কিবোর্ড (Keyboard) এর পরিচিতি জেনে নিন।

[ad_1]

আমাদের আজকের টপিক হচ্ছে কম্পিউটার কিবোর্ড (Keyboard) নিয়ে। আমরা অনেকেই আছি কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি নিজের ব্যক্তিগত কাজে অথবা চাকুরির সুবাধে। মোটামুটি এখন সকল অফিশিয়াল চাকুরিতে একজন কর্মকর্তাকে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু আমরা কয়জনে জানি যে, কিবোর্ড এর কোন কি বা বাটনগুলি কী বলে বা কি নামে অবহিত করা হয়। এছাড়াও কোনটার কী কাজ দুই একটা ছাড়া তাও আমরা অনেকেই তেমন একটা জানি না। এখন কথা হলো আপনি জানেন না? কোন সমস্যা নেই। আজকের এই টপিকের মাধ্যমে পুরো কিবোর্ড এর ব্যাপারটা আশা করি আপনার পরিস্কার হয়ে যাবে যদি মনোযোগ দেন আরকি।

কিবোর্ড বা Keyboard:
আমরা সকলেই জানি কিবোর্ড সাধারণত কম্পিউটারের কোন প্রোগ্রামে কিছু লেখার জন্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ যার মাধ্যমে আমরা কোন বর্ণমালা, সংখ্যা, কমান্ড ইত্যাদি চাপলে তা স্ক্রিনে দেখতে পারি। আগে কিবোর্ড শুধু কম্পিউটারে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন আপনি চাইলে আপনার হাতে থাকা যেকোন স্মার্টফোনে কিবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। কিবোর্ড এর কয়েকধরণের লেআউট হয়ে থাকে। যা সাধারণভাবে বলতে গেলে বর্নমালা কি বা বাটনগুলির ক্রমানুসার বা সিরিয়াল বা সাজানোর ব্যাপারকে বুঝানো হয়। বিশ্বব্যাপি কিবোর্ড এর তিন ধরণের লেআউট রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে QWERTY লেআউট। যা বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়। জনপ্রিয় বললে ভুল হবে কারণ বাংলাদেশে এই কিবোর্ডই ব্যবহার হয়ে থাকে। Qwerty ছাড়া Azerty লেআউট ও Dvorak লেআউট এর কিবোর্ড রয়েছে। আরেকটি কথা না বললেই নয় কিবোর্ড এর কি বা বাটন সংখ্যা সাধারণত ৮৪ থেকে ১০২টির মত হয়ে থাকে। সেটা হচ্ছে কিবোর্ড এর মডেল এবং কোম্পানির উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে।

উপরের ছবিটিতে থাকা কিবোর্ডই মূলত QWERTY লেআউট কিবোর্ড। এটি ভালো করে লক্ষ করলে বুঝতে পারবেন যে এটিকে আপনি খুব ভালো করে চিনতে পারিতেছেন (যদি আগে থেকে কিবোর্ড দেখে থাকেন)। এই কিবোর্ডে চিহ্নিত অংশটুকুর মাধ্যমে এর লেআউটকে আলাদাভাবে ডাকা হয় অর্থাৎ বর্ণমালা কি বা বাটনের উপর ভিত্তি করে Qwerty লেআউট কিবোর্ড বলা হয়।

উপরের ছবিতে থাকা কিবোর্ড হচ্ছে AZERTY লেআউট ভুক্ত কিবোর্ড। এটি বলতে গেলে Qwerty কিবোর্ড এর মতই। এই কিবোর্ডে শুধুমাত্র Q এর স্থলে A, W এর স্থলে Z একটার স্থলে আরেকটা Qwerty কিবোর্ডে M থাকে শেষের সারিতে আর এই কিবোর্ডে M থাকে মাঝের সারিতে এইরকম কিছু কিবোর্ড এর পরিবর্তন এই কিবোর্ডে লক্ষ করা যায়। এই কিবোর্ডটি বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

উপরের ছবিতে থাকা কিবোর্ড হচ্ছে Dvorak লেআউট এর কিবোর্ড। এই কিবোর্ডের লেআউট এর ডিজাইন যিনি করেছেন তার নামানুসারে এই লেআউট এর নামকরণ করা হয়েছে। এটি মূলত দ্রুত টাইপ করার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছিল।

যেহেতু Qwerty কিবোর্ড বেশ জনপ্রিয় তাই আমরা এতে থাকা কি বা বাটনগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। এখানে ক্যাটাগরি ভিত্তিক কোন কি বা বাটনের কি নাম এবং কী কাজ এছাড়াও একাধিক কাজ আছে কিনা সকল বিষয় জানবো।

ফাংশনাল কি বা বাটন (Functional Key):

ছবিতে চিহ্নিত উপরের সারির কি বা বাটনগুলিকে ফাংশনাল কি বা বাটন (Functional Key) বলা হয়। ফাংশনাল কি বা বাটনগুলি হচ্ছে F1, F2, F3, F4, F5, F6, F7, F8, F9, F10, F11, F12 মোট ১২টি কি বা বাটন। এগুলোর মাধ্যমে কম্পিউটারের প্রোগ্রাম অনুযায়ী এক এক ধরণের কমান্ড প্রদান করা হয়। যেমন F1 চাপলে Help বা সাহায্যের উইন্ডো চলে আসে। F2 চাপলে কোন ফাইলের রিনেম করা যায় ইত্যাদি। এগুলো প্রোগ্রাম বেদে আলাদা আলাদা কমান্ড বা কাজ হয়ে থাকে তাই এগুলো নিয়ে আর বিস্তারিত লিখলাম না। আপনি যদি এগুলোর ব্যবহার জানতে চান তাহলে যে প্রোগ্রামের জন্য ব্যবহার করবেন সে প্রোগ্রামের নাম লিখে গুগল থেকে জেনে নিতে পারবেন।

মডিফিকেশনাল কি বা বাটন (Modificational Key):

ছবিতে চিহ্নিত বর্ণমালা কিগুলির বাম, নিচ ও ডান পাশের কি বা বাটনগুলিকে মডিফিকেশনাল কি বা বাটন (Modificational Key) বলে। আবার এগুলোকে কন্ট্রোল কি বা বাটন (Control Key) এবং স্পেশাল কি বা বাটন (Special Key) বলা যায়। মডিফিকেশনাল কি বা বাটনগুলি হচ্ছে Esc, Tab, Caps Lock, Shift, Ctrl, Start অথবা Windows, Space Bar, Menu, Alt, Enter, Back Space, Print Screen, Scroll Lock, Pause Break, Insert, Home, Page Up, Delete, End ও Page Down এগুলোর মাধ্যমে কম্পিউটারের প্রোগ্রাম বেদে বিভিন্ন ধরণের অদলবদলের বা পরিবর্তনের কাজ করা হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরণের কমান্ড প্রদান করা হয়।

Esc দিয়ে কোন উইন্ডোকে এড়িয়ে যাওয়া বা বন্ধ করে দেওয়া।
Tab দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া (প্রোগ্রাম বেদে)।
Caps Lock দিয়ে ক্রমান্বয়ে বড় হাতের ইংরেজি বর্ণ লেখা।
Shift দিয়ে আলাদা আলাদাভাবে বা একটি করে ইংরেজি বর্ণ বড় হাতের লেখা হয়। আবার এটির মাধ্যমে অন্যান্য কি এর সাথে বিভিন্ন ধরণের কমান্ড প্রদান করা হয়।
Ctrl দিয়ে যেকোন প্রোগ্রামের মধ্যে কমান্ড প্রদান করা।
Start বা Windows দিয়ে স্টার্ট মেনুবার চালু করা।

Space Bar দিয়ে একাধিক শব্দ বা ওয়ার্ডের মাঝে ফাঁকা বা খালি জায়গা তৈরি করা।
Alt দিয়েও প্রোগ্রাম বেদে বিভিন্ন ধরণের কমান্ড প্রদান করা।
Enter দিয়ে কোন প্রোগ্রামে লেখালেখির কাজের সময় এক লাইন থেকে আরেক লাইনে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কোন প্রোগ্রামের উপর রেখে চাপ দিলে সেই প্রোগ্রাম ওপেন হয়ে যায়।
Back Space দিয়ে কোন বর্ণ বা শব্দের পিছন থেকে বা ডানদিক থেকে মুছে দেওয়া বা ডিলেট করা।
Print Screen দিয়ে কম্পিউটারের যেকোন স্ক্রিনের স্ক্রিনশট বা ছবি তোলা হয়।
Scroll Lock এই কি বা বাটনটির এখন আর তেমন একটা ব্যবহার হয় না। এটির মাধ্যমে বলতে গেলে মাউসের কার্সরের পরিবর্তে স্ক্রল করা যায়।
Pause Break দ্রুত গতিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
Insert কোন কিছু লেখার সময় সাধারণত বামদিক থেকে শুরু হয়। এই কি বা বাটনটি সক্রিয় থাকলে ডানদিক থেকে লেখা শুরু হয়ে বামদিকে থাকা লেখাকে ওভার রাইট করে থাকে।
Home কোন লেখালেখির প্রোগ্রামে লেখার লাইনের যেকোন স্থানে মাউসের কার্সর থাকলে সেখান থেকে লাইনের প্রথমে নিয়ে আসা যায়। এছাড়াও এটির আরো ব্যবহার আছে।
Page Up কোন প্রোগ্রামের একদম নিচের অংশে অবস্থান করলে সেখান থেকে উপরের অবস্থানে চলে আসা যায়।
Delete দিয়ে কোন বর্ণ বা শব্দের সামনে বা বামদিক থেকে মুছে দেওয়া।
End কোন লেখালেখির প্রোগ্রামে লেখার লাইনের যেকোন স্থানে মাউসের কার্সর থাকলে সেখান থেকে লাইনের শেষে নিয়ে আসা যায়। এছাড়াও এটির আরো ব্যবহার আছে।
Page Down কোন প্রোগ্রামের একদম উপরের অংশে অবস্থান করলে সেখান থেকে নিচের অবস্থানে চলে আসা যায়।

উল্লেখ্য যে মডিফিকেশনাল কি বা বাটনগুলির মধ্যে উপরোল্লিখিত কি বা বাটন ছাড়াও কিবোর্ড এর মডেল এবং কোম্পানি বেদে আলাদা আলাদা হতে পারে অর্থাৎ কমবেশি হতে পারে।

অ্যালফাবেটিকাল কি বা বাটন (Alphabetical Key):

ছবিতে চিহ্নিত ইংরেজি ২৬টি বর্ণমালার কি বা বাটনগুলিকে অ্যালফাবেটিকাল কি বা বাটন বলা হয়। যেগুলোর মাধ্যমে বর্ণমালা প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য এই গুলোর মাধ্যমে ইংরেজি বর্ণমালার পাশাপাশি বাংলা ও অন্যান্য ভাষার বর্ণমালা লেখা যায়।

নিউমেরিক্যাল কি বা বাটন (Numerical Key):

ছবিতে উল্লেখিত 0 – 9 (০ – ৯) পর্যন্ত কি বা বাটনগুলিকে নিউমেরিক্যাল কি বা বাটন বলা হয়। সাধারণত কিবোর্ড এর দুটি অংশে এই কি গুলি থাকে ব্যবহারের সুবিধার জন্য। এগুলো মূলত কোন প্রোগ্রামে সংখ্যা লেখার কাজে ব্যবহৃত হয়।

পাংচুয়েশন কি বা বাটন (Punctuation Key):

ছবিতে চিহ্নিত কমা ( , ), কোলন ( : ), সেমি কোলন ( ; ), কুয়েশ্চন মার্ক ( ? ) ইত্যাদি কি বা বাটনগুলিকে পাংচুয়েশন কি বা বাটন বলে। এগুলো বর্ণমালা বা সংখ্যার সাথে সমন্বয় সূচক চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

লজিক্যাল কি বা বাটন (Logical Key):

ছবিতে চিহ্নিত যোগ ( + ), বিয়োগ ( – ), ভাগ ( / ), গুণ ( * ) ও সমান ( = ) কি গুলিকে লজিক্যাল কি বা বাটন বলা হয়। গাণিতিক বিষয়ের ক্ষেত্রে এই কি বা বাটনগুলি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

নেভিগেটর অ্যারো কি বা বাটন (Navigator Arrow Key):

উপরের ছবিতে চিহ্নিত কি বা বাটনগুলিকে নেভিগেটর অ্যারো কি বা বাটন বলে থাকে। এই কি বা বাটনগুলি দিয়ে কিবোর্ড এর মাধ্যমে কার্সরকে ডানে, বামে, উপরে ও নিচে নেওয়া হয়ে থাকে। উপরের দিকে তীর চিহ্নিত বাটনটিকে Up Arrow, নিচের দিকে তীর চিহ্নিত বাটনটিকে Down Arrow, ডান দিকে তীর চিহ্নিত বাটনটিকে Right Arrow এবং বাম দিকে তীর চিহ্নিত বাটনটিকে Left Arrow বাটন বলে।

মাল্টিমিডিয়া কি বা বাটন (Multimedia Key):

উপরের ছবিতে চিহ্নিত কি বা বাটনগুলিকে মাল্টিমিডিয়া কি বা বাটন বলা হয়। যেমন ভলিউম বাড়ানো কমানো, চালু বন্ধ, মেইল, ওয়েব ইত্যাদি কি বা বাটনগুলিকে মাল্টিমিডিয়া কি বা বাটন বলে। এগুলো সাধারণত সব কিবোর্ডের মধ্যে থাকে না।

পাওয়ার কি বা বাটন (Power Key):

উপরের ছবিতে চিহ্নিত কি বা বাটনগুলিকে পাওয়ার কি বা বাটন বলে। তবে এগুলো সাধারণত সকল কিবোর্ড এর মধ্যে থাকে না।

ইন্ডিকেটর লাইট (Indicator Light):

উপরের ছবিতে চিহ্নিত বাতিগুলোকে ইন্ডিকেটর লাইট বলে থাকে। এগুলো সকল ধরনের কিবোর্ড এর মধ্যেই থাকে। সাধারণত তিনটি বাতি থাকে। একটি হলো Num Lock এর, একটি হলো Caps Lock এবং আরেকটি হলো Scroll Lock এর বাতি। যেগুলোর মাধ্যমে মূলত তিনটি বাটনের মধ্যে কোনটি সক্রিয় বা এক্টিভ আছে তা বুঝানো হয়।

আর এই ছিলো আমাদের আজকের কিবোর্ড এর পুরো বিস্তারিত টপিক। আশা করি কিবোর্ড সম্পর্কে আপনাদের যাদের এতোদিন কোন ধারণা ছিলোনা তাদের এখন ধারণা হয়ে গিয়েছে। তাহলে এখন থেকে আপনারা নিজেরাই কিবোর্ড এর কি বা বাটনগুলি দেখলেই বুঝতে পারবেন যে কোনটার কি কাজ।

আপনাদের সুবিধার্থে আমি আমার টিপস এন্ড ট্রিকসগুলি ভিডিও আকারে শেয়ার করার জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করেছি। আশা করি চ্যানেলটি Subscribe করবেন।

সৌজন্যে : বাংলাদেশের জনপ্রিয় এবং বর্তমান সময়ের বাংলা ভাষায় সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক টিউটোরিয়াল সাইট – www.TutorialBD71.blogspot.com নিত্যনতুন বিভিন্ন বিষয়ে টিউটোরিয়াল পেতে সাইটটিতে সবসময় ভিজিট করুন।



[ad_2]

Source link

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap