বাংলাদেশে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা কতটুকু?

[ad_1]

শিরোনাম পড়ে সম্ভবত আপনি অবাকই হয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশে কোনো আগ্নেয়গিরিই নেই, সেখানে অগ্ন্যুৎপাত-এর ভাবনা আসছে কোত্থেকে? এটা নিয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চলুন আমরা শুরুতে মহাদেশগুলোর ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ইতিহাস সম্পর্কে জেনে আসি।

প্রায় ১৮ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একত্রিতভাবে একটি বৃহৎ ভূখণ্ড ছিল যার নাম প্যানজিয়া। ১৮ কোটি বছর আগে প্যানজিয়া দুভাগে বিভক্ত হয়। দক্ষিণের ভাগটির নাম গন্ডোয়ানাল্যান্ড। এখানেই অ্যান্টার্কটিকার কাছে ভারতীয় ভূত্বকীয় পাত ছিল। সে সময় বঙ্গীয় অঞ্চলের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। বঙ্গীয় অঞ্চল সমুদ্রে নিমজ্জিত ছিল। বাংলাদেশে মূল ভূখণ্ড ছিল না। ১৩ – ১৭ কোটি বছর আগে ভারতীয় পাত ভূত্বকীয় কর্মকাণ্ডের কারণে ধীরগতিতে উত্তরে ধাবিত হয়।

৯ কোটি বছর আগে ভারতীয় পাতের সাথে ইউরেশীয় পাতের ভয়ানক সংঘর্ষ হয়। ধাক্কায় মাটি ভাঁজ হয়ে জন্মায় হিমালয় এবং সিলেট-চট্টগ্রামের পাহাড়। এরপরই হিমালয়ে বরফ জমে এবং বরফ গলে গঙ্গা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র নদীর জন্ম হয়। নদীগুলো পলিমাটি বয়ে এনে সমুদ্রে ফেলতে থাকে। ৫ কোটি বছর আগে পলি জমে জমে গঠিত হয় বাংলার উর্বর ভূখণ্ড এবং সেই কারণে দেশের বেশিরভাগ জায়গা সমতল।

এ থেকে প্রতীয়মান হয় বাংলাদেশের ভূখণ্ড অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্টি হয়নি এবং সেজন্য দেশে কোনো আগ্নেয়গিরি নেই। তবে চট্টগ্রামের বগা হ্রদের (বগালেক) পরীক্ষায় হ্রদের পানি জলজ প্রাণীদের জন্য বড্ড বেশি অম্লীয় পাওয়া যায়। এ থেকে ধারণা করা হয়েছিল বগা হ্রদ একটি আগ্নেয়গিরি জ্বালামুখ এবং এখানে উষ্ণ প্রস্রবণ তৈরি হয়েছে। যদিও এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই কারণ পানিতে অম্লত্ব আসার একমাত্র কারণ আগ্নেয়গিরি নয়।

দক্ষিণ ভারতের ডেকান মালভূমি ম্যান্টল প্লিউম পদ্ধতিতে তৈরি একটি আগ্নেয় হটস্পটের অংশ। এর মাটি আগ্নেয় শিলায় তৈরী। গুগল আর্থে ডেকান হটস্পটের চলন রেখা স্পষ্ট দেখা যায়। সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে ক্রিটেশাস যুগের শেষে বর্তমান মেক্সিকোর ইউক্যাটান উপদ্বীপের কাছে বিশাল গ্রহাণুর সংঘর্ষ হয়। একই সময় দক্ষিণ-ভারতে উল্লিখিত হটস্পট ভয়ানক অগ্ন্যুৎপাত ঘটাচ্ছিল। ভূতত্ত্ববিদদের মতে উক্ত দানবীয় সংঘর্ষের প্রভাবে ডেকানে অগ্ন্যুৎপাত হয় এবং এই অগ্ন্যুৎপাতও ডাইনোসর বিলুপ্তিতে ভূমিকা রাখে।
আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাত

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কতুটুকু?

বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের দুটো সুপারভলকেনো হলো ভারতের মণিপুর রাজ্যের লোকতাক হ্রদ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার দ্বীপের টোবা হ্রদ। যখন বঙ্গীয় এলাকা সমুদ্রের নিচে ছিল তখন এই এলাকা কনভারজেন্ট বাউন্ডারি এলাকায় ছিল অর্থাৎ সামুদ্রিক পাত (ভারতীয় পাতের বঙ্গীয় অংশ); মহাদেশীয় পাতের (ইউরেশীয় পাত) নিচ দিয়ে যাচ্ছিল (আজও যাচ্ছে কিন্তু এখন সমুদ্র নেই)। ফলে লোকতাক সুপারভলক্যানোর জন্ম হয়। ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাতে ম্যাগমা নিচের গহ্বর থেকে বেরিয়ে গেলে উপরের মাটি ধসে বিশাল জ্বালামুখ তৈরি হয়। একে ক্যাল্ডেরা বলে। পরে বৃষ্টির পানি জমে হ্রদ তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়ার টোবা হ্রদও একইভাবে সৃষ্টি হয়।

লোকতাক হ্রদ

এর মাঝে বাংলাদেশে-র সবচেয়ে কাছের লোকতাক হ্রদের সুপার-অগ্ন্যুৎপাত-এর সরাসরি কবলে পড়তে পারে বাংলাদেশ। এর অগ্ন্যুৎপাতের ফলে বাংলাদেশ সরাসরি বিশাল ছাইপ্রবাহ ও ছাইমেঘের সম্মুখীন হবে। ওদিকে টোবা হ্রদের অগ্ন্যুৎপাতে ছাইপ্রবাহ না হলেও ছাইমেঘের কবলে পড়তে পারে বাংলাদেশ। তবে আশার আলো হলো সুপারভলক্যানিক ক্যাল্ডেরা অতি দীর্ঘ সময় সুপ্তাবস্থায় থাকে। লোকতাক হ্রদ সুপ্ত নাকি মৃত তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে টোবা হ্রদ ৬৯ থেকে ৭৭ হাজার বছর ধরে সুপ্তাবস্থায় আছে।



[ad_2]

Source link

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap