ব্রহ্মদৈত্য – ভুতের গল্প – Vuter Golpo

ব্রহ্মদৈত্য             স্নিগ্ধা চক্রবর্তী

শৈলেন মুখার্জি  চাকরী থেকে অবসর নেওয়ার পর চাকদায় চারকাঠা জমির উপর তৈরি একটি পুরোনো বাড়ি কিনেসেই বাড়িটি সংস্কার করে নিয়ে সেখানে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতে শুরু করলেন।বাড়িটির ভুতেরবাড়ি বলেবেশ বদনাম ছিল,মুখার্জিবাবু এইসব একেবারেই বিশ্বাস করতেন না । একতলা বাড়িকিনে উনিসেটা ভালোকরে সারিয়েওপরে দোতলাও করে নিলেন।
বাড়িটির গায়েই ছিল একটি বেলগাছ । সেই গাছের কয়েকটা ডাল বাড়ির ওপরএসে পড়ছিলো তাই বাড়ি করার সময় উনি সেই ডালগুলো কেটে দিয়েছিলেন । বাড়ির কাজ কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার পরমুখার্জিবাবু,ওনার স্ত্রী আর দুই ছেলেকেনিয়ে ওই বাড়িতে থাকতে শুরু করলেন । ওই বাড়িতে গৃহপ্রবেশের দিন রাতে উনিস্বপ্নে একজন ন্যাড়া মাথা মানুষকে দেখ লেন । সেই মানুষটা কিছু বলতে চাইছে কিন্তু উনি কিছুই বুঝতে পারছেন না, ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরার মতো করে গোঙাতে লাগলেন উনি,ওনার মুখথেকে

ঐরকম গোঙানির আওয়াজ শুনে ধাক্কাদিয়ে ওনাকে জাগিয়ে দিলেন ওনার স্ত্রী । ঘুম ভেঙে উনি অবশ হয়ে শুয়ে রইলেন কিছুক্ষন । তারপর নিজের স্ত্রীকে বললেনজানো তো সুরমা,অদ্ভূত একটাস্বপ্ন দেখলাম । একজন ন্যাড়া মাথা লোক কি যেনব লছিলো আমায় । আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না,ঠিক তখনই তুমি আমায় জাগিয়ে দিলে।

ভয়ংকর ভুতের গল্প

ওনার স্বামী আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠতে লাগলেন । সুরমা দেবী ও দুই বেলাই ওই বেলগাছের নিচে পুজো দিতে থাকলেন।সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল । একদিন মুখার্জিবাবু বললেন ওই বেলগাছটা কেটে ঐখানে জমিতে গ্যারেজ বানিয়ে ভাড়া দেবো।স্বামীর কথা শুনে শিউরে উঠলেন সুরমাদেবী।সঙ্গে সঙ্গে তীব্রস্বরে বাধা দিলেন উনি, কিন্তু মুখার্জিবাবু খুবই গোঁয়ার গোবিন্দ লোক কারোর কোনো কথাই উনি শোনেননা । তাই সুরমাদেবী খুব ভয় পেয়ে গেলেন। সেইদিনই দুপুরে স্নান করার সময় হঠাৎ করে বাথরুমে ই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান মুখার্জিবাবু।ধপকরে একটা আওয়াজ শুনে ওনার স্ত্রীজোরে জোরে বাথরুমের দরজায় ধাক্কামেরে তাঁর স্বামীকে ডাকতে থাকেন কিন্তু ভেতর থেকে কোনো আওয়াজ না পেয়ে ছেলেদের ডেকে দরজার লক ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করা হলো।

Bhuter Golpo In Bengali Pdf

সেদিন রাতেও সুরমাদেবী স্বপ্নে সেই পৈতেধারী লোককে দেখতে পেলেন,উনি বললেন,”মা তোমার পূজায় আমি খুবই তুষ্ট কিন্তু তোমার স্বামী কেন এই গাছটা কেটে আমায় উৎখাত করতে চাইছে? ওযতবার এই গাছ কাটতে চাইবে ততবার আমি ওকে কষ্ট দেবো।তুমি ওকে বারণ করো নাহলে আমি ওকে মেরে ফেলতে বাধ্য হবো।”


Also read, অপেক্ষার শেষে – ভালোবাসার গল্প


সেইদিন খুব ভোরবেলাই ঘুম ভেঙে গেল সুরমা দেবীর,ঘুমথেকে উঠে চটপট স্নানসেরে নিয়ে,এক বালতি গঙ্গাজল নিয়ে গিয়ে ওই বেল গাছের তলাটা পরিষ্কারকরে ধুয়ে দিয়ে,ওখানে সুগন্ধী ধূপকাঠি জ্বালিয়ে,প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো দিলেন উনি । তারপর আসন করে বসে দুইহাত জোর করে একমনে সেই দিব্য পুরুষেরধ্যান করতে লাগলেন সুরমাদেবী,হঠাৎশুনতে পেলেন খট খট করে একটা শব্দওনার দিকে এগিয়ে আসছে, চোখ বন্ধ করে বসে থাকলেন উনি,শব্দটা ওনার দিকে এগিয়ে এলো । গুরু গম্ভীর গলায় কে যেন ডাকলো “মা চোখ খোলো মা” উনি চোখ খুলে দেখলেন সামনে সেই দিব্য পুরুষ দাঁড়িয়ে,টকটকে ফর্সা গায়ে শুধু এক গাছা পৈতে,আর খাটো করে পড়া সাদা ধবধবে ধুতি পরনে,হাতে ধরা একটা কমণ্ডল তার মধ্যে গঙ্গাজল,আর পায়ে কাঠের খড়ম।

উনি বললেন শোনোমা আমি এইবাড়ির একজন পূর্ব পুরুষ । আমার পৈতের পর দন্ডী ভাসানোর আগেই ওই ব্রহ্মচর্য্য অবস্থায় আমার মৃত্যু হয় । সেইথেকেই আমি এই বেলগাছে থাকি । সূর্য ওঠার আগেই আমি গঙ্গা স্নানে যাই, তারপর এসে আবার এই গাছেই থাকি।কাউকে কখনো বিরক্ত করিনা কিন্তু এই গাছতলা নোংরা করলে আর এই গাছের ডাল কাটলে আমি খুব রেগেযাই,যে করে তার ক্ষতি করি,তোমার ভক্তি আর পূজায় আমি খুবই সন্তুষ্ট শুধু তোমার স্বামীকে বোঝাও ও যেন এই বেল গাছটা না কাটে,আমার আশীর্বাদে তোমাদের অনেক উন্নতি হবে।এই বলেউনি সোজা বেলগাছে উঠে গেলেন।


সুরমা দেবী ওনাকে প্রণাম করে ঘরে এসে তার স্বামীকে সব খুলে বললো । এইবার অসুস্থ হয়ে উনিও বেশ ভয় পেয়েছিলেন স্ত্রীর কথা মেনে নিয়ে ওই গাছের তলায়একটা ছোট্ট মন্দির বানিয়ে দিলেন উনি এরপর মুখার্জিবাবুর সংসারে কোনদিন টাকা পয়সার অভাব হয়নি । ওনার দুজনছেলেই ভালো চাকরী পেয়েগেল । তাঁদের বিয়েও হলো ভালোভাবে,যতদিন কর্তা-গিন্নি বেঁচে ছিলেন ওনাদের কোনো রকম অসুখ বিসুখ হয়নি । বৌমারাও ওই ছোট্টমন্দিরে নিয়ম করে পুজো দিতো, আর সেই ব্রহ্মদৈত্যের আশীর্বাদে তারা খুবইসুখে সেই বাড়িতে বসবাস করতে থাকল।

ভুতের গল্প

Leave a Comment

Share via
Copy link
Powered by Social Snap