এমন বিজ্ঞানীরা আছেন যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছেন কিন্তু সেরকমভাবে জনপ্রিয়তা পাননি?

১. ইবনে আল হাইসাম

পর্যবেক্ষণ কর, তত্ত্ব তৈরি কর, গবেষণা করে দেখাও, ভুলগুলো শুধরে নাও, তারপর আবার প্রথম থেকে শুরু কর। যেকোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজে এই পদ্ধতিটি সবসময় মেনে চলা হচ্ছে। এই পদ্ধিতির মূল আলোচনা যার মাথা থেকে বেরিয়েছে তিনি হলেন ইবনে আল হাইসাম। পশ্চিমারা যাকে আল হাইজেন নামে চেনে। কিন্তু এই পদ্ধিতিটির স্বীকৃতি তাকে দিতে নারাজ পশ্চিমা বিশ্ব। দশম শতাব্দীতে ইরাকের কোনো একটি জায়গায় জন্মেছিলেন এই বিজ্ঞানী। ইসলাম তখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্বর্ণযুগ পার করছে। ঠিক সেই সময়েই আরেক তারকা হিসেবে জন্মেছিলেন তিনি।
পদার্থ, রসায়ন এবং জোতির্বিদ্যা নিয়ে ইবনে হাইথাম ১০০টিরও বেশি বই রচনা করেন। দর্শন এবং গণিতশাস্ত্রেও তিনি বহু গবেষণা চালিয়েছিলেন। দিগন্তরেখায় চাঁদকে সবচেয়ে বড় দেখা যায় কেন, এর ব্যাখ্যা দেন তিনি। মানুষের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে তার চিন্তার উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে কেপলার এবং রজার বেকনের মতো বিজ্ঞানীরা জোতির্বিদ্যায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেন।

২. রোজালিন্ড এলসি ফ্রাঙ্কলিন

ডিএনএ-র গঠন আবিষ্কারের জন্য ওয়াটসন এবং ক্রিকের নাম কে না জানে! কিন্তু একজন মলিকুলার বায়োলজিস্ট হিসেবে ডিএনএ-র গঠন নিয়ে প্রথম ধারণা দেন রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন। তার এক্সরে ক্রিস্টালোগ্রাফি চিত্রে ডিএনএ-র এমন গঠন ধরা পড়ে যা আগে কেউ বের করতে পারেনি। নিজের সময়ের চেয়ে অগ্রসর এই বিজ্ঞানী ডিএনএ-র এরকম চিত্র আবিষ্কারের বহু বছর পর ১৯৬২ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। ততদিনে রোজালিন্ড মারা গিয়েছেন। ডিএনএ-র ডাবল হেলিক্সের গঠনচিত্র নিয়ে এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন তিনি

৩. ফজলুর রহমান খান

বিংশ শতাব্দীর আর্কিটেকচারাল জিনিয়াস ফজলুর রহমান খান। চরম সৌভাগ্য হলে হয়তো তার নাম জেনে থাকতে পারেন। কিন্তু যাদের জানার কথা তারা ঠিকই জানেন তার সম্পর্কে। শিকাগোর জন হ্যানকক টাওয়ার এবং উইল’স টাওয়ারের স্থপতি তিনি। উত্তর আমেরিকার দ্বিতীয় সর্ব্বোচ্চ ভবন নির্মাণের পেছনের কারিগর ফজলুর খান। তার তৈরি করা গাঠনিক নিয়ম মেনেই আজকের দুনিয়ার সকল টাওয়ার নির্মাণ করা হয়।
আকাশ ছোঁয়া যতসব ভবন তৈরির স্বপ্ন আমরা দেখিনা কেন, সেটার সূচনা করে দিয়েছিলেন তিনি।

আর্কিটেকচার এর সঙ্গে কম্পিউটারের মেলবন্ধন তৈরি করার কারিগর বলা হয় তাকে। বর্তমানে যেখানে কম্পিউটার সিস্টেম ছাড়া বড় দালানকোঠা ডিজাইনের কথা চিন্তাও করা যায় না। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে উপরের মহারথীদের মতো তার নামও ইতিহাসে সেভাবে ঠাঁই পায়নি।

৪. ম্যারি অ্যানিং

1999 সালে একটি শ্রমিক পরিবারে ম্যারিং অ্যানিং জন্মগ্রঞন করেন। তার মৃতবোনের নামানুসারে তার নামকরণ করা হয়। তার বাবা ছিলেন কাঠমিস্ত্রি এবং তিনি ভ্রমনার্থীদের বিক্রি করার জন্য জীবাশ্ম খুজে বের করতেন। বাবার সাথে বের হতে হতে অ্যানিং একসময় ভূতত্ত্বর প্রতি আর্কষন অনুভব করেন। ফলে পরবর্তীতে তিনি ভূতত্ত্ববিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। 19 শতকের শুরুর দিকে তিনি ফসিল গবেষণায় বৈপ্লবিক আবিষ্কার করেন। ডাইনোসরের রহস্য তার হাত ধরেই ‍উন্মোচিত হয়। অ্যানিং ধীরে ধীরে খ্যাতি অর্জন করেন এবং জীবাশ্ম উন্মোচনে অগ্রগতি অর্জন করেন। তার নামের সুখ্যাতির ফলশ্রুতিতে প্রচলিত হয়, “She Sell Sea Shell”। ভাইয়ের সাথে মাত্র 12 বছর বয়সে তিনি মাছের ফসিল খুজে পান। তার অবদানের স্বীকৃকিস্বরূপ আজকের বিজ্ঞানের জীবাশ্মবিদ্যা আলাদা একটা স্থান দখল করে আছে।

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap