নিয়ে নিন একটি অন্যরকম ভৌতিক উপন্যাস [সেই বাড়িতে রহস্য]

[ad_1]

Hello what’s up guys কেমন আছেন সবাই ? আশা করি ভালো আছেন । সবাইকে স্বাগতম আজকের একটি নতুন পোস্টে । টাইটেল আর thumbnail দেখে already বুঝে গেছেন আজকের টপিক কি । আশা করি পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখবেন । তো বেশি কথা না বলে আজকের পোষ্ট শুরু করা যাক      

সেই বাড়ির রহস্য

part-১- ৭

রাতে পুঁটি মাছের ঝোল দিয়ে পেট পুরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাড়ি থেকে একটু দুরের একটা চা’য়ের দোকানে বসে বসে মনের সুখে সিগারেট টানছি।

সিগারেট বললে নিতান্তই ভুল হবে,তামাক পাতা গুড়ো করে সদ্য সাদা কাগজ দিয়ে মোড়ানো একটা চার ইঞ্চির সরু লাঠি।যাকে কাচা বাংলাতে আমরা বিড়ি বলি।অবশ্য জীবনে প্রথমবারের মত বিড়ি খেতে পেরে মনের ভিতরে একদিকে যেমন সংকোচের শেষ নেই,তেমনি সিগারেটের নেশাটাও মাথার মগজে গিয়ে চরমভাবে হানা দিচ্ছে।

রাতে খাবার পর আবার বিড়ির ধোঁয়া নাকে না ঢুকলে অম্বল হয় আমার।আর সেই জন্য বাড়ি থেকে একটু দুরে এই দোকানটাতে আসা।কিন্তু ভাগ্যটা এতোটায় খারাপ যে তার দোকানে ডারবি সিগারেট টাও নেই।

যে দু একটা ছিলো সেইটাও আমার আগে কেউ বসিয়ে দিছে।

শেষমেষ কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে

সিগারেটের বদলে এই বিড়ি খাওয়া।যাকে বলে দুধের স্বাধ ঘোলে মেটানো।

আমার নাম রাজেশ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি বি এ করছি।এই তিনবছরে পুরো ভার্সিটি জুড়ে আমার একটামাত্র বন্ধু জুটেছে আর তার নাম হলো রিফাত।জাতে দু’জন দুটি ধর্মের হলেও মনের দিক থেকে একবারে সোনায় সোহাগা।আর রিফাতের জন্যই আমার গ্রামে আসা।সবে মাত্র তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই রিফাত তার সাথে গ্রামে আনার জন্য আষ্ঠেপৃষ্ঠে ধরলো।

আমারো যে একবারে ইচ্ছে ছিলো না তাও নই,ছোট থেকে শহুরের আলো বাতাস গায়ে মেখে বড় হয়েছি তাই আমার-ও খুব ইচ্ছে ছিলো গ্রামের মেঠোপথে ধুলিছড়ানো রাস্তাতে হাঁটার।তাই আমিও আর না করি নি।

কিন্তু রিফাতদের গ্রামটাকে গ্রাম বললে নিছক বোকামি করা হবে,কারণ গ্রামে আসার পর থেকে না দেখেছি কোনো মাটির কুড়ে ঘর,আর না দেখেছি কোনো মেঠো পথ।সবকিছুই যেন শহরের মত দেখতে।

ছোট্ট কাঠের দোকানটাতে আমি সহ মোট চারজন লোক বসে আছি।দোকানি আর বাকি দু’জনও দোকানির মতই প্রবীণ।বয়সটা আনুমানিক সত্তর থেকে নব্বয় এর মত হবে।মুরুব্বিদেরসামনে সিগারেট খাওয়াটা বড্ড বেমানান,তাই হাতের ফাঁকে রেখে চুপচাপ বসে আছি আর মাঝে মাঝে সুযোগ বুঝে টান দিচ্ছি।

ওরা তিনজনে সেই তখন থেকে কিছু একটা নিয়ে কানাঘুষা করছে।

কিন্তু বিষয়টা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

তাই হাতে থাকা বিড়িটা লুকিয়ে রেখে ওদের একটু পাশে গিয়ে দোকানিকে বললাম,”দাদু এক কাপ চা দিন।”

আমার কথা শুনে বাকি দু’জন আমার দিকে শুধু ফ্যালফ্যালিয়ে তাকানো ছাড়া আর তেমন কিছুই বললো না।

দোকানদার দাদু চা’য়ের কাপটা হাতে দিতে গিয়ে বললো,”কি হে ছোকরা বাড়ি কোথায়?

আমি চা’য়ের কাপটা হাতে ধরে মৃধু হেসে বললাম,”আমার বাড়ি ঢাকাতে,এখানে একবন্ধুর বাসায় বেড়াতে এসেছি।”

আমার কথা শুনে পাশে থাকা দু’জন লোক আমার দিকে এমনভাবে ঘুরে তাকালো যেন তারা ভিনগ্রহ থেকে ছাড়পত্র পেয়ে চলে আসা অদ্ভুৎ কিছু দেখতে চলেছে।

তাদের তাকিয়ে থাকা দেখে আমি নিজ হতে জিজ্ঞেস করলাম,”আচ্ছা দাদু আপনারা কি নিয়ে কথা বলছিলেন?”

দু’জনের ভিতর থেকে একজন বলে উঠলো,”তোমরা হলে এখনকার মর্ডাণ ছেলে।তোমরা কি আর এসবে বিশ্বাস করবে?”

বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথা উঠতেই জানার ইচ্ছেটা আরো বেড়ে গেলো।আমি আরেকটু গা ঘেষে বসে বললাম,”কি এমন কথা দাদু,যে বিশ্বাস করবো না!”

-আসলে আমাদের গ্রামে একটা পৌরমহল আছে,প্রায় দেড়শত বছরের পুরোনো।ঐখানে প্রেতাত্মা বসবাস করে।প্রতিবছর ঐ পৌরবাড়িতে আষাঢ় মাসের শেষের দিকে কারো না কারো লাস পাওয়া যাই।আর দুদিন পর আবারো আষাঢ় মাস শেষ হয়ে যাবে।

উপরওয়ালাই জানে এবার কার বুকের ধন কে,ও বাড়িতে পাওয়া যাবে।

বয়স্ক লোক দুটির কথা শুনে কেন জানি মনে হলো আমার এতোদিনের স্বপ্নটা পূরণ হতে চলেছে।আমারো অনেকদিনের স্বপ্ন এরকম একটা ভৌতিক কিছুর সাথে নিজেকে জড়ানো।

যাতে সুপারন্যাচারাল বিষয়টা সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান লাভ করতে পারি।

নিজেকে ওতপ্রতভাবে জটিয়ে বসিয়ে বললাম,”দাদু যে কি বলেন।এই বিংশ শতাব্দিতে এসে এসব কি বলছেন?

-বলেছিলাম,তোমরা বিশ্বাসের পাত্র নই।তবুও ওদিকটাতে সাবধানে যেও,তুমি গ্রামের মেহমান,রক্তের তাড়নাতে আবার ভুলভাল কিছু করে বসো না যেন।

-তা দাদু আপনার সেই ভৌতিক মহলটা কোন দিকে?

পাশের জন্য হাত উচিয়ে ফ্যাসফ্যাসে গলাতে বললো,”ঐ যে ঐদিকটাতে।

আমি সামান্য ঘাড় বাকিয়ে বললাম”

-ওহ্ আচ্ছা।

দাদুদের সাথে কথা বলে বসার টুল ছেড়ে উঠতে যাবো,দেখি হাতের ফাঁকে লুকিয়ে রাখা বিড়িখান চোখ বুঁজে চুপটি মেরে বসে আছে।দোকানদার দাদুর সাথে আরো একবার লাইটার টা নিয়ে বিড়িটা ধরিয়ে হাঁটা শুরু করে দিলাম।

অন্ধ্যকার রাতে জলন্ত বিড়ির আগুনে তেমন ভাবে কিছুই দেখা যাচ্ছে না,শুধুমাত্র মুখ দিয়ে বের হওয়া ধোঁয়া ছাড়া।চারপাশটা বেশ নিস্তব্দ,আর শুনশান।রাস্তার পাশের কলাবাগান থেকে ঝিঝি পোকার ডানা ঝাঁপটানোর আওয়াজে চারপাশটাকে মুখরিতে করে তুলতে চায়ছে।

আসবার পথে রাস্তার ধারে কয়েকটা সোডিয়ামের হলুদ বাল্ব গুলো জ্বললেও এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে পুরো গ্রামটাকে অন্ধ্যকারে মোড়ানো এক গোলক ধাঁধার মত লাগছে।

একটু পর পর বিড়িতে টান দিচ্ছি আর হাঁটছি।অন্যকেউ হলে হয়তো নির্ঘাত পথভ্রষ্ট হতো এই জমকালো রাতের আঁধারে।কিন্তু আমার স্মৃতিশক্তি বেশ প্রখর,আর তাই অন্ধ্যকারের ভিতরেও ঠিকি দিক ঠিক রেখে হেটে যাচ্ছি।

রিফাতদের বাসা থেকে দোকানটা খুব একটা দুরে না হলেও আমার একাকিত্বর কারণে এখন বেশটুকু দুরে মনে হচ্ছে।নিজের অজান্তে মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ার সাথে সাথে গুনগুন করে গান গায়ছি আর সরু পথটা ধরে হেটে যাচ্ছি।

বাইপাস মোড়টা ছাড়াতেই থমকে দাঁড়ালাম,হঠাৎ করেই চোখ আটকে গেলো নিজের সামনে একটা মস্ত বড় বাড়ি দেখে।অন্ধ্যকারের মাঝে বাড়িটাকে দেখতে অনেকটা মাথা উচানো দানবের মত দেখাচ্ছে।তাহলে কি এইটায় ঐ বাড়ি,যে বাড়িটার কথা একটু আগে চায়ের দোকানে হচ্ছিলো।

কিছুক্ষণ গভির মনোযোগ দিয়ে বাড়িটাকে দেখলাম।চারপাশটাজুড়ে কেমন যানি গা ছমছম করার মত আর বেশ ভূতুড়ে টাইপের।মাঝেমাঝে জোনাক পোঁকার নিভুনিভু সবুজ আলোতে বাড়িটাকে আরো বেশি ভয়ংকর করে তুলছে।

অন্ধ্যকারের মাঝে নিজের মনের ভিতরে প্রতিচ্ছবি এঁকে নিলাম বাড়িটার।

প্যান্টের ভিতরে থাকা ফোনটা ভ্রাইবেশন কম্পনের কারণে বুকের ভিতরটা ধক্ করে উঠলো।বাড়িটার দিকে তাকিয়ে থেকে ফোনটা বার করে রিসিভ করলাম।

-হ্যালো,কোথায় তুই?

-এইতো সিগারেট খেতে এসেছিলাম।তোর বাসার আশপাশেই আছি।

-তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আয়,এইটা তোর শহর না যে মেলা রাত অবধি রাস্তা-ঘাটে ঘুরাঘুরি করবি।সেই কখন বের হয়ছিস,অচেনা জায়গাতে আমাকে তো সাথে করে নিয়ে যাবি।

-আরে সমস্যা নেই,আমি চলে এসেছি প্রায়।

-আচ্ছা তাড়াতাড়ি চলে আয়,গ্রামে রাতে বেশি ঘুরাঘুরি করলে পরে আবার ঝামেলা হয়ে যেতে পারে।

-আচ্ছা যাচ্ছি।

এই ব্যাটা রিফাতটাও হয়ছে,সবে রাত বারোটা বাজে এতো তাড়াতাড়ি কি ঘুম আসে আমার।এই তিনবছর একসাথে থেকেও ব্যাটাকে কিছু শেখানো গেলো না।

পকেট থেকে অবশিষ্ট থাকা বিড়িটা ধরিয়ে খেতে খেতে রিফাতদের বাসার দিকে হাঁটতে লাগলাম আবারো।

পরদিন সকালে…

“ঘড়িতে ছয় টা বেজে পনেরো মিনিট।নিজে ঘুম থেকে উঠে রিফাতকে ডেকে তুললাম।

লাইফে ৩য় বার এতো সকালে ঘুম থেকে উঠছি।প্রথম বার উঠেছিলাম যেদিন বড় আপুর বিয়ে হয়েছিলো।২য় বার উঠেছিলাম যেদিন আমি রিয়াকে প্রপোজ করার জন্য রিয়ার স্বর্ত অনুযায়ী কাকভেজা শিশির ঘাসের উপর পড়ে থাকা কুয়াসাতে কারো পা পড়ার আগেই তাকে রক্তগোলাপ দিয়ে প্রপোজ করতে হবে”সেদিন।

মেয়েটা আসলেই একটু অন্যরকম,নইতো আমার মত ছেলেকে সে ঠকাতে পারতো না।কি না করেছি তার জন্য,যে কি না নিজের হাতে কোনোদিন এক লাইন কিছু লিখতো না,সেই আমি রোজ রাতে বই থেকে কবিতা বাছায় বাছায় করে করে তার জন্য রাত জেগে জেগে কবিতা লিখেছি।নিজের পড়ালেখা গোল্লাতে দিয়ে তার জন্য দিনের পর দিন নোটস রেডি করে দিতামম।

আর সেই কি না আমাকে ঠকালো।

আসলেই মেয়েদেরকে বিশ্বাস করাটায় দুষ্কর।

মেয়েদের মন অনেকটায় আষাড় মাসের আকাশের মত,এই নীলে ভরা স্বচ্ছ আকাশ,আবার ক্ষনিকের ভিতর মেঘ জমে এক পশলা বৃষ্টি।

সে যাই হোক,আজকে রিফাত আমাকে তার গ্রামটাকে ঘুরেঘুরে দেখাবে।আর সেইজন্য খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে রিফাতকে ডেকে তুলেছি।

আমার উদ্দ্যেশ্য গতকাল রাতে মুরুব্বিদের মুখে শোনা ঐ পৌর বাড়িটাকে খুব কাছ থেকে দেখবার।

সারারাত অপেক্ষা করেছি কখন ভোর হবে,আর কখন ঐ বাড়িটার ভিতরে গিয়ে ঢুকবো।

সকাল পনে আট টার দিকে আমি আর রিফাত বার হলাম গ্রাম ঘুরার জন্য।রিফাতদের এই গ্রামে বেশ ক্ষ্যাতি আছে বলতে হয়।

কারণ যেই রিফাতকে দেখছে সেই নিজ থেকে কথা বলছে,ছোটরা সালাম দিচ্ছে,আর মুরুব্বিরা বাবাজি বাবাজি করছে। আসলে ওর বাবা এই গ্রামের চেয়ারম্যান, হয়তো সেই জন্য এত নাম যশ।

খানিকটা পথ হাঁটার পর,গতকাল রাতের আঁধারে দেখা মস্ত বড় বাড়িটার সামনে আসতেই রিফাতকে থামিয়ে বললাম,”দোস্ত বাড়িটা তো অনেক সুন্দর।

কাদের রে এই বাড়িটা।

রিফাত আমার কথা শুনে তার চোখ দুটি মোটামোটা করে বললো,”এই বাড়িটাকে তোর সুন্দর মনে হচ্ছে।আরে এইটা একটা অভিশ্প্ত পৌর বাড়ি।প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শেষের দিকে এই বাড়ির আশপাশে কারো না কারো মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যাই।এই বাড়িতে ভূত আছে।

রিফাতের কথা শুনে আমি কিছু না জানার ভান করে বললাম,”তাই নাকি,তাহলে তো বাড়িটার ভিতরটা একটু দেখার দরকার।

রিফাত তৎক্ষণাৎ হাত বাড়িয়ে বাধা দিয়ে বললো,”নাহ্ ঐ বাড়িতে যাবো না।পাগল হয়েছিস তুই?

-কেন?

-বললাম না ঐ বাড়িটা অভিশপ্ত বাড়ি,ঐখানে সব প্রেতাত্মার বসবাস।এ বাড়ির আশপাশে কেউ ঘেষতে চায় না,আর তুই ভিতরে ঢুকতে চায়ছিস।

-আরে তুই ও না,এতোদিন শহরে থেকেও এসবে বিশ্বাস করিস তুই?

-হ্যা করি,কারণ ও বাড়িতে সত্যি সত্যি ভূত আছে।

অনেকে দিনের বেলাতেও বাড়ির বাহিরে ভূত দেখেছে।

-তুই দেখেছিস?

-নাহ্,আমি তো কখনো ঐ বাড়ির দিকে ঘুরেও তাকায় নি।

রিফাতের কথা শুনে রাস্তা হতে বাড়িটাকে ভালোভাবে দেখতে লাগলাম।বাড়িটা আসলেই অনেক বছরের পুরানো।আর তা ইটের গায়ে লেগে থাকা শ্যাওলা গাছ আর নানান ধরনের সব ঝোপঝাড়-ই বলে দিচ্ছে।

বাড়ির ভিতরে ভূতের গুষ্ঠি সহ বসবাস করলেও বাড়িটাকে আমার দেখতেই হবে।

কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর মুচকি হেসে দিয়ে বললাম

-তুই না আসলেই একটা গর্দভ,চল তো আমার সাথে তোর আইজকা ভূত দেখাবো।

বলেই রিফাতকে টানতে টানতে পৌর বাড়িটার দিকে হাঁটতে শুরু করে দিলাম।

part – 2

রিফাত অদ্ভুৎভাবে গোঙ্গাচ্ছে আর আমার হাত থেকে ওর হাতটা ছুটিয়ে নিতে চায়ছে।কিন্তু আমিও নাছোড়বান্দা,একবার যখন মুখ থেকে বার করেছি তখন ঐ বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করবোই করবো।

মেইন রোড ছেড়ে দু’জনেই ঝোপঝাঁড় সরিয়ে সরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি,কেমন যানি একটা ভ্যাপসা গরম চারপাশ থেকে জড়িয়ে ধরতে চায়ছে।মিনিট কয়েক হাটার পর দু’জনেই থমকে দাঁড়ালাম।

রিফাত ও হাতটা এক ঝাড়াতে সরিয়ে নিতে নিতে বললো”,সবসময় নিজের ইচ্ছাটাকেই প্রধান্য দিস কেন বলতে পারিস।

বার বার বলার পরও এইখানটাতে আসার কোনো দরকার ছিলো।এখন যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায় তখন।

আমি সামনের দিকে তাকিয়ে থেকে বললাম”,কিচ্ছু হবে না,চল ভিতরে ঢুকবো।

আমার কথা শুনে রিফাত হকচকিয়ে বলে উঠলো”,না না নাহ্,আমি ভিতরে ঢুকবো না।বাবা যদি যানে তাহলে তো আমাকে আস্তো রাখবে না।

এবার কিছুটা রেগেমেগে বললাম”,তোর বাপ কি করে জানবে রে,আর এতোদুর অবধি যখন এসেছি তখন ভিতরে আমি ঢুকবোই।আর সাথে তোকেও ঢুকতে হবে।আর এতো ভয় কিসের,দিনের বেলাতে কি ভূত থাকে নাকি? ভুতেরা তো রাতে বার হয়।আমরা দিনের আলোতে চুপিচুপি সবকিছু দেখে কেটে পড়বো।

রিফাত মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো”,দেখ দোস্ত।

আমি বললাম”,চুপ থাক তুই,চল আমার সাথে।

বলেই হ্যাচকা টানে পৌর বাড়িটার মেইন গেইট দিয়ে ভিতরে ঢুকতে লাগলাম।সূর্যটা ঠিক তখন মাথার উপর ছুঁয় ছুঁয় করছে।

বাড়িটার উপরের অংশ প্রাই ভেঙ্গে পড়ার উপরে।ভেঙ্গে যাওয়া ছাদের ফাঁক দিয়ে সুর্যের আলো এসে পড়াতে ভিতরের সবকিছুই বেশ দৃশ্যমান।সারি সারি ইট গুলো পোকাতে খাওয়া আর নোনা লেগে ক্ষয়ে যাওয়ার মত অবস্থা।

দেওয়াল বেয়ে বিভিন্ন লতা-পাতা আর নানান ঝোপঝাঁড় জন্মে পরিপুর্ণ বাড়িটা।

শক্ত একটা কাঠের লাঠি হাতে করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি,আর আমার পিছনে পিছন আসছে রিফাত।

সদর দরজাটা খুলতেই কতগুলো চামচিকা আর বাদুড় ডানা ঝাপটিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলো।কিছুক্ষণের জন্য ঘাবড়ে গেলেও নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে এগোতে লাগলাম।

পৌর বাড়িটা মোট পাঁচটা রুম বিশিষ্ট,তার ভিতরে সবগুলোরই দরজা ভাঙ্গা।

এক এক করে সব গুলো রুমে প্রবেশ করলাম,কিন্তু সেখানে তেমন কিছুই নেই।তবে প্রতিটা ঘরের দেওয়ালে অদ্ভুৎ কিছু লেখা,আর রোমান সংখ্যা দিয়ে খোদায় করা আছে।

অক্ষর গুলো কোন দেশের তা জানার জন্য ফোনের ক্যামেরা বন্দি করে নিয়ে আরো একবার বাড়িটাতে ঘুরে নিলাম।বাড়িটা শুধু মাত্র পৌরবাড়ি ছাড়া আর কিছুই না।

এলাকার মানুষ অযথা গাঁজাখুরি কথাতে কান দিয়ে মিছামিছি ভয় করে।ভূত কি ভূতের কংকাল টা পর্যন্ত নেই এইখানে।এতক্ষণে রিফাতের ও ভয়টা কমে গিয়েছে অনেকটা।দু’জনে মিলে ঘাড় জড়াজড়ি করে পৌর মহল থেকে বার হলাম।

শরিরটা খুবই ক্লান্ত,ভর দুপুরে অনেকক্ষণ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থেকে দেহখানা এখন দু পায়ে ভর দিয়ে থাকতে একবারে নারাজ।

তাই আর কোথাও না গিয়ে সরাসরি রিফাতদের বাড়ির পথে রওনা দিলাম।

বাসায় ফিরে ক্লান্ত শরিরটা নিয়ে খাটের উপর বসতেই নিজের অজান্তে ঘুম জড়িয়ে আসলো।

সন্ধ্যার সময় ঘুম ভাঙ্গলো রিফাতের মায়ের ডাক শুনে।

“বাবা রাজেশ,এখনো কি ঘুমাচ্ছো?

আন্টির ডাক শুনে তড়িঘড়ি করে উঠে দরজা খুলে বললাম,”হ্যাঁ আন্টি,একটু ঘুম জড়িয়ে এসেছিলো।কিছু বলবেন কি?

-কেউ তো বাড়িতে নেই,আমিও চলে যাবো তাই তোমাকে বলতে এসেছিলাম।

-কোথায় যাবেন আন্টি,আর রিফাত কোথায়?

-কেন তোমাকে কি কিছু বলে নি রিফাত!

-নাহ্, কি বলুন তো আন্টি!

-আসলে আজকে সন্ধ্যার পর কতমতলার মোড়ে গানের আসর বসবে।সেখানেই যাচ্ছি সবাই।

-ওহ্ তাহলে আমিই বা একা ঘরে থাকবো কি জন্য।

চলুন একসাথে যাই।

আন্টিকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে নিয়ে আন্টির সাথে বেরিয়ে পড়লাম গানের আসর দেখার জন্য।

দুর হতে আন্টি হাত উচিয়ে দেখিয়ে বললো,”ঐযে ওখানে গানের আসর বসে।

এতক্ষণে মনে হয় শুরু হয়ে গিছে।

তুমি যাও আমরা মেয়েদের জন্য আলাদা বসার জায়গা আছে।আমি সেখানে যাই।

আন্টির কথা শুনে শত শত জমায়েত হওয়া মানুষের ভিতরে এসে দাঁড়ালাম।

রিফাতের বাবা একহাতে দোতারা বাজাচ্ছে।

আর একজন মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে গান করছে।

ভাঁটিয়ালি গান আর পালাগান।

বুঝলাম না এলাকার চেয়ারম্যান হয়ে রিফাতের আব্বু দোতারা কেন বাজাচ্ছে,আমার হিসেবে তো তার এখানে চিপগেষ্ট হয়ে আসার কথা।

একটু পর দেখলাম রিফাত ঘাড়ে হাত দিয়ে আমাকে ইশারা করে বলছে,তাদের গানের অাসর কেমন লাগছে আমার।

আমি কোনো কথা না বলে শুধু মাথা দুলিয়ে হ্যাঁ সুচক উক্তি করে আবারো সামনে তাকালাম।শত শত মানুষ জমায়েত হয়েছে শুধু মাত্র এই আসর দেখবে বলে।আমিও সবার সাথে তাল মিলিয়ে হাত তালি দিয়ে গান উপভোগ করতে লাগলাম।

রাতে আমি,রিফাত আর রিফাতের বাবা একসাথে খেতে বসেছি।রিফাতের মা আমাদেরকে খাবার বেড়ে দিচ্ছে।গ্রামে নাকি এমনটায় হয়,পরিবারের সবার খাওয়া শেষ করে তারপর কর্তি খেতে বসে।

ইলিশ ভাজার বাটিটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো”,বাবা আরেকটা মাছ দেয়?

আমি অর্ধভাঙ্গা গলাতে বললাম”,না আন্টি আর লাগবে না।তবে আংকেল আপনি কিন্তু দোতারাটা দারুন বাজাতে পারেন।

আপনাকে দেখে বুঝবারই উপায় নেই, যে আপনি দোতারা বাজাতে পারেন।এবার আমাদের ঢাকাতে কোনো গ্রাম্য উৎসবের আয়োজন করলে অবশ্যয় আপনাকে ইনভাইট করবো।

দেখবেন লোকজনের আপনার দোতারার সুর শুনে প্রসংসাতে পঞ্চমুখ করে ফেলবে।

আংকেল ভাত খাওয়া রেখে একগাল হেসে দিয়ে বললো”,গ্রামের মানুষের দোয়াতে আমি আজ মেম্বার থেকে চেয়্যারম্যান,সামনে বছরে ভাবছি এমপির পদে দাঁড়াবো।

-বাহ্ ভালোই তো,তবে আপনাকে দেখে কিন্তু বুৃঝবারই উপায় নেই আপনি দোতরা বাজাতে পারেন!

-এইতো মাঝেমধ্যে টুকিটাকি বাঁজায় আর কি।

কথাটা বলে আন্টিকে আরো এক পিচ মাছ ভাজা তুলে দিতে বললো আংকেল।

আমিও আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলাম না।

বললাম”,আংকেল শুনলাম আপনাদের মহল্লাতে একটা ভূত বাড়ি আছে।লোকমুখে সেদিন শুনলাম আষাঢ় মাসের শেষের দিকে নাকি প্রতিবছরই কারো না কারো লাশ পড়ে থাকতে দেখা যাই বাড়িটার আশপাশে।

আংকেল আমার কথাটা শুনে ভাত খাওয়া বন্ধ করে গম্ভির কণ্ঠে বলল”,হ্যাঁ তুমি ঠিকি শুনেছো।

কোন দুষ্টু আত্মার কবলে যে মহল্লাটা পড়ে আছে কে জানে?

প্রতিবছরই একটা করে নবজাতক শিশু গায়েব হয়ে যাই,আর তারপরের দিন মৃত অবস্থাতে পৌর বাড়িটার বাইরে পড়ে থাকে।

খুবই অদ্ভুৎ ভাবে শিশুগুলোকে মারা হয়।

পুরো শরিরে কিসের যেন হুল ফুটানো থাকে।

আংকেলের কথা শুনে সাথে সাথে শরিরের সব লোম গুলো শিহরিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।চায়ের দোকানে থাকা মানুষ গুলো যা বলেছিলো আংকেল তো দেখি তার থেকে বেশিই বাড়িয়ে বলছে।

কিন্তু আমি তো নিজেই ও বাড়িতে গেছিলাম,কোই তেমন কিছুই তো দেখলাম না।যেভাবেই হোক এবারের খুনের রহস্যটা আমাকে জানতেই হবে।

রাতে খাওয়া শেষ করে মোবাইলে লিখে রাখা রোমান সংখ্যা আর প্রাচিন শব্দগুলো নিয়ে গুগলে সার্চ করতে লাগলাম।

কিন্তু কোনো অর্থ খুঁজে পেলাম না।

মাথারা ভিতরে হাজারটা প্রশ্ন খেলে বেড়াচ্ছে,শব্দগুলো কোন ভাষার হতে পারে,কি এমন অর্থ হতে পারে।

নাকি এটা কারো মনগড়া কারুকার্য হবে?

টেনশন কমাতে ঘর থেকে বাহির হয়ে আবারো হাঁটা শুরু করে দিলাম।উদ্দ্যেশ্য গতকালকের চায়ের দোকানে গিয়ে একটা সিগারেট খেয়ে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজার।

কিছুক্ষণ হাঁটার পর দেখলাম চায়ের দোকানি তার সবকিছু গুছিয়ে দোকানের সাটার বন্ধ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আমি তাড়াতাড়ি করে গিয়ে বললাম,”দাদু আজ এত সক্কাল সক্কাল দোকানে তালা মারছেন যে?

দাদি কি জরুরি তলব করেছে নাকি?

দোকানি তালাটা হাতে নিয়ে ক্ষীণ কণ্ঠে বললো,”তুমি তো দেহি খুব রসের মানুষ।

একদিনের পরিচয়ে গায়ে পড়ে তামাসা করছো।

দোকানি কথাটা রাগ করে বললো কি হেসে বললো বুঝলাম না তবে দোকানির খুব তাড়া সেটা তার ছটফটানি দেখেই বুঝতে পারছি।

-কি হে ছোকরা কিছু কি লাগবো তাড়াতাড়ি কও।

-হ্যাঁ,দাদু আজকে কি সিগারেট হবে।নাকি আজকেও বিড়ি খেতে হবে।

দোকানি কোনো রকম কথা না বলে দোকানের মুখটা দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে বললো”,কোন সিগারেট দিমু কও?

-ব্যানসন আছে কি?

-না,তবে ডার্বি আর স্টার হবে।

-তাহলে স্টার দিন দুটো আর একটা ম্যাচবক্স।

দোকানি দুটো সিগারেট সহ একটা প্যাকেট হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো,”এইখানে বেশিক্ষণ থাইকো না।আগামীকাল তো মাসের শেষ দিন।

না জানি ঐ ভূতবাড়িতে আবার কার লাশ পাওয়া যাই।

আমি সিগারেটের টাকাটা দেওয়া মাত্রই দোকানি পঞ্জের সেন্ডেল পায়ে দিয়ে পচাত পচাত শব্দ করে হাঁটতে লাগলো।

আমি দোকানের পাশে থাকা বাঁশের তৈরি মাচাতে চুপচাপ বসে প্যাকেট থেকে সিগারেটটা বার করে টানতে লাগলাম।

এই এলাকার তো দেখি সবারই মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

সত্যি সত্যি কি ও বাড়িতে ভূত আছে,কিন্তু দিনের বেলাতে তো তেমন কিছুই অনুভব করতে পারলাম না।

সমস্ত ভাবনা সিগারেটের ধোঁয়ার সাথে বার করে দিয়ে আবার হাঁটতে লাগলাম।

গতকালকে থেকে আজকের রাতটা আরো অন্ধ্যকার দেখাচ্ছে।অবশিষ্ট আরো একটা সিগারেট ধরিয়ে নিয়ে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে হাঁটছি আর ভাবছি সত্যি সত্যি কি আগামিকালকে কারো লাশ পড়ে থাকবে ঐ বাড়িটার সামনে।

কিন্তু আংকেল তো বললো নবজাতক শিশুদেরকে পড়ে থাকতে দেখা যাই শুধু।

ভূতের আবার বয়সের কি দরকার,তার কাছে তো সবাই সমান।

তাহলে বেছে বেছে নবজাতক গুলোকেই কেন টার্গেট করে।মাথাতে কিছুই ঢুকছে না।

যতটা দ্রুত সম্ভব পা চালিয়ে হাঁটতে লাগলাম।

পৌর বাড়িটা ঠিক রিফাতদের বাড়ি ফেরার পথের মুখে পড়ে।

তাই ইচ্ছে না করলেও বাড়ি ফেরার পথে নিজের অজান্তে বাড়িটার দিকে নজর পড়লো।

বাড়িটার দিকে তাকাতেই চমকে উঠলাম,কেউ একজন মোমবাতি হাতে করে বাড়িটার ভিতরে হাঁটা চলা করছে।চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে প্রখর দৃষ্টি দিয়ে দেখার চেষ্টা করতে লাগলাম।

কিন্তু অন্ধ্যকারের ভিতরো আবছায়া ছাড়া আর তেমন কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।

সাহস করে যেতে চায়লেও মনটা কোনোমতে সায় দিচ্ছে না।

তাই আঁড়ালে দাঁড়িয়ে চুপচাপ দেখতে লাগলাম কে হতে পারে,কারণ বাড়িটার ভিতরে আর যেই হোক না কেন,কোনো ভূত না এটা সিউর।

কারণ অশরিরি আত্মা তো আগুনকে ভয় পাই।

আর ঐটা তো নিজ হাতে আগুন নিয়ে হাটাহাটি করছে।

অনেক্ষণ যাবৎ দাঁড়িয়ে থাকার পর দেখলাম মোমবাতি হাতে করে কেউ একজন বাইরে বেরিয়ে আসছে।

নিজেকে শক্ত করে দাঁড়িয়ে থেকে তাকিয়ে আছি।

ঝোঁপঝাড় পেরিয়ে যখন ভিতরের ভূতটা বাইরে এসে দাঁড়ালো তখন তো আমি পুরা অবাক।

তাহলে কি এই লোকটায় এতোদিন ধরে ভূত হয়ে সবাইকে ভয় দেখিয়ে এসেছে।

ভয় না হয় দেখালো কিন্তু এর সাথে নবজাতক শিশু হত্যার কারণটা কি?

সত্যিটা আগামীকালকেই জানা যাবে।

মনে মনে হেসে দিয়ে বললাম,”ভূত বাবাজি এবার তোমার খেল খতম,এবারের আষাঢ়ে তোমার আষাঢ়ি গল্পের সমাপ্তি ঘটাবো আমি।

Last part  3

লোকটা মোমবাতিটা নিভিয়ে ফেলে সোজা চম্পট লাগালো।কিন্তু মনের ভিতরে হাজারটা প্রশ্ন ছুড়ে গেলো যেতে যেতে।ঘরের ভিতর তো তেমন কিছুই দেখলাম না,তাহলে এতো রাতে সবার অগোচরে এভাবে পৌর বাড়িতে ঢুকার কারণ কি?

তাহলে কি এই লোকটায় সবকিছুর মূলে আছে।নাকি অন্যকোনো মতলবে ঢুকেছিলো।

সবকিছুর উত্তর আগামীকালকেই পেয়ে যাবো।

এখন শুধু অপেক্ষার পালা,হাতের ফাঁকে লুকিয়ে রাখা সিগারেট টাও আপনা আপনি জ্বলে শেষ হয়ে গেছে।

মনের ভিতরে সব চিন্তা চেতনাকে চেপে রেখে সোজা রিফাতদের বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই কেউ একজন গম্ভির স্বরে বলে উঠলো,”এতো রাতে কোথায় গিয়েছিলে?

অন্ধ্যকারে হুট করে কারো কথা শুনে বুকের ভিতরটা ধক্ করে উঠলো।

তাকিয়ে দেখলাম ঘুটঘটে অন্ধ্যকারের মাঝে সিগারেটের নিভুনিভু আলোটা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

তাড়াতাড়ি করে ঘাড় ঘুরিয়ে বললাম,”একটু হাটাহাটি করতে গেছিলাম।

বলেই মোবাইলের টর্চটা ফেলতেই দেখলাম।

রিফাতের আব্বু গায়ে কালো চাদর মুড়িয়ে চেয়ারের উপর হেলান দিয়ে বসে আছে।এই গরমের দিনে চাদর মুড়িয়ে থাকাটা বেশ অদ্ভুৎ লাগলো আমার কাছে।

আমাকে টর্চ মারতে দেখে সিগারেটটা নিচে ফেলে পা দিয়ে মাড়িয়ে দিতে দিতে বললো,”রাতের বেলাতে এভাবে হুটহাট বাইরে যাওয়া মোটেও ভালো না।আগামীকাল তো আষাঢ় মাসের শেষ দিন,তাই এখন তো একবারেই নই।

আর তা ছাড়া তুমি আমাদের বাড়ির অতিথি,তোমার কিছু হয়ে গেলে তখন আমার সম্মানে দাগ কাটবে,যা আমি মোটেও চায় না।

যাও রিফাতকে ডেকে তাড়াতাড়ি সুয়ে পড়ো রাত অনেক হয়ছে।

আংকেলকে আমার এই মূহুর্তে সম্পূর্ণ আলাদা লাগছে।তার কথার ভিতরে কেমন যানি ক্ষিপ্ততা লুকিয়ে আছে মনে হচ্ছে।একটু আগেও তো বেশ হাসতে হাসতে কথা বলছিলো।সে যাই হোক মেহমান হিসেবে তো এতটুকু খবরদারি দেখাতেই পারে।

আংকেলের সাথে বিদায় নিয়ে সোজা রিফাতের ঘরে ঢুকে

চুপচাপ সুয়ে পড়লাম,রিফাত ব্যাটা মরার মত পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু কথাগুলো কাউকে না বলা অবধি কেন জানি মনের ভিতরটা ছটফট করছে,মনে হচ্ছে পেট ফেটে যাবে এক্ষণি।কিন্তু রিফাতকে বললে কি আর ও বিশ্বাস করবে।তার থেকে কালকে হাতে নাতে ধরার পর তখন সবাইকে বিষয়টা খুলে বললেই হবে।রিফাতের মাথার নিচ থেকে একটা বালিশ টেনে নিয়ে চুপচাপ ওর পাশে সুয়ে পড়লাম।

সকালে রিফাতের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো।

,”কিরে কালকে রাতে আবার কোথায় গেছিলি?

-আমার যা কাজ,রাতে খাবার পর আমি কোথায় যাই ভালোই তো জানিস?

-ওসব ছায়পাস না খেলে কি হয় না।

-বাঘকে ধানের ক্ষেত আর তোকে এসব বলা একই কথা।

-বাদ দে,নে তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেস হয়ে নে।

একটু বাহিরে যাবো।

-কোথায় যাবি?

-একটু গঞ্জে যাবো,বাবা আজকে যেতে পারবে না।তাই আমাকে যেতে বলছে।

-ওহ্ আচ্ছা।

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে হাল্কা কিছু মুখে দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম রিফাতের সাথে।

রিফাতদের গোলিটা ছাড়াতেই পৌর বাড়িটার সামনে এসে থমকে দাড়িয়ে বললাম,”তোদের হিসাব মত তো তাহলে আজকে রাতে ভূত বাবাজি আরো একটা নবজাতকের প্রাণনাশ করবে তাই না?

রিফাত কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললো,”তোর মাথাতে কি এসব ছাড়া আর কিছুই ঘুরে না।

চল তো তাড়াতাড়ি।

-আজকে রাতে খেলা হবে।

তোরে নিয়ে আইজকা রাতে ভূত বাবাজিকে দমন করবো।

-দেখা যাবে এখন তো চল।

-আচ্ছা ঠিক আছে চল।

গঞ্জে গিয়ে রিফাতের সাথে তাদের আড়ত আর দোকান গুলো ঘুরে ঘুরে দেখলাম।

রিফাতকে দেখে তো মনেই হয় না ওদের এতো টাকা পয়সা আর সম্পদ আছে।

এতো টাকা পয়সা থাকার পরও দিব্যি ফকিন্নির মত চলা ফেরা করে ব্যাটা।

গঞ্জ থেকে ফিরতে গিয়ে তখন প্রাই দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়ার উপরে।

এদিকে আমার মনের ভিতরে সবসময় একটা উৎসুক কাজ করছে।

বাড়ি ফেরার পথে দেখলাম রাস্তার মাঝখানে কিছু মানুৃষ ভিড় জমিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

আর ভিতর থেকে একজন মহিলা চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বলছে,”আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে এনে দাও।একটু আগেও তো আমার সামনে হাসছিলো খেলছিলো।

না জানি আমার বুকের মানিকটাকে এবারের আষাঢ় মাসের বলির স্বীকার হতে হয়।

ভিড় ঠেলে ভিতরে গিয়ে দেখলাম একজন মহিলা তার স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কথাগুলো বলছে আর কাঁদছে।উৎসুক জনতার মাঝে শুধু ভয় আর অসহায়ত্ব ছাড়া তেমন কিছুই লক্ষ্য করলাম না।

তারমানে এবারের আষাঢ়ের বলির পাঠা হিসেবে এই মহিলার বাচ্চাকে হরণ করেছে।

বাড়ি ফিরে এদিক ওদিক রিফাতের আব্বুকে খোঁজার চেষ্টা করলাম কিন্তু কোথাও নেই।

আন্টিকে জিজ্ঞাসা করাতে বললো,”রিফাতের বাবার অনেক মানুষের সাথে উঠাবসা।

তার কাজের জন্য একটু শহরে গিছে।

আমতা আমতা করে বললাম

-ফিরবে কবে আন্টি?

-বললো তো আগামীকালকেই চলে আসবে।কেন, কোনো দরকার ছিলো বাবা?

-না আন্টি এমনি।

এবার পুরোপুরি সিউর হয়ে গেলাম এই নবজাতক হত্যার পিছনে সম্পূর্ণ রিফাতের বাবার হাত রয়েছে।

লোকটাকে দেখে তো বুঝবারই উপায় নেই,ভিতরে ভিতরে এসব কুকর্ম করে বেড়ায়।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই দেখলাম মহল্লার সবাই এক এক করে ঘরের দরজা আটকানো শুরু করে দিছে।

এমনকি আমি আর রিফাত যেই ঘরে থাকি সেই ঘরের দরজাটাও বন্ধ করে রাখতে বলেছে রিফাতের মা।

আজকের রাতে নাকি বাড়ি থেকে বার হওয়া নিষেধ।

আর পৌর বাড়িটার দিকে যাওয়া তো একবারেই মানা।সন্ধ্যার পর পরই নাকি পৌর বাড়িটা প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।আর তখন ঐ বাড়ির ভিতর থেকে নানান রকমের অদ্ভুৎ সব আওয়াজ বের হয়ে আসে।

তাই সবাই নিজের প্রাণের মায়াতে সন্ধ্যার আগে সব কাজ কর্ম সেরে ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে থাকে।কিন্তু আমাকে তো যেভাবেই হোক ঐ বাড়িতে একটাবার যেতেই হবে।

নিজের চোখে ভূত বাবাজির কর্মকান্ড না দেখা অবধি কোনমতেই শান্তি পাচ্ছি না।

ধিরে ধিরে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে আসলো।

বেশ কয়েকবার জানালা খুলে দেখলাম বাইরের পরিবেশটা একদম শান্ত।কোনোরকম হৈ হুট্টুগল নেই।

আমি আর রিফাত শুধু বসে বসে অপেক্ষা করছি।

রিফাতটাকে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করতে হয়ছে।

প্রথমে যাবো শুনে তো হাটু কাপা শুরু করে দিছিলো।

পরো সবকিছু বুঝিয়ে বলার পর কোনমতে রাজি করিয়েছি।

বলেছি পৌর বাড়িতে এমন একটা ভূত দেখবি যেটা দেখে তোর নিজের চোখ খসে পড়বে।

তবে সেই ভূত তোর বা আমার কোনো ক্ষতি করবে না।

নিতান্তই ভদ্র আর সুশিল সমাজের ভূত সে।

রাত তখন এগারোটা বাজে,নিঃশব্দে ঘরের দরজা খুলে আমি আর রিফাত বেরিয়ে গেলাম।

চারপাশটাতে কেমন যানি নিরবতা আর নিস্তব্দতা ছড়িয়ে আছে।

মনে হচ্ছে অভিশাপের অনলে নিঃশ্বেস হয়ে যাওয়া জনমানবহীন কোনো এক নগরির মাঝ দিয়ে হেটে যাচ্ছি আমরা দুজনে।

রিফাতদের বাড়ির গোলিটা পেরিয়ে পৌর বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়ালাম।

পুরো বাড়িটা ঘুটঘুটে অন্ধ্যকার।জোৎস্নার লেশমাত্র নেই আজকে।

ঠিক যেন আমাবশ্যার মত হয়ে আছে।

রিফাতের হাতটা ধরে দু’জনে এগিয়ে যেতে লাগলাম বাড়িটার দিকে।

দিনের বেলাতে একবার যাওয়াতে খুব একটা কষ্ট হলো না সদর দরজাটা খুঁজে পেতে।কিন্তু ভিতরে কোথাও কোনো জনমানব নেই।

তাহলে দুপুরে যে বাচ্চা শিশুটা গায়েব হয়েছিলো সে কোথায়?

এক এক করে সবজায়গা খুঁজতে লাগলাম।

কিন্তু কোথাও কিছু দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম একটা রুমে।

রিফাত দেওয়ালের গায়ে লেখা গুলো দেখে বিড়বিড় করে কিছু একটা বলতেই 

অবশেষে দু’জনকে অবাক করে দিলো ছোট্ট একটা সুড়ঙ্গ পথ বের হয়ে এসে।

দিনের বেলাতে তো এই পথের কোনো চিহ্ন ছিলো না।ইঠের মেঝে ফেঁড়ে ছোট্ট একটা সরু পথের দরজা উম্মচন হয়ে গেলো কোনোরকম করাসাজি ছাড়া।ঠিক যেন আলি বাবার চল্লিশ চোরের গুহার মত ,কিভাবে সম্ভব!

হ্যাঁ,তাহলে দেওয়ালের বুকে লিখে রাখা এইসব শব্দগুলো আর রোমান সংখ্যাগুলো দিয়েই মনে হয় সুড়ঙ্গের মুখ খুলে।।

সুড়ঙ্গের মুৃৃখে দাঁড়িয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছি হতবাক হয়ে।

সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে আগুনের ভাপসা গরম আর রশ্নি বেরিয়ে আসছে।

সরু একটা সিড়ি নিচের দিকে নেমে গিছে।

রিফাত নামতে নারাজ হলেও আমার জোরাজোরিতে নামতে রাজি হলো।

দু’জনে মিলে সুড়ঙ্গের সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগলাম।

উপরের মহলটা ঠিক যতটা ভাঙ্গাচোরা নিচেরটা ঠিক ততোটায় জাকজমক আর অবিশ্মরনীয়।

দু’জনেই অবাক হয়ে যাচ্ছি মাটির নিচে এত সুন্দর একটা মহল দেখে।

সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে,কোনো এক দক্ষ কারিগর তার নিপুন হাতের দক্ষতা দিয়ে কারুকার্যগুলো করেছে।

পা টিপে টিপে এগিয়ে যেতে লাগলাম সামনের দিকে।

এমন সময় মনে হলো অদূরে কেউ একজন বিড়বিড় করে হেড়ে গলাতে কিছু একটা পাঠ করছে।

ভেসে আসা শব্দের দিকে এগোতে লাগলাম,দুজনে।

আমার সকল সন্দেহ ঠিক,তারমানে রিফাতের বাবা এতোদিন ধরে এসব কাজ করে এসেছে।

অর্ধনগ্ন অবস্থাতে কপালে লাল সিঁদুর লাগিয়ে বসে বসে জপ করছে।আর তার সামনে সুয়ে আছে অজ্ঞানরত অবস্থাতে বাচ্চা শিশুটা।

মাঝে মাঝে হুশ হাশ করে হাত দিয়ে সাদা লাল রং এর গুড়োর মত কিছু একটা ছুড়ে মারছে বিশালাকৃতির একটা মূর্তির দিকে।কিছু বুঝে উঠার আগেই রিফাত চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো,”বাবা তুমি এখানে!

রিফাতের চিৎকারের শব্দ শুনে মন্ত্র জপা বন্ধ করে দিয়ে ঘুরে তাকালো তার বাবা।

তার চোখ দুটি আগ্নেয়গিরির মত জলজল করছে।

কোনোরকম কথা না বলে চুপচাপ বসে রইলো তার সাধনাতে।

রিফাত যেন এইমুহূর্তে তার জন্মদাতা বাবাকেই চিনতে ভুল করছে।ঘৃণাভরে ছুটে গিয়ে সামনে দাঁড়াতেই আংকেল কিছু একটা ছুঁড়ে মারতেই রিফাত জ্ঞানশুন্য হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।আর সেই সাথে আমিও।

যখন চোখ মেলে তাকালাম তখন দেখলাম আমার পুরো শরিরটা রশি দিয়ে বেঁধে রেখে দিছে।

আর রিফাত জ্ঞানশুন্য অবস্থাতে মাটিতে পড়ে আছে।সমস্ত শক্তি দিয়েও নড়তে না পেরে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলাম,”আংকেল যেই মানুষগুলো আপনাকে অন্ধ্যের মত বিশ্বাস করে আপনি তাদেরই বুকে ছুরি চালাচ্ছেন।

কেন করছেন এসব,একটা একটা করে বাচ্চা শিশুকে হত্যা করে ভূতের কান্ড বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।

আংকেল হুংকার দিয়ে বললো,”চুপ,একদম চুপ।শয়তানের মা এখনি জাগ্রত হবে।আমার মনের ইচ্ছে পূরণ করতে গেলে এতটুকু করতেই হবে আমাকে।

আর কইদিন পর এমপির ইলেকশন,আমাকে জিততেই হবে।আমি যতবার আমার ইচ্ছে পূরণ করেছি ততোবারই একটা করে নবজাতক শিশুকে বলি দিতে হয়ছে।

আর আমি জানি শয়তানের মা আমাকে কখনো নিরাশ করে নি এবারো করবে না।

-আংকেল আপনি একজন মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে এসব কি বলছেন?

আর আপনার ইচ্ছে পূরণের জন্য আপনি এভাবে একটা নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করতে পারেন না।

রিফাতের বাবা আমার কথার অগ্রাহ্য করে তার মন্ত্র পাঠে মনোযোগ দিলেন আবার।

ফুল দিয়ে সাজানো একটা থালার ভিতর থেকে বড় সাইজের একটা পিন বার করে চোখের সামনে নিয়ে বিড়বিড়িয়ে কিছু বলে যাচ্ছেন।

এমন সময় রিফাতের জ্ঞান ফিরলে তাকে ইশারা করে বললাম যেভাবেই হোক তাকে আটকাতে।

রিফাত সাত পাঁচ না ভেবে পাশের দেওয়ালে জ্বলতে থাকা একটা জলন্ত মশালের লাঠি দিয়ে স্বজোরে মাথা বরাবর বসিয়ে দিতেই তার বাবা মাথা চেপে ধরে সুয়ে পড়লো।

রিফাত এখনো তার নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না।এইটা কি সত্যি সত্যি তার বাবা।নাকি বাবারূপি অন্যকেউ ছিলো।

রিফাত তাড়াতাড়ি আমার হাতের বাধন খুলে দিলে আমি আর রিফাত দুজনে আংকেলকে ঐ রশি দিয়েই বেধে ফেললাম।তারপর বাচ্চা ছেলেটার বুকে কান পেতে তার হৃদস্পন্দন চলছে কি না পরিক্ষা করে নিলাম।

হ্যাঁ,ছেলেটা এখনো বেঁচে আছে,শুধুমাত্র অজ্ঞান হয়ে গেছে সে।

-এই লোকটা আমার বাবা ছিঃ।

কথাটা বলে ঘৃণাভরে তাকিয়ে রইলো রিফাত তার বাবার দিকে।রিফাতের চোখ দুটো জলে ছলছল করছে তার বাবার কুকর্ম নিজের চোখে দেখে।

ভোরের দিকে থানাতে কল দিলে পার্শবর্তি থানার পুলিশ এসে পৌর বাড়িটা থেকে আমাদের সহ রিফাতের বাবাকে তাদের সাথে নিয়ে বের হলো।

পৌর বাড়ির চারপাশে গ্রামের সকল মানুষ এসে ভিড় জমিয়েছে।

সবাই বিস্মিত নয়নে তাকিয়ে আছে,যে মানুষটাকে তারা অন্ধবিশ্বাস করে এসেছে সেই মানুষটা এতোদিন ভূতের নামে এইসব কর্মকান্ড চালিয়ে এসেছে।

রিফাতের বাবাকে গাড়িতে তোলার সময় রিফাতের মা শুধু এক পলক তাকানো ছাড়া আর কিছুই বললো না।

বাচ্চা শিশুটিকে পেয়ে বাচ্চার মা ভিষণ খুশি,সাথে প্রচন্ডভাবে শকট্ ও হয়ে আছে।

রিফাতের ডান হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বললাম,”দোস্ত আমাকে ক্ষমা করে দিস।আমার জন্য তোদের সাজানো সংসারটা নষ্ট হয়ে গেলো।

রিফাত কান্নাজড়িতে চোখে মুচকি হেসে বললো,”এইসব পাপের কামায় খেয়ে আর কতদিন,সময় এসেছে এবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর।

মাকে সাথে করে নিয়ে যাবো,ঢাকাতে গিয়ে একটা চাকুরি খুঁজে দিতে পারবি।

অল্প বেতনের হলেও চলবে।

তবে তুই সত্যিই বলেছিলিস,ভূতটাকে প্রথম দেখাতে আমার চোখ দুটি খসে পড়ার মতই অবস্থা হয়ে গেছিলো।কখনো স্বপ্নেও ভাবি নি,আমার বাবা এমন একটা সাইকো কিলার হবে।

-তোর মা মানে আমারো মা,চল দু”জন মিলে আমাদের মায়ের কষ্টগুলোকে ভাগাভাগি করে নিবো।

সেদিন রাতেই গ্রামের সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে রিফাত আর আন্টিকে নিয়ে ঢাকাতে ফিরে আসি।তবে রিফাতের বাবার বুদ্ধি আছে বলতে হবে,তা না হলে পুরো গ্রামের মানুষকে ভূতবাড়ি বলে পৌর বাড়িটার পরিচিতো করাতে পারতো না কখনো।

সমাপ্ত….

তো আজকে এই পর্যন্তই । মানুষ মাত্রই ভুল হয় । তাই ভুল হলে ক্ষমা করে দিয়েন । আশা করি পোস্টটি সবার ভালো লেগেছে । কোনো কিছু না বুঝতে পারলে কমেন্টে জানান । আপনি চাইলে এই লিংক এ ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে join করতে পারেন । আর যেকোনো প্রয়োজনে ফেসবুকে  আমার সাথে যোগাযোগ করবেন । 

           
           
           
           
           
           



[ad_2]

Source link

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap