আরেক নাম কি ?
    উত্তরঃ যুন্‌ নূন।
  161. প্রশ্নঃ ঈসা (আঃ)এর আরেক নাম কি?
    উত্তরঃ মাসীহ।
  162. প্রশ্নঃ কোন্‌ কোন্‌ নবীর নাম জন্মের পূর্বেই রাখা হয়েছে?
    উত্তরঃ যেসব নবীর নাম জন্মের পূর্বেই রাখা হয়েছে তাদের নাম নিচে দেয়া হলোঃ
    (ক) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্মের পূর্বেই তাঁর নাম রাখা হয়েছে আহমাদ (সূরা সফঃ ৬)।
    (খ) ইয়াহইয়া (আঃ) (সূরা মারইয়ামঃ ৭)
    (গ) ঈসা (আঃ) (সূরা আল ঈমরানঃ ৪৫)
    (ঘ) ইসহাক (আঃ) ও ইয়াকূব (আঃ) (সূরা হূদঃ ৭১)
  163. প্রশ্নঃ আদম ও শীছ (আঃ)এর পর যিনি নবী হিসেবে এসেছেন তিনি সর্বপ্রথম কলম দ্বারা লিখেন। আল্লাহ তাঁকে সিদ্দীক হিসেবে কুরআনে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর নাম কি?
    উত্তরঃ ইদরীস (আঃ)।
  164. প্রশ্নঃ পূর্ববর্তী সমস্ত নবীর অধিকাংশ উম্মত তাঁদের সাথে কুফরী করেছে, তাঁরা যে মিশন নিয়ে এসেছিলেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু একজন নবীর উম্মত সবাই ঈমান এনেছিলেন। সেই নবীর নাম কি?
    উত্তরঃ ইউনুস (আঃ)। (সূরা ইউনুসঃ ৯৮)
  165. প্রশ্নঃ একজন নবীকে কিশোর অবস্থাতেই আল্লাহ জ্ঞানী করেছিলেন এবং তাকে তাওরাতের শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি কে?
    উত্তরঃ ইয়াহইয়া (আঃ)। (সূরা মারইয়ামঃ ১২)
  166. প্রশ্নঃ কোন নবী সম্পর্কে তাঁর জন্মের পূর্বেই বিজ্ঞ বলে সুসংবাদ দেয়া হয়েছিল?
    উত্তরঃ ইসমাঈল (আঃ)। (সূরা হিজরঃ ৫৩)

বিষয়: সাহাবায়ে কেরাম (রা:)


৪৪২. প্রশ্নঃ সাহাবী কাকে বলে?
উত্তরঃ যাঁরা ঈমানের সাথে নবী (সাঃ)এর সাথে সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং ঈমানের উপর অটল থেকে মৃত্যু বরণ করেছেন তাঁদেরকে বলা হয় সাহাবী।
৪৪৩. প্রশ্নঃ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী কে কে?
উত্তরঃ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীগণ হলেনঃ
(০১) আবু বকর (রাঃ)
(০২) ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
(০৩) ঊছমান বিন আফ্‌ফান (রাঃ)
(০৪) আলী বিন আবী তালেব (রাঃ)
(০৫) আবদুর রহমান বিন আউফ (রাঃ)
(০৬) সাঈদ বিন যায়েদ (রাঃ)
(০৭) সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)
(০৮) আবু উবাইদা ইবনুল জার্‌রাহ (রাঃ)
(০৯) ত্বলহা বিন উবাইদুল্লাহ (রাঃ)
(১০) যুবাইর বিন আওয়াম (রাঃ)
৪৪৪. প্রশ্নঃ ইসলামের চার খলীফার নাম কি?
উত্তরঃ ইসলামের চার খলীফাগণ হলেনঃ
১) আবু বকর (রাঃ)
২) ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
৩) উছমান বিন আফ্‌ফান (রাঃ)
৪) আলী বিন আবী তালেব (রাঃ)
৪৪৫. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সম্পর্কে নবী (সাঃ) বলেন, আমার পরে নবী এলে তিনি হতেন? কিন্তু আমার পর কোন নবী নেই।
উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)।
৪৪৬. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে বলা হয় যুন্‌নূরাইন?
উত্তরঃ উছমান বিন আফ্‌ফান (রাঃ)।
৪৪৭. প্রশ্নঃ কেন উছমান বিন আফ্‌ফান (রাঃ) কে যুন্‌নূরাইন বলা হত?
উত্তরঃ এজন্যে যে তিনি নবী (সাঃ) এর দুকন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। (প্রথমে যায়নাব, তাঁর মৃত্যুর পর উম্মে কুলছুম রাঃকে বিবাহ করেছিলেন)
৪৪৮. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর উপাধী ছিল আবু তুরাব?
উত্তরঃ আলী (রাঃ)।
৪৪৯. প্রশ্নঃ কোন্‌ সাহাবীকে দেখলে ফেরেশতারা লজ্জিত হতেন?
উত্তরঃ উছমান বিন আফ্‌ফান (রাঃ)। তিনি ছিলেন খুবই লাজুক।
৪৫০.প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর ঈমানের সাথে সমস্ত মানুষের ঈমান ওযন করলে তাঁর ঈমানের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)
৪৫১.প্রশ্নঃ আবু বকর (রাঃ) এর প্রকৃত নাম কি?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন উছমান (রাঃ)।
৪৫২. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী নবী (সাঃ) এর দশ বছর খিদমত করেন?
উত্তরঃ আনাস বিন মালেক (রাঃ)
৪৫৩.প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে বলা হত জীবন্ত শহীদ?
উত্তরঃ ত্বলহা বিন উবাইদুল্লাহ (রাঃ)।
৪৫৪. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে বলা হত উড়ন্ত শহীদ?
উত্তরঃ জাফার বিন আবী তালেব (রাঃ)।
৪৫৫. প্রশ্নঃ ফেরেশ্‌তাগণ কোন সাহাবীর গোসল দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ হানযালা (রাঃ)।
৪৫৬. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে বলা হত সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর তরবারী?
উত্তরঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)।
৪৫৭.প্রশ্নঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ কোন্‌ যুদ্ধে নয়টি তরবারী ভেঙ্গেছিলেন?
উত্তরঃ মূতার যুদ্ধে।
৪৫৮. প্রশ্নঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ কোন যুদ্ধে সাইফুল্লাহ উপাধী লাভ করেছিলেন?
উত্তরঃ মূতার যুদ্ধে।
৪৫৯. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) গোপন বিষয় জানাতেন?
উত্তরঃ হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ)।
৪৬০. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর সময় ফতোয়া দিতেন?
উত্তরঃ মুআয বিন জাবাল (রাঃ)।
৪৬১. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল?
উত্তরঃ সাদ বিন মুআয (রাঃ)
৪৬২. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে জান্নাতের আটটি দরজা থেকেই আহবান করা হবে?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)।
৪৬৩. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে সাইয়্যেদুশ্‌ শোহাদা বলা হয়?
উত্তরঃ হামযা বিন আবদুল মুত্তালেব (রাঃ)
৪৬৪. প্রশ্নঃ হামযা (রাঃ) কোন যুদ্ধে শহীদ হন?
উত্তরঃ উহুদ যুদ্ধে।
৪৬৫.প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে নবী (সাঃ) ইসলামের প্রথম দূত (শিক্ষক) হিসেবে মদীনায় প্রেরণ করেন?
উত্তরঃ মুসআব বিন উমাইর (রাঃ)।
৪৬৬. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী নবী (সাঃ)এর চাচা এবং দুধ ভাই ছিলেন?
উত্তরঃ হামযা বিন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)।
৪৬৭.প্রশ্নঃ নবী (সাঃ) মেরাজে গিয়ে কোন সাহাবীর পায়ের আওয়ায শুনতে পান?
উত্তরঃ বেলাল বিন রাবাহ (রাঃ)।
৪৬৮. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী ইসলামের প্রথম মুআয্‌যিন ছিলেন?
উত্তরঃ বেলাল বিন রাবাহ (রাঃ)।
৪৬৯. প্রশ্নঃ নবী (সাঃ) এর কতজন মুআয্‌যিন ছিলেন?
উত্তরঃ তিনজন। বেলাল বিন রাবাহ, আবদুল্লাহ বিন উম্মে মাকতূম ও আবু মাহযূরা (রাঃ)
৪৭০. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন সাহাবীর নিকট থেকে কুরআন তেলাওয়াত শুনেছেন?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ)
৪৭১. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সূরা বাকারা তেলাওয়াত করার সময় আসমান থেকে ফেরেশতা নাযিল হয়েছিল?
উত্তরঃ উসাইদ বিন হুযাইর (রাঃ)।
৪৭২. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে তরজুমানুল কুরআন (কুরআনের অনুবাদক) ও সাইয়্যেদুল মুফাস্‌সিরীন (শ্রে তাফসীরকারক) বলা হত?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ)।
৪৭৩. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুআ করেছিলেন, “হে আল্লাহ তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান কর এবং কুরআনের তাফসীর শিক্ষা দান কর”?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ)
৪৭৪. প্রশ্নঃ কোন তিনজন সাহাবী তাবুক যুদ্ধে অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিলেন?
উত্তরঃ তাবুক যুদ্ধে অংশ না নেয়া তিনজন সাহাবীগণ হলেনঃ
(১) মুরারা বিন রাবীআ
(২) কাব বিন মালেক
(৩) হিলাল বিন উমাইয়্যা (রাঃ)
৪৭৫.প্রশ্নঃ কোন সাহাবী দুআ করলেই আল্লাহ কবূল করতেন?
উত্তরঃ সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)।
৪৭৬. প্রশ্নঃ জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন সাহাবীর মধ্যে সবশেষে কার মৃত্যু হয়?
উত্তরঃ সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)।
৪৭৭. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী নবী (সাঃ)এর মামা ছিলেন?
উত্তরঃ সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)।
৪৭৮. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে নবী (সাঃ)এর কবি বলা হত?
উত্তরঃ হাস্‌সান বিন ছাবেত (রাঃ)।
৪৭৯. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সম্পর্কে নবী (ছাঃ) বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে হালাল-হারাম সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী।?
উত্তরঃ মুআয বিন জাবাল (রাঃ)।
৪৮০.প্রশ্নঃ বদর যুদ্ধে জনৈক সাহাবীর তরবারী ভেঙ্গে গেলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার হাতে একটি ডাল তুলে দেন। ডালটি তরবারির কাজ করে। সাহাবীর নাম কি?
উত্তরঃ উক্কাশা বিন মেহসান (রাঃ)।
৪৮১. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি দুনিয়া ও আখেরাতে আমার ভাই?
উত্তরঃ আলী বিন আবু তালেব (রাঃ)।
৪৮২. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের পূর্বে ওমরা করার অনুমতি দেন? তিনি প্রকাশ্যে তালবিয়া পড়ে মক্কা প্রবেশ করেন কিন্তু মুশরেকরা বাধা দেয়ার সাহস পায়নি।
উত্তরঃ ছুমামা বিন আছাল (আঃ)।
৪৮৩. প্রশ্নঃ কোন খলীফাকে পঞ্চম খোলাফায়ে রাশেদা বলা হয়?
উত্তরঃ উমাইয়া খলীফা ওমর বিন আবুদল আযীয (রহঃ)কে।
৪৮৪. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কোন সাহাবী রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ইসলামী অভিভাদন সালাম প্রদান করেন?
উত্তরঃ আবু যর গিফারী (রাঃ)
৪৮৫. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “প্রত্যেক নবীর একজন বিশেষ সাহায্যকারী থাকে, আমার সাহায্যকারী হচ্ছে..?
উত্তরঃ যুবাইর বিন আওয়াম (রাঃ)
৪৮৬. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে খোঁড়া শহীদ বলা হয়?
উত্তরঃ আমর বিন জামূহ (রাঃ)। কেননা তিনি খোঁড়া অবস্থায় উহুদ যুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছিলেন।
৪৮৭. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে রাস্তা দিয়ে চলতে দেখলে শয়তান অন্য রাস্তা দিয়ে চলত?
উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)।
৪৮৮. প্রশ্নঃ ওমর (রাঃ) কে ফারূক্ব নামে অভিহিত করার কারণ কি ছিল?
উত্তরঃ কেননা তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণে প্রকাশ্যে ইসলাম ও কুফরের মাঝে পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
৪৮৯. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, “হারূন যেমন মূসার স্থলাভিষিক্ত ছিলেন, তুমি আমার নিকট সেই রকম মর্যাদা সম্পন্ন, তবে আমার পরে কোন নবী নেই।”
উত্তরঃ আলী (রাঃ) কে।
৪৯০. প্রশ্নঃ ২০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই কোন সাহাবীকে একটি যুদ্ধের সেনাপতি নিয়োগ করা হয়?
উত্তরঃ উসামা বিন যায়েদ (রাঃ)কে।
৪৯১. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কোন সাহাবী কাবা ঘরে আযান প্রদান করেন?
উত্তরঃ বেলাল (রাঃ)।
৪৯২. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সবচেয়ে বেশী হাদীস বর্ণনা করেন?
উত্তরঃ আবু হুরায়রা (রাঃ)।
৪৯৩. প্রশ্নঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) এর আসল নাম কি?
উত্তরঃ আবদুর রহমান বিন সাখার আদ্‌ দাওসী (রাঃ)।
৪৯৪. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে জিনে হত্যা করেছিল?
উত্তরঃ সাদ বিন উবাদা (রাঃ)কে।
৪৯৫. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে সর্বশ্রে কুরআন পাঠক বলা হত?
উত্তরঃ উবাই বিন কাব (রাঃ)।
৪৯৬. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীকে আবু বকর (রাঃ) কুরআন একত্রিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন?
উত্তরঃ যায়েদ বিন ছাবেত (রাঃ)।
৪৯৭. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর পরামর্শে নবী (সাঃ) মদীনায় খন্দক খনন করেন?
উত্তরঃ সালমান ফারেসী (রাঃ)।
৪৯৮. প্রশ্নঃ কোন মহিলা সাহাবী সবচেয়ে বেশী হাদীস বর্ণনা করেন?
উত্তরঃ উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রাঃ)।
৪৯৯. প্রশ্নঃ জনৈক সাহাবী উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। কিন্তু আল্লাহর জন্যে তিনি একটি সিজদাও করার সুযোগ পাননি। তিনি কে?
উত্তরঃ আমর বিন ছাবেত বিন ক্বায়স (রাঃ)। কেননা তিনি ইসলাম গ্রহণ করেই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
৫০০.প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সর্বশেষ মৃত্যু বরণ করেন?
উত্তরঃ আবু তুফাইল আমের বিন ওয়াছেলা (রাঃ)।
৫০১. প্রশ্নঃ কোন্‌ সাহাবীকে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ মক্কায় হত্যা করেছিল?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রাঃ)।
৫০২. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী দাজ্জালকে দেখেছেন যে, সে একটি দ্বীপে বন্দী অবস্থায় রয়েছে?
উত্তরঃ তামীম বিন আওস আদ্‌দারী (রাঃ)।
৫০৩. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর আকৃতী ধারণ করে নবী (ছাঃ)এর নিকট জিবরীল ফেরেশতা নাযিল হতেন?
উত্তরঃ দেহইয়া আল কালবী (রাঃ)।
৫০৪. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী কিসরার হাতের বাদশাহী চুরি পরিধান করেন?
উত্তরঃ সুরাকা বিন মালেক (রাঃ)।
৫০৫. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী মানত করেছিলেন যে, তিনি যেন কোন মুশরিককে স্পর্শ না করেন এবং কোন মুশরিকও যেন তাকে স্পর্শ করতে না পারে?
উত্তরঃ আছেম বিন ছাবেত (রাঃ)।
৫০৬. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী গোপনে নয় বরং প্রকাশ্যে হিজরত করেছিলেন?
উত্তরঃ ওমার বিন খাত্তাব (রাঃ)।
৫০৭. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর উপাধি ছিল সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর উন্মুক্ত তরবারী?
উত্তরঃ খালেদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)।
৫০৮. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সর্বপ্রথম আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেন?
উত্তরঃ সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)।
৫০৯. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কোন সাহাবীকে বায়তুল মালের দায়িত্ব প্রদান করা হয়?
উত্তরঃ আবু উবাইদা বিন জার্‌রাহ (রাঃ)।
৫১০. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর উপাধি ছিল এ উম্মতের আমানতদার?
উত্তরঃ আবু ঊবাইদা বিন জার্‌রাহ (রাঃ)।
৫১১. প্রশ্নঃ কোন খলীফা সর্বপ্রথম আমীরুল মুমেনীন উপাধিতে ভূষিত হন?
উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)।
৫১২. প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনায় হিজরত করার পর সর্বপ্রথম যে শিশু জন্ম গ্রহণ করে তার নাম কি?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রাঃ)।
৫১৩. প্রশ্নঃ আবু বকর ও আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রাঃ) এর মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক কিরূপ?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ) আবদুল্লাহ বিন যুবাইর (রাঃ) এর নানা।
৫১৪. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কোন সাহাবী হিজরী সন গণনার প্রবর্তন করেন?
উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)।
৫১৫. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সর্বপ্রথম নিহত হওয়ার পূর্বে দুরাকাত নামাযের প্রচলন করেন?
উত্তরঃ খুবাইব বিন আদী (রাঃ)।
৫১৬. প্রশ্নঃ আনসারী সাহাবীদের মধ্যে সর্বপ্রথম কোন সাহাবী ইসলাম গ্রহণ করেন?
উত্তরঃ মুআয বিন আফরা (রাঃ)।
৫১৭. প্রশ্নঃ সর্বপ্রথম কোন সাহাবী হাবশায় (আবিসিনিয়া) হিজরত করেন?
উত্তরঃ উছমান বিন আফ্‌ফান (রাঃ)।
৫১৮. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর উপাধি ছিল আসাদুল্লাহ?
উত্তরঃ আলী বিন আবী তালিব (রাঃ)।
৫১৯. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সম্পর্কে নবী (সাঃ) বলেন, আমার এ ছেলে নেতা, সম্ভবতঃ আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলমানদের বিবাদমান বড় দুটি দলের মধ্যে বিরোধ মিমাংসা করে দিবেন?
উত্তরঃ হাসান বিন আলী (রাঃ)
৫২০.প্রশ্নঃ কোন দুজন সাহাবীকে জান্নাতের যুবকদের সরদার বলা হয়েছে?
উত্তরঃ হাসান ও হুসাইন (রাঃ) কে।
৫২১. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী নবী (সাঃ)এর কবর খনন করেছিলেন?
উত্তরঃ আবু তালহা (রাঃ)।
৫২২. প্রশ্নঃ কোন মহিলা সাহাবীকে আল্লাহ তাআলা জিব্রাইল (আঃ) মারফত সালাম পাঠিয়েছেন?
উত্তরঃ খাদীজা (রাঃ)।
৫২৩. প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কাকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসতেন?
উত্তরঃ আয়েশা (রাঃ) কে।
৫২৪. প্রশ্নঃ পুরুষদের মধ্যে কাকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সবচেয়ে বেশী ভালবাসতেন?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ) কে।
৫২৫. প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)এর কোন্‌ স্ত্রী ছিলেন অধিক সিয়াম পালন কারীনী ও অধিক নফল নামায আদায় কারীনী?
উত্তরঃ হাফছা বিনতে ওমর (রাঃ)।
৫২৬. প্রশ্নঃ উহুদ যুদ্ধে জনৈক মহিলা সাহাবীর পিতা, ভাই, চাচা ও চাচাতো ভাই শহীদ হন। যখন তিনি শুনলেন নবী (সাঃ) বেঁচে আছেন, তখন বলেন তার সকল দুঃখ তুচ্ছ। সেই মহিলার নাম কি?
উত্তরঃ আসমা বিনতে ইয়াযীদ ইবনু সাকান (রাঃ)।
৫২৭. প্রশ্নঃ স্বপ্নের মাধ্যমে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একটি বিবাহ করেন। কে ছিলেন সেই স্ত্রী?
উত্তরঃ আয়েশা (রাঃ)।
৫২৮. প্রশ্নঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কোন স্ত্রীর পবিত্রতায় পবিত্র কুরআনে ১০ টি আয়াত নাযিল হয়।
উত্তরঃ আয়েশা (রাঃ)।
৫২৯. প্রশ্নঃ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কোন স্ত্রীকে আল্লাহ তাআলা জিবরীল (আঃ) মারফত সালাম দিয়েছেন?
উত্তরঃ খাদীজা (রাঃ)
৫৩০. প্রশ্নঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)একদা তাঁর জনৈক স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন। তখন জিবরীল (আঃ) এসে তাঁকে বলেন, আপনি তাকে ফিরিয়ে নিন। কেননা তিনি অধিক ছিয়াম পালনকারীনী এবং অধিক নফল নামায আদায় কারীনী। আর তিনি জান্নাতে আপনার স্ত্রী। তাঁর নাম কি?
উত্তরঃ হাফছা বিনতে ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)
৫৩১. প্রশ্নঃ নবী (সাঃ)এর কন্যা যায়নাব মৃত্যু বরণ করলে জনৈক মহিলা সাহাবী তাকে গোসল দেন। সেই মহিলার নাম কি?
উত্তরঃ উম্মে আত্বিয়্যা আনসারী (রাঃ)।
৫৩২. প্রশ্নঃ কোন সেই সৌভাগ্যবান সাহাবী যার ইমামতিতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামায আদায় করেছেন?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)।
৫৩৩. প্রশ্নঃ আবু বকর ব্যতীত আরেকজন সৌভাগ্যবান সাহাবী আছেন যার ইমামতিতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নামায আদায় করেছেন। কে তিনি?
উত্তরঃ আবদুর রহমান বিন আউফ (রাঃ)।
৫৩৪. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী বদর যুদ্ধে নিজ পিতা মুশরিক হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করেন?
উত্তরঃ আবু উবাইদা ইবনুল জার্‌রাহ (রাঃ)।
৫৩৫. প্রশ্নঃ কোন মহিলা সাহাবীকে দুই শহীদের মাতা বলা হয়? তিনি মৃত্যু বরণ করলে রাসূল (সাঃ) নিজের জামা দ্বারা কাফন পরান এবং নিজে তাকে কবরে রাখেন।
উত্তরঃ ফাতেমা বিনতে আসাদ (রাঃ)
৫৩৬. প্রশ্নঃ রাসূল (সাঃ)এর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে কে সর্বপ্রথম মৃত্যু বরণ করেন?
উত্তরঃ যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ)।
৫৩৭. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী নবী (সাঃ)এর দশ বছর খেদমত করেন?
উত্তরঃ আনাস বিন মালেক (রাঃ)।
৫৩৮. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর জন্য নবী (সাঃ) দুআ করেছিলেন, “হে আল্লাহ তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দাও এবং তাতে বরকত প্রদান কর।”?
উত্তরঃ আনাস বিন মালেক (রাঃ)।
৫৩৯. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী নবী (সাঃ)এর ওহী লিখক ছিলেন এবং আত্মীয়তার দিক থেকে তাঁর শ্যালক ছিলেন?
উত্তরঃ মুআবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাঃ)।
৫৪০. প্রশ্নঃ কোন সাহাবীর জান্নাতী স্ত্রীকে নবী (সাঃ) জান্নাতে দেখে এসেছেন?
উত্তরঃ ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)।
৫৪১. প্রশ্নঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ৬৩ বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। সাহাবীদের মধ্যে কে কে এই বয়সে মৃত্যু বরণ করেছিলেন?
উত্তরঃ আবু বকর, ওমর ও আলী (রাঃ)।
৫৪২. প্রশ্নঃ একজন মহিলা সাহাবী- দুবার হিজরত করেন, দুই ক্বিবলার দিকে নামায পড়েন, কেউ মারা গেলে নিজে তার গোসল দেন, নবীজীর সাথে বিদায় হজ্জে বের হয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন। তাঁর নাম কি?
উত্তরঃ আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ)।
৫৪৩. প্রশ্নঃ উহুদ যুদ্ধে কোন সাহাবীকে তীরন্দাজ বাহীনীর নেতৃত্ব দেয়া হয়?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন জুবাইর আনছারী (রাঃ)।
৫৪৪. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী কাদেসিয়ার যুদ্ধে সেনাপতি ছিলেন?
উত্তরঃ সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ)।
৫৪৫. প্রশ্নঃ রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কন্যা যায়নাবের (রাঃ) স্বামী কে ছিলেন?
উত্তরঃ আবুল আস বিন রাবী (রাঃ)।
৫৪৬. প্রশ্নঃ কোন সেই সাহাবী যিনি রাসূল (স.)এর দুকন্যা প্রথমে রুকাইয়্যা ও পরে উম্মে কুলছুমের (রাঃ) জামাতা ছিলেন?
উত্তরঃ উছমান বিন আফ্‌ফান (রাঃ)।
৫৪৭. প্রশ্নঃ মক্কা বিজয়ের দিন নবী (স.) কারে হাতে কাবা ঘরের চাবি দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ উছমান বিন ত্বলহা (রাঃ)।
৫৪৮. প্রশ্নঃ কোন সাহাবী সম্পর্কে নবী (স.) বলেন, তার পদযুগল ক্বিয়ামতের দিবসে উহুদ পাহাড়ের চাইতে অধিক ভারী হবে?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ)।
৫৪৯. প্রশ্নঃ যে সাহাবী প্রথম আযান দেয়ার পদ্ধতি শিখেছিলেন তাঁর নাম কি?
উত্তরঃ আবদুল্লাহ বিন যায়দ ইবনে আব্দে রাব্বেহী (রাঃ)।
৫৫০.প্রশ্নঃ উম্মতে মুহাম্মাদীর মধ্যে সব চাইতে করুণাশীল ব্যক্তি কে ছিলেন?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ)।
৫৫১. প্রশ্নঃ কোন নারী জান্নাত বাসীদের রমনীদের সর্দার?
উত্তরঃ ফাতিমা (রাঃ)।
৫৫২. প্রশ্নঃ জনৈক ব্যক্তি নবী (স.)এর চাচা হামযা (রাঃ)কে উহুদ যুদ্ধে শহীদ করেন। পরবর্তিতে তিনি মুসলমান হয়ে যান। কিন্তু তিনি যখনই নবী (সাঃ)এর সম্মুখে আসতেন তিনি বলতেন: তোমাকে দেখলেই চাচা হামযার কথা আমার মনে এসে যায়, তাই তুমি আমার সামনে এসো না। সেই ব্যক্তির নাম কি?
উত্তরঃ ওয়াহশি (রাঃ)
৫৫৩. প্রশ্নঃ জনৈক সাহাবী যাতু সালাসেল যুদ্ধে কোন এক কারণে নাপাক হয়ে যান। কিন্তু পানি ভীষণ ঠান্ডা হওয়ার কারণে তিনি গোসল না করে তায়াম্মুম করেন এবং দলীল পেশ করেন যে, আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না।” (সূরা নিসাঃ ২৯)। নবী (স.) তাঁর এই ঘটনা শুনে হেঁসেছেন কিন্তু কোন মন্তব্য করেন নি। (আবু দাউদ) উক্ত সাহাবীর নাম কি?
উত্তরঃ আমর বিন আস (রাঃ)।
৫৫৪. প্রশ্নঃ কোন মহিলা সাহাবীকে কুরআনের প্রহরী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে?
উত্তরঃ হাফসা বিনতে ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)

ইসলামিক প্রশ্ন ও উত্তর | Islamic prosno o uttor

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap