ট্রুথ অর ডেয়ার (Truth or Dare)

[ad_1]

পৃথিবীর অন্যতম বিতর্কিত একটি বিষয় হলো ভূতে বিশ্বাস অথবা মৃত আত্মা। আমাদের অনেকেই ভূতের নাম শুনলে হাত-পা জমে বরফ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় আবার অনেকেই এসব হেসে উড়িয়ে দেয়। সেরকমই একটি বিতর্কিত জনপ্রিয় থ্রিলার হরর জনরার মুভি নিয়ে আজকে আলোচনা করব। মুভিটিতে পরিচালনায় ছিলেন একজন গুণী পরিচালক জেফ ওয়াডলো, যিনি একাধারে লেখক, পরিচালক এবং প্রযোজক। তার রচিত অসাধারণ কিছু মুভি- The Strain, Bloodshot, Fantasy Island, Kick-Ass 2।

ট্রুথ অর ডেয়ার মুভিটির ইনফো

লুসি হ্যালে, টাইলার পোসেই, ভায়োলেট বিন ছিল এই মুভিটির প্রধান চরিত্রে। হরর, থ্রিলার জনরা নিয়ে মুভিটি পরিচলনা করেছেন জেফ ওয়াডলো। ১০০ মিনিটের এই মুভিটি রিলিজ হয় ২০১৮ সালে। মুভিটি এখন পর্যন্ত আইএমডিবিতে  ৫.২/১০ রেটিং পেয়েছে।

মুভিঃ ট্রুথ অর ডেয়ার
ইন্ডাস্ট্রিঃ হলিউড
ভাষাঃ ইংলিশ
দেশঃ ইউএসএ
রানটাইমঃ ১০০ মিনিট
রিলিজ সালঃ ২০১৮
আইএমডিবি রেটিংঃ ৫.২/১০
পার্সোনাল রেটিংঃ ৭.৫/১০
পরিচালকঃ জেফ ওয়াডলো
কাস্টঃ লুসি হ্যালে, টাইলার পোসেই, ভায়োলেট বিন
জনরাঃ হরর, থ্রিলার

মুভিটির প্রধান চরিত্র

বসন্তের ছুটিতে ৭ জন বন্ধু-বান্ধব মিলে একটা আনন্দ ভ্রমণের উদ্যোগ নেয়। যেখানে রয়েছে ৩ জন মেয়ে এবং ৪ জন ছেলে। প্রধান চরিত্রে দেখা মিলবে অলিভিয়া (Lucy Hale), মার্কি (Violett Beane) এবং লুকাস (Tyler Posey)। প্রত্যেকটি চরিত্র আপনার কাছে তাদের যার যার অবস্থান থেকে একেবারে পার্ফেক্ট মনে হবে। সেরকম চেনা মুখ না হলেও, অভিনয়ে ছিল না কোনো কমতি। তবে যার কথা না বললেই নয়, সে হচ্ছে অলিভিয়া। অসাধারণ বিচক্ষণতা আর মনোমুগ্ধকর অভিনয় মুভিকে এনে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। এছাড়াও তার কিছু বিশেষ মুভি/সিরিজ যা আমার ব্যক্তিগতভাবে বেশ পছন্দের। Riverdale Pretty Little Liars, Scream 4, Fantasy Island।

ট্রুথ অর ডেয়ার মুভিটির মূল প্লট

মুভির শুরুটা যদিও কিছুটা কনফিউশান নিয়ে শুরু হয়। প্রথমেই দেখা মেলে এক মহীয়সী নারীর, যে কিনা একটা সুপারমার্কেটে গিয়ে দোকানদারের সাথে সামান্য আলাপন শেষে দোকানে আসা অন্য এক মহিলার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাহলে কে এই মেয়ে? আর কেন-ই বা অপরিচিত একজনকে হুট করে আগুণ লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলে? উত্তর পেয়ে যাবেন খানিক পরেই। প্রথমে দেখে নেই, তারপরের অংশে কী আছে।

 

বসন্তের ছুটিতে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় বিরতিহীন এক লম্বা আনন্দ ভ্রমণের, গন্তব্য মেক্সিকো। প্রথমদিকে যদিও নানা ব্যস্ততায় দু’একজন যেতে অস্বীকৃতি জানায় কিন্তু এটাই যে তাদের একসাথে কাটানো শেষ ভ্রমণ হবে। তাই বাকিদের কথা চিন্তে করে অজুহাত খাটানোর কোনও সুযোগই নেই বললেই চলে।

আরাম-আয়েশ আর ফুর্তিতে কাটানো ছুটির একরাতে অলিভিয়ার সাথে পরিচিত হয় কার্টার নামক এক ভদ্রলোকের। বাকিরা যখন নেশা করে টাল হয়ে হোটেলে রওনা দিতে চায়, তখন কার্টারের পরামর্শ পাশেই এক পুরনো প্রাসাদ থেকে ঘুরে আসার। তাদের ট্রিপকে আরও রোমাঞ্চকর গড়ে তুলতে একে-একে সবাই রাজি হয়ে যায়।

যেহেতু পুরনো বাড়ি, পরিবেশ অবশ্যই ছিমছাম নিরিবিলি টাইপের হবে। সেই ঠান্ডা পরিবেশকে গরম করে তোলার জন্য সবাই একটা গেম খেলার প্রস্তাব রাখে, কিন্তু কোন গেম খেলবে? সঙ্গে সঙ্গেই কার্টারের প্রস্তাব আসে ট্রুথ অর ডেয়ার খেলার। এতে করে বেরিয়ে আসবে, সবার ভেতরকার অজানা কিছু সত্যি কথা, আর ডেয়ার হলে কিছু অসম্পূর্ণ জিনিস পাবে সম্পূর্ণতা। তো যেই ভাবা সেই কাজ, পালাক্রমে চলতে থাকে ৮ জনের মধ্যকার ট্রুথ অর ডেয়ার গেম। ঘুরতে ঘুরতে পালা যখন কার্টারের দিকে আসে, কার্টার তখন ট্রুথ সিলেক্ট করে এবং তাদের এখানে নিয়ে আসার পেছনের সত্যিটা বলে দেয়। এই ৭ জনকে এখানে নিয়ে আসাটা ছিল কার্টারের সম্পূর্ণ একটা চাল।

 

যেহেতু উঠতি বয়স, তাই এসব ভুতুড়ে বিষয়ে অবিশ্বাস করাটা স্বাভাবিক। তারাও অবিশ্বাস করে ওখানকার অন্ধকার রাত ওখানেই চাপা দিয়ে চলে আসে। কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে ঘটতে থাকে ভিন্ন ঘটনা। অলিভিয়ার বাসা, কলেজ, গাড়ি সব জায়গায় হুট করে ভেসে আসে ট্রুথ অর ডেয়ার লেখা যা সে ছাড়া অন্যকেউ দেখতে পায় না। একটা পর্যায়ে গিয়ে তাকে বাধ্য হয়ে ট্রুথ সিলেক্ট করতে হয় এবং সে একটা সত্যি কথা বলে ফেলে। এই ঘটনার পর অলিভিয়ার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে, কার্টার যা বলেছিল সবকিছুই সত্যি। সেই গেম এখন তাদের পিছু নিয়েছি। একে-একে পূর্বের খেলার পালাক্রমে সবাইকে খেলতে হবে এই গেম।

আমরা ট্রুথ অর ডেয়ার খেলার সাধারণ সব নিয়ম-কানুনই জানি। যেখানে একজনকে দুইটা থেকে যেকোনও একিটা বেছে নিতে হয়। ট্রুথ সিলেক্ট করলে প্রশ্নকর্তা যা বলবে তার সঠিক সত্য জবাব দিতে হবে, আর ডেয়ার সিলেক্ট করলে যা করতে বলবে তাই করতে হবে। কিন্তু এখানে বেরিয়ে আসে অদ্ভুত সব ভিন্নধর্মী নিয়ম-কানুন। একাধারে ২ জনের বেশি ট্রুথ সিলেক্ট করতে পারবে না। অর্থাৎ আগের দুইজন ট্রুথ সিলেক্ট করে ফেললে তৃতীয়জনকে বাধ্য হয়ে ডেয়ার সিলেক্ট করতে হবে। ট্রুথ সিলেক্ট করে সত্যিটা না বললেই কাহিনি খতম, আর ডেয়ার সিলেক্ট করে তা করতে না পারলে বা অস্বীকৃতি জানালেও তার কাহিনি খতম। আর এভাবেই যতদিন পর্যন্ত না সবাই মারা যাবে এই গেম লাগাতার চলতেই থাকবে।

 

 

সবকিছু থেকেই পরিত্রাণের উপায় থাকে, এখানেও নিশ্চয়ই আছে। তবে সেটা কী? কীভাবে তারা এখান থেকে বের হবে? শেষ পর্যন্ত কতজন বেঁচে থাকতে পারবে? এরকম হাজার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে দেখে নিন এই রমরমা হরর থ্রিলার মুভিটি।

নিজস্ব অভিমত

প্রথম সিন দেখেই আমি কিছুটা নড়েচড়ে বসেছিলাম। কারণ অপেক্ষায় ছিলাম “কে এই মেয়ে” সেই প্রশ্নের উত্তর জানার। যারা হরর মুভি পছন্দ করেন তাদের জন্য অবশ্যই মাস্টওয়াচ মুভি বলব, আর যারা হরর পছন্দ করেন না কিন্তু থ্রিলার পছন্দ করেন তারাও নিঃসন্দেহে দেখে নিতে পারেন।

[ad_2]

Source link

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap